মো.আবুল বাশার নয়ন:

রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ শ্রমজীবি ও দৈনিক মজুরীতে কাজ করেন। রয়েছে চাকরীজীবি, ব্যবসায়ী, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পেশার মানুষ। করোনা পরিস্থিতির লকডাউনের কারনে বর্তমানে তাদের অনেকের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

কর্মহীন এসব মানুষের অনেকে সামাজিক আত্মসম্মানের ভয়ে কারো কাছে সাহায্যের জন্য যাচ্ছেন না। এই অবস্থায় নিজ এলাকার প্রায় তিন শতাধিক পরিবারকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় যুবক হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী। ঘরবন্দি মানুষের দ্বারে দ্বারে চাল, ডাল, আলুসহ নিত্যপন্য সামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন তিনি।

শুধু তাইনয়, ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যে বাড়িতেই যাচ্ছেন সে পরিবারে ঘরবন্দি স্কুলপড়ুয়া শিশুদের খোঁজ নিয়ে তাদের নানা পরামর্শ ও সহায়তা করছেন। জনপ্রতিনিধি না হয়েও তার এই মানবিক উদ্যোগ ও ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে এলাকার লোকজন জানান, করোনা ভাইরাসের কারনে সর্বত্র এখন লকডাউন চলছে। বন্ধ হয়ে গেছে গর্জনিয়া ইউনিয়নের খেটে খাওয়া পরিবারে আয় রোজগার। এঅবস্থায় ব্যাক্তিগত প্রচেষ্ঠায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসায় সর্বত্র প্রশংসিত হচ্ছেন সমাজকর্মী হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী।

ত্রাণ নিয়ে তিনি যেখানে যাচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষগুলো নিজ সন্তানের ন্যায় আপন করে নিচ্ছেন তাকে। মানুষের এই ভালোবাসা আর মুখের হাসি ফোটাতে পেরে নিজের সার্থকতা খুঁজে পেয়েছেন এই যুবক।

এই বিষয়ে গর্জনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি ইউছুপ মেম্বার ও যুবলীগ সভাপতি হাফেজ আহমদ বলেন- দুর্যোগে কর্মহীন মানুষের পাশে দাড়িয়ে নিসন্দেহে হাফিজ দৃষ্টান্তস্থাপন করেছে। ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি এলাকার মানুষের মাঝে করোনা প্রতিরোধে করণীয়, সবান দিয়ে নিয়মিত হাত পরিষ্কার, জনসমাগম এড়িয়ে চলাসহ সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছে সে।

জানতে চাইলে এই প্রসঙ্গে হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে গর্জনিয়া ইউনিয়নের খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকা সংকীর্ণ হয়ে এসেছে। অনেক পরিবার লোকলজ্জায় কারো কাছে হাত পাতছেন না। ‘সমাজের এসব মানুষসহ অসহায় দরিদ্রদের ত্রাণ নয়, উপহার দেওয়ার চেষ্টা করছি মাত্র’। তার মতে, সরকারের একার পক্ষে এই দুর্যোগ মোকাবেলা করার সম্ভব নয়। তাই বিত্তবানদের উচিত যার যার মতো করে মানুষের পাশে দাড়ানো।

হাফিজ আরো জানান- লকডাউনের কারনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এই অবস্থায় স্কুল জীবনের হঠাত ছন্দপতনের কারনে ঘরবন্দি ছাত্রছাত্রীদের মাঝে যাতে প্রভাব না পড়ে এই বিষয়ে খবরাখবর ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার চেষ্টা করছে সে।

প্রসঙ্গত, হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী পেশায় এখনো একজন ছাত্র। লেখাপড়ার পাশাপাশি
তিনি সাংবাদিকতা, রাজনীতি, সামাজকর্মী হিসেবে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে গর্জনিয়া ইউনিয়নে ব্যাক্তিগত উদ্যোগ ও প্রশাসনকে সহায়তা, মাদক বিরোধী অভিযান, স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক নির্মাণ, সামাজিক দাবী আদায়ে ভূমিকা রয়েছে তার।

এরআগে বৃহত্তর গর্জনিয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী পোয়াঙ্গেরখিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ পরিচালিত স্কুলসহ ইউনিয়নের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন উদীয়মান এই যুবক।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •