বার্তা পরিবেশক :

কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ার পূর্ব মোক্তারকুলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দিনে দুপুরে জাফর আলম নামের এক দিনমজুরকে হত্যার উদ্দেশ্যে দা, কিরিচ, হকিস্টিক দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। গত ১৩ এপ্রিল ঘটে যাওয়া এমন একটি ঘটনার অভিযোগ থানা সূত্রে জানা যায়। অভিযোগদাতা জাফর আলম স্থানীয় আমিন নামের একজন খামারীর প্রতিষ্ঠানের পাহারাদার। তিনি প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এতদসত্বেও উক্ত ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে গড়িমসি করছে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ। উল্টো আক্রান্ত ব্যাক্তিকে ইয়াবা সেবনকারী উল্লেখ করে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করছে অভিযোগটির তদন্তকারী কর্মকর্তা । অথচ অভিযুক্ত হামলাকারী যাদের মধ্যে রয়েছে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মাদক কারবারী ও নাশকতা মামলার আসামী। এ ব্যাপারে এস.আই কাঞ্চন প্রতিবেদককে জানিয়েছেন- জাফর ইয়াবা সেবন করছিলো তাই এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একটু শাসন করেছে। তেমন কোনো গুরুতর আঘাত পাননি জাফর। কিঞ্চিত চোট লেগেছে। ওসি স্যারকে বলেছি আমরা উভয় পক্ষকে মিমাংসা করে দিবো। কিন্তু বাস্তবতা হলো- ঘটনার সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোনো সুরাহা যেমন দেওয়া হয়নি অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে মামলা করতে গেলে মামলাও নেওয়া হয়নি।

অথচ সরেজমিনে হামলায় আহত জাফর আলমকে যেমনটি দেখা গেছে তা বর্ণনাতীত। মুমূর্ষ অবস্থায় জাফর এখন হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। তার মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়েছে। দুই হাত ও ডান পায়ে হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে ভেঙে দিয়েছে। এছাড়াও শরীরে চাবুকের অসংখ্য আঘাতের দগদগে ক্ষত দেখা গেছে।
অন্যদিকে হামলাকারীদের মধ্যে অভিযুক্ত চরপাড়ার শফিআলম, বদি আলম, ছৈয়দ হোসন, মোস্তাক আহমদ, বার্মাইয়্যা হোসন ও দেলোয়ার এরা প্রত্যেকেই যথাক্রমে সরকার বিরোধী নাশকতা মামলা, মাদক পাচার ও জালিয়াতি করে বাংলাদেশি জাতিয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িত।

এবিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শাহজাহান কবিরের সাথে গতকাল ২০ এপ্রিল থেকে দিনভর অসংখ্যবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল গ্রহণ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনার পর থেকে হামলায় আহত দিনমজুরের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হামলাকারীরা নানাভাবে তাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন। সদর মডেল থানায় অসহযোগীতার কথা উল্লেখ করে তারা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •