এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া
দেশজুড়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় মানবিক কাজের অংশহিসেবে দেশবাসির সঙ্গে এবার সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছে চকরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। কক্সবাজার জেলার নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা চকরিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গুলশান আক্তারের অনুরোধের প্রেক্ষিতে উপজেলা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসের সকলস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই মিলে করোনা সংক্রমণে দেশবাসির কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ তহবিলে দিয়েছেন ৬ লাখ সাত হাজার টাকার অনুদান।

১৯ এপ্রিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের চকরিয়া শাখা থেকে একই ব্যাংকের গণভবন শাখায় এই অর্থ জমা দিয়েছেন চকরিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গুলশান আক্তার।

চকরিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গুলশান আক্তার বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের প্রার্দুভাব ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বর্তমান সরকার করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে নানা ধরণের উদ্যোগ গ্রহন করেছেন।

দুর্যোগ-দুর্দিনে করোনায় জীবিকা হারানো সবধরণের মানুষের জন্য প্রনোদনা কর্মসুচি ঘোষনা করছেন সরকার। ইতোমধ্যে সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্থ দেশবাসির কল্যাণে সহযোগিতা নিয়ে পাশে দাঁিড়য়েছেন সরকার।

তিনি বলেন, সরকারিভাবে মানবিক কাজের অংশহিসেবে দেশবাসির কল্যাণে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এরই অংশহিসেবে বৈশাখী উৎসবের বোনাস হিসেবে প্রাপ্ত টাকা থেকে (২০ শতাংশ টাকা) চকরিয়া উপজেলা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসের সকলস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই মিলে করোনা সংক্রমণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ তহবিলে দিয়েছেন (৬,০৭,০০০) ছয় লাখ সাত হাজার টাকার অনুদান।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমনের দুর্যোগ-দুর্দিনে মানবতার কল্যাণে সাড়া দিয়ে আমাদের চকরিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের অধীন সকল শিক্ষক শিক্ষিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষা অফিসের সাথে সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে বৈশাখী উৎসব থেকে একটি তহবিল গঠন করে এই অনুদান প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত: চকরিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গুলশান আক্তার ২০১৯ সালে কক্সবাজার জেলার আট উপজেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা কর্মকর্তা নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা কর্মকর্তা নির্বাচিত হবার গৌরব অর্জন করেন।

উপজেলার ১৪৫টি বিদ্যালয়কে ক্লাস্টারে বিভক্ত করে সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদেরকে ক্লাস্টার ভিত্তিক তদারকির দায়িত্ব দিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় সাধনপুর্বক টিম ওর্য়াক কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে চকরিয়া উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মানন্নোয়ন ও বিদ্যালয় গুলোতে সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করেছেন। যার বদৌলতে বর্তমানে চকরিয়া উপজেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাখাতের অভাবনীয় পরিবর্তন এসেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়নে দীর্ঘদিন যাবত বেদখল থাকা বিদ্যালয়ে জমি উদ্ধার ও একাধিক এলাকায় বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট নানাবিধ বিরোধ নিস্পত্তি করেছেন। শিক্ষকদের মনোমালিন্য নিরশন, শিক্ষার্থীদের ঝড়েপড়া রোধকল্পে হোম ভিজিট কার্যক্রম নিশ্চিত করেছেন।

চকরিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গুলশান আক্তার সরকারি নির্দেশনার আলোকে উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মানন্নোয়নে অর্থবরাদ্দ নিশ্চিতের মাধ্যমে সুদক্ষ তদারকিতে তিনি পরিকল্পিত উন্নয়নে উপজেলার ১৪৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ১২৮টি বিদ্যালয়কে ইতোমধ্যে উন্নয়নের ছোয়ায় নতুনরূপে ঢেলে সাজিয়েছেন। বিদ্যালয় গুলোকে স্মার্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ দিয়েছেন। দেখতে আকর্ষণীয়, ঝঁক-ঝঁকে ও সপ্ত-রঙে রঙিন করেছেন। নিশ্চিত করেছেন পরিচ্ছন্ন বিদ্যালয়ের পরিবেশ।

বিদ্যালয়ের ভেতরে-বাইরে আকাঁ হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি ছাড়াও দেশের ঐতিহাসিক ব্যক্তি বর্গের ছবি, জাতীয় পাখি, জাতীয় ফল-ফুল, প্রাথমিক বাংলা ও ইংরেজী বর্ণমালা। বিদ্যালয়ে নিশ্চিত করেছেন উন্নত স্যানিটেশন সিস্টেম, উন্নত পরিবেশ, বিদ্যাঙ্গন আঙ্গিনায়, ফল ও ফুলের গাছ রোপনপূর্বক পরিবেশ বান্ধব বিদ্যালয় রূপে সাজানো হয়েছে।

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করে যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছেন। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতি চর্চা বাড়াতে উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে তিনি যোগদানের পর থেকে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১৪৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করে শিক্ষার মান-উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন চলছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •