মুহাম্মাদ শাকের উল্লাহ

মহামারী করোনা ভাইরাস এক নিশ্চিত মারণঅস্ত্রের নাম।পৃথিবীর প্রায় সকল উন্নত রাষ্ট্র ব্যর্থপ্রায় এই রোগ কাটিয়ে উঠতে। সময় আর পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণ ও সক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রকৃতির দরুন দাপটে অসহায়ত্ব বরণ করে নিচ্ছে বিশ্বসভ্যতা। প্রতিজ্ঞা এখন ঘরে থাকার! যুদ্ধ এখন স্থির থাকার! স্মরণাতীতকালের জয় জয়কার উন্নয়নের এক বিংশ শতাব্দীতে মানুষ এখন বিপর্যস্ত মহামারী করোনা ভাইরাসের ভয়াল গ্রাসে। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহান শহর থেকে এর প্রাদুর্ভাব লাভ করে প্রায় ২০০ টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্বব্যাপি সংক্রমণের জোয়ার বাংলাদেশের উপর দিয়ে সয়লাভ করায় এক ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করে। গত মার্চ মাসের ৮ তারিখে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম কেইস ধরা পড়ে। ৮ মার্চ থেকে এই পর্যন্ত সারা দেশে করোনা পজিটিভ সংখ্যা প্রায় দু হাজারের অধিক ছাড়িয়েছে। প্রথম ৩৬ দিনে সংক্রমণের সংখ্যা নিশ্চিত হয় এক হাজার।পরবর্তী এক হাজার হতে সময় লাগে মাত্র ৪ দিন। অর্থাৎ চল্লিশ (৪০) তম দিনে দুই হাজারে উন্নতি হয় সংক্রমণের সংখ্যা। কক্সবাজার প্রথম করোনা পজিটিভ রোগী চিহ্নিত হন ২৪ মার্চ এবং তিনি মারা যান। বাংলাদেশে সংক্রমণের সূচনা থেকে কক্সবাজার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিল এক জন তা বেড়ে এখন ৫ জনে। তার মধ্যে ১৯ তারিখে নতুন ভাবে সংক্রমিত হল চার জন।তাদের তিন জনই মহেশখালীর বাকী কেইসটি টেকনাফের অনুকূলে গেল। মহেশখালীতে যে তিন জন করোনা ভাইরাসে নিশ্চিত হয়েছেন তারা নারায়নগঞ্জ ফেরত বলে জানা গেছে। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে ধারণা করা যায় কক্সবাজার জেলার জন্য এক মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক চিত্র অপেক্ষা করছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলায় এগিয়ে রাখতে সুস্থ ও টেকসই পরিকল্পনা। যা এক নিদারুণ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ দিবে কক্সবাজার বাসীকে। জন্ম স্থান ও প্রিয় জন্মভূমি হওয়ায় নাড়িরটানে আমি আপনি সবাই কে এগিয়ে আসতে হবে এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবং প্রিয় ভূমিকে লাশের আর্তনাদ থেকে বাঁচাতে। এই ক্ষেত্রে আমি সবার আগে সহযোগিতা ও সদয় প্রত্যাশা করছি কক্সবাজার -১ (চকরিয়া-পেকুয়া) , কক্সবাজার -২ ( মহেশখালী-কুতুবদিয়া) , কক্সবাজার-৩ (কক্সবাজার সদর- রামু) এবং কক্সবাজার -৪ ( টেকনাফ-উকিয়া) সংসদীয় আসনের মাননীয় সাংসদদের শুভ ও বিচক্ষণ দৃষ্টি। আপনারা হলেন অত্র এলাকার স্থানীয় অভিভাবক ও ভবিষ্যৎ কাণ্ডারী এবং মানবতার অগ্রদূত। মাননীয় সাংসদগণ মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয় কে সাথে একটা কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করে কক্সবাজার বাসীর পাশে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। ইতিমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে নানা উদ্যোগে জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় প্রতিনিধিরা বেশ প্রশংসা কুড়িঁয়েছেন স্থানীয় মহলে। কক্সবাজার জেলার প্রবেশপথ চিহ্নিত করা যেতে পারে তিনটি – এক) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান সড়ক,২) বাঁশখালী-পেকুয়া সড়ক, ৩) টেকনাফ৷ এই তিনটি পয়েন্টে জরুরী ভিত্তিতে কঠোর নজরদারিতে রাখতে হবে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে না দেওয়ার বিধান করতে হবে।এছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার প্রবেশপথেও যেমন কক্সবাজার লিংক রোড এবং কলাতলী ডলফিন চত্ত্বর দিয়ে মানুষ প্রবেশের বা প্রস্থানে পথ রুদ্ধ করতে হবে। কক্সবাজার ৬ নং ঘাট দিয়ে স্পিডবোট যোগে, বদরখালী এবং উজানটিয়া দিয়ে মহেশাখাকীতে মানুষের প্রবেশ ও প্রস্থান ঠেকাতে হবে।এছাড়া বাঁশখালী,আজিজি নগর এবং লামা হয়ে মানুষের প্রবেশের ও প্রস্থানের পথ মোটাদাগে কঠোর নজরদারিতে রাখতে হবে। এতে মোটামুটি ভাবে সংক্রমণের হার আনুপাতিক হারে বৃদ্ধির আশংকা থাকবে না। এতে কক্সবাজার অঞ্চল অপেক্ষাকৃত সুরক্ষিত ও সংরক্ষিত থাকতে করোনা ভাইরাসের দ্রুত ছড়ানো থেকে। এই মুহূর্তে আমাদের দরকার সামাজিক দূরত্বের পাশাপাশি শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা।অন্তত শারীরিক দূরত্ব হিসেবে এক মিটার বা তিন ফুট ব্যবধানে অবস্থান করা। যারা ইতোমধ্যে করোনা পজিটিভ হিসেবে নিশ্চিত হয়েছেন তাদেরকে সুস্থ মানুষ থেকে আলাদা স্থানে রাখার জন্য আইসলোশন বা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। এই করোনা সংকট কালে আমাদের প্রতিবেশী বিত্তশালী মহোদয়গণ মানবতা চর্চার এক নজিরবিহীন উদাহরণ স্থাপন করতে পারেন। এগিয়ে আসতে পারেন মানবতার কল্যাণে। সামনে আসছে পবিত্র মাহে রমজান। যারা প্রতি রমজান আসার অপেক্ষা করতেন যাকাত, ছদকা আদায় করার জন্য তারাই এই করোনা কালে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বড় একটা সুযোগ পাচ্ছেন। সবাই সবার জায়গা থেকে উদারতা আর মহানুভবতার পরিচয় দিলে মানবতা তথা মানব সভ্যতার জয় হবে এতে মহান আল্লাহ তায়া’লাও খুশি হবে।তাই এই সংকটময় সময়ে জাতি, বর্ণ,ধর্ম নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ একান্ত কাম্য। আর এই করোনা কালের যুদ্ধ মোকাবিলা কিন্তু অস্ত্র বা সমর যন্ত্রপাতি দিয়ে নয় বরঞ্চ মানতা আর মহানুভবতা দিয়ে এই যুদ্ধে জয়ী হতে হবে। মানবতাই একমাত্র হাতিয়ার! আর স্থানীয় বাজার ব্যবস্থার পুনর্গঠন করতে হবে। কেন্দ্রমুখী বাজার ব্যবস্থাকে মহল্লা ভিত্তি গড়ে তুললে হয়ত জনসমাগম কম হবে। কেন্দ্রমুখী বাজার ব্যবস্থার ফলে গণসমাগম বৃদ্ধি পেতে কারণ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় তরিতরকারি, মাছ মাংসের জন্য মানুষ বাহির মুখী হবে এটা স্বাভাবিক তাই সব কিছু যাতে জনসমাগম নিরুৎসাহিত করে সেদিক খেয়াল রাখতে হবে।বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় ত্রাণ নিয়ে আত্মসাৎ নিউজ সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। এই ধরণের নেক্কার জনক ঘটনা যাতে আমাদের জেলায় উপজেলায় পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এতে স্থানীয় প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দের দায়িত্বশীল, সততা,নিষ্ঠা ও মহানুভবতার চর্চা কামনা করছি। এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক গৃহীত প্রণোদনা প্যাকেজের অংশ হিসেবে সকল শ্রমজীবী, রিকশা চালক, ভ্যান চালক, ছোট দোকানদার,স্বল্প আয়ের মানুষের তালিকা প্রনয়ণ করে তাদের দুঃখ আর কষ্ট লাঘবের প্রয়াশে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সুনজর কামনা করছি।এছাড়া আমাদের অনুজ এবং অগ্রজন্মা প্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ত্ব, এই মহান সংগ্রামপথে আপনাদের সাহায্য ও মানবতার পাশে থাকার আহবান জানাচ্ছি! সময় এখন সবাইকে নিয়ে ভাল ও সুরক্ষা থাকার।সবাই আমরা সবার তরে নিয়োজিত থাকার প্রতিজ্ঞা নিয়ে সুস্থ সমাজের অংশীদার হতে চাই। সর্বোপুরি কক্সবাজার জেলার অগ্রদূতবৃন্দ ও মানবতার কাণ্ডারী মাননীয় সাংসদ মহোদয়গণের শুভদৃষ্টি ও বিচক্ষণতা প্রত্যাশা করছি। জেলা সমন্বয়ক মাননীয় জেলা প্রশাসকের সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক তদারকি উপহার দিতে পারে এক নিরাপদ ও সুরক্ষিত জনপদের। আবারো ধবনিত হোক ঘরে থাকি নিরাপদে থাকি। নিজেকে সুস্থ রাখি এবং অন্যকে সুস্থ রাখতে সহয়তা করি।নিজে সচেতন হই অন্যকে সচেতন করি।আমি ভাল থাকলে সবাই ভাল থাকবে এই প্রত্যাশা যেন সবার হোক। মানবতার জয় হোক!

মুহাম্মাদ শাকের উল্লাহ শিক্ষার্থী, নৃবিজ্ঞান বিভাগ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
ইমেইল: [email protected]মোবাইল: 01515675259

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •