আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ জনসংখ্যার দক্ষিণ এশিয়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন রণক্ষেত্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে বিশেষজ্ঞরা। করোনার প্রাদুর্ভাব খারাপ আকার ধারণ করলে দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোর এই অঞ্চল কঠিন বিপদের মুখোমুখি হতে পারে।

করোনায় সংক্রমণ এবং মৃত্যু লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লেও ভারতের সরকার রোববার দেশটির কিছু রাজ্যের লকডাউন শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার থেকে দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত মুম্বাইয়ের কিছু অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং কারখানা সীমিত পরিসরে খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল ও ভুটানেও করোনা আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার করোনা পরিস্থিতি

* দক্ষিণ এশিয়ায় করোনা আক্রান্ত এবং মৃত্যুর শীর্ষে আছে ভারত। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ৩৬৫ জন, প্রাণহানি ঘটেছে ৫২১ জনের এবং সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৪৬৬ জন

* ভারতের পর করোনা সংক্রমণ বেশি পাকিস্তানে। সেখানে করোনায় সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ৭ হাজার ৯৯৩ এবং মারা গেছেন ১৫৯ জন।

* দক্ষিণ এশিয়ার সংক্রমণের এই তালিকায় তৃতীয়স্থানে আছে বাংলাদেশ। এখানে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৪৫৬ এবং প্রাণ গেছে ৯১ জনের

* আফগানিস্তানে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯৯৩ এবং মৃত্যু হয়েছে ৩২ জনের

* দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা শ্রীলঙ্কার। এই দেশটিতে করোনায় সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ২৪৮ এবং প্রাণ হারিয়েছেন মাত্র ৭ জন

* মালদ্বীপ মাত্র ৩৪ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন এবং এই দেশটিতে কেউই করোনায় মারা যাননি

* নেপালেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ৩০। করোনার প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর দেশটি কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করায় সেখানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এই ভাইরাস। হিমালয় কন্যাখ্যাত নেপালে এখন পর্যন্ত করোনা কারও প্রাণ কাড়তে পারেনি

* ভুটানে মাত্র পাঁচজনকে করোনা সংক্রমিত হিসাবে শনাক্ত করা হয়েছে; প্রাণ যায়নি কারও

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহানে শহরে উৎপত্তি হওয়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বর্তমানে বিশ্বের দুই শতাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ লাখ ৫১ হাজার ১৬৩ এবং মারা গেছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ২৭৫ জন। তবে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬ লাখ ৬ হাজার ২০৮ জন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •