শাহেদ মিজান, সিবিএন:

শতাব্দির বড় মহামারি করোনা ভাইরাস। চীনের উহান থেকে উৎপতি হয়ে পুরো বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত করেছে এই ভাইরাস। এতে মরেছে দেড়লক্ষাধিক মানুষ এবং আক্রান্ত হয়েছে অর্ধকোটিরও বেশি। প্রতিদিন মরছে হাজার হাজার মানুষ। এই মরণঘাতি ভাইরাসের ওষুধ আবিস্কারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশ্বের বহুদেশ রাতদিন গবেষণা চালাচ্ছে। কিন্তু কেউই ওষুধ আবিস্কার করতে পারেনি। এমনকি মানবজাতিকে আগাম কোনো সুসংবাদও দিতে পারছে না বিশ্বের তাবৎ সেরা সেরা চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। তবে

এবার  করোনার মতো রোগে কাজ করতে পারে এমন ওষুধ আবিস্কারের দাবি করেছেন কক্সবাজারের মহেশখালীর এক কবিরাজ। তিনি হলেন কালারমারছড়া ইউনিয়নের মিজ্জিরপাড়ার বাসিন্দা হেকিম হাফেজ আহমদ। তবে তিনি এই ওষুধকে সরাসরি করোনার ওষুধ বলছেন না। বলছেন, উপসর্গের ওষুধ।

হেকিম হাফেজ আহমদ জানিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশ বোর্ড অব ইউনানী এন্ড আয়ুর্বেদিক সিস্টেমস অব মেডিসিন রেজিষ্টার্ড চিকিৎসক। তিনি দীর্ঘদিন কবিরাজি চিকিৎসা পেশার সাথে জড়িত। তিনি বর্তমান সময়ে নানা রোগের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। রোগীরা ফলও পাচ্ছেন।

তিনি দাবি করেছেন, করোনা ভাইরাস ছড়ানোর পরই এটা নিয়ে আমি ব্যাপক ভেবেছি। সেই থেকে আমি এই ভাইরাসের ওষুধ আবিস্কারে গবেষণা করে এসেছি এবং ওষুধ আবিস্কারের চেষ্টা করেছি। দীর্ঘ ২৪ দিনের গবেষণার পর তিনি করোনার মতো উপসর্গ নিরোধ করবে এমন দুটি ঔষুধ আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন! ওষুধগুলোর নাম দিয়েছেন- ‘রঙ্গ পুষ্প সরী নশলোশন’ (Roggo pusposori Nuslation) ও ‘অমৃত অঙ্গে থাইদ্য তৈল’।

এই কবিরাজী চিকিৎস বলেন, করোনা নামটা কোন দেশের ভাষায় নামকরণ করা হয়েছে সেটা আমি জানিনা, এর অর্থ বাংলা কি হবে তাও আমি বুঝতে পারতেছি না। কিন্তু আমার গবেষণা মতে, করোনার লক্ষণ অনুযায়ী রোগের নাম পেয়েছি ‘নাকাসি মিথুন ভাইরাস’। যার লক্ষণ ১. শ্বাস প্রশ্বাসে দুর্গন্ধ, ২. মাথা ব্যথা, ৩. গলা ব্যথা, ৪. জ্বর, ৫. সারা অঙ্গে ব্যথার ভাব হয়।


হেকিম হাফেজ আহমেদ তার আবিস্কৃত ওষুধের ব্যবহার বিধি সম্পর্কে বলেন, আমার আবিস্কৃত ১নং ওষুধ দিয়ে নাকে ও মুখে শ্বাস নিতে হবে এবং ২ নং ওষুধ সারা অঙ্গে মালিশ করতে হবে। এতে দেহের ভেতর ও বাইরের সব ধরনের জীবানু ধ্বংস হয়ে যাবে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।’ এই  ওষুধ দুটি করোনার উপসর্গ  শ্বাস প্রশ্বাসে দুর্গন্ধ, ২. মাথা ব্যাথা, ৩. গলা ব্যাথা, ৪. জ্বর, ৫. সারা অঙ্গে ব্যাথার ভাবের  চিকিৎসায় ৯৫% কার্যকর হবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন এই হেকিম। তাই এটি দিয়ে করোনা রোগের চিকিৎসা হয় কিনা তার পরীক্ষার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

নিজের আবিস্কৃত এই ওষুধ’ সরকারিভাবে পরীক্ষা জন্য আহ্বান জানান তিনি। এই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকের প্রতি আহ্বান জানান। যোগাযোগ অপ্রতুলতার কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রী বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন। তাই ফেসবুকে তার আবিস্কৃত ওষুধ সম্পর্কে বিস্তারিত লিখেছেন।

এদিকে তিনি ফেসবুকে বিষয়টি তুলে ধরলে অধিকাংশই মানুষ তাতে পাত্তা দিচ্ছে না। সবাই এটা সম্ভব নয় বলে মনে করেন এবং এই নিয়ে হাস্যরসও করেন। তবে হেকিম হাফেজ আহমেদের দাবি, তিনি দীর্ঘ সময় ব্যয় করে গবেষণা করে ওষুধটি দুটি আবিষ্কার করেছেন।

‘আামি বলছি না তা শতভাগ কার্যকরী হবে। কিন্তু এই ওষুধগুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ পরীক্ষাতো করে দেখতে পারেন। হয়তো মিলে যেতে বিশ্ব মানবতার বহু আকাঙ্খিত করোনার ওষুধ!’ এমনটি বলেন হেকিম হাফেজ আহমেদ।

ওষুধগুলো কার্যকর হলে তিনি অত্যন্ত খুশি হবেন। তবে এর বিনিময়ে তার কোনো পারিশ্রমিক বা অর্থমূল্য চাওয়ার নেই তাঁর। তাঁর ওষুধ যদি আল্লাহর অসীম রহমতে কার্যকর হয়, যদি পুরো বিশ্বকে করোনা থেকে মুক্ত করে পারে, বেঁচে যেতে পারে লক্ষ লক্ষা মানুষের প্রাণ; তাহলে তিনি ধন্য হবেন এবং তাঁর জীবনকে তিনি সার্থক মনে করবেন- এমনটি বলছেন এই কবিরাজ। তাই তাঁর আবিস্কৃত এই ওষুধের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচরে আহ্বান জানান তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সারা বিশ্বের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা নিরলস গবেষণা করেও যেখানে করোনা ওষুধের ইঙ্গিতও পাচ্ছে না। সেখানে এক কবিরাজ কিভাবে লতাপাতা দিয়ে করোনার ওষুধ বানায়? এটা অসম্ভব এবং পাগলামী ছাড়া কিছু নয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •