ইমাম খাইর, সিবিএন:

কক্সবাজার জেলার সকল উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় রবিবার (১৯ এপ্রিল) অসহায় দুঃস্থ ৩ হাজার ৯৪১ জন কার্ডধারীকে প্রতি কেজি ১০ টাকা দরে ৩০ কেজি করে মোট ১১৮.২৩ মেট্রিক টন চাল বিক্রি করা হয়েছে।

নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ের অংশ হিসেবে রবিবার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য দিয়েছেন।

চাউল বিক্রয়ে কোন ধরনের অসঙ্গতি দেখলে ০৩৪১৬২২২২, ০১৮৭২৬১৫১১১ জানানোর জন্য অনুরোধ করেছেন জেলা প্রশাসক।

রবিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো তথ্য মতে, এ পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় ৮৪৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে এবং ১০৮ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৫৬৫ জন। এ যাবৎ কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কক্সবাজার জেলায় কেউ মৃত্যুবরণ করে নি।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে কোভিড-১৯ টেস্টে মহেশখালী উপজেলার ৩ জন এবং টেকনাফ উপজেলার ১ জনকে করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫ জন, যার মধ্যে একজন ঢাকাস্থ কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গত ৫ এপ্রিল সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

কোভিড-১৯ চিকিৎসায় জেলার প্রস্তুতিঃ

কক্সবাজার জেলার ৮ টি সরকারি ও ২৯ টি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র বা হাসপাতালে মোট বেড রয়েছে ১৩৯৭ টি। তন্মধ্যে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় ২৮২ টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসকল চিকিৎসাকেন্দ্র মোট ২৪১ জন ডাক্তার ও ২৭৫ জন নার্স দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি হাসপাতাল সমূহে মোট ২৩২৬ পিস ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী বা পিপিই বিতরণ করা হয়েছে এবং ৫৩৮৫ পিস পিপিই মজুদ রয়েছে। কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির জরুরি চিকিৎসায় স্থানান্তরের নিমিত্ত ১১ টি পৃথক অ্যম্বুলেন্স এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চিকিৎসা কেন্দ্রসমূহে আইসোলেশন ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকলেও রামু উপজেলায় নবনির্মিত হাসপাতালের একটি নতুন ভবনে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট আইসোলেশন ইউনিট এবং চকরিয়া উপজেলায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট আরো ১ টি আইসোলেশন ইউনিট জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। করোনা চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তার ও নার্সদের আবাসন ও আনুষঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনালকে প্রস্তুত করা হয়েছে।

জেলার সরকারি সহায়তা পরিস্থিতিঃ

কোভিড-১৯ এর কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া অতিদরিদ্র দিনমজুর শ্রেণির মানুষদের জরুরি প্রয়োজনে খাদ্য সহায়তা প্রদানের নিমিত্ত কক্সবাজার জেলায় ৪১৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১৯ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা মজুদ রয়েছে।

এছাড়াও, ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রয়ের জন্য মজুদ রয়েছে ১৪৯১.৩০৫ মেট্রিক টন চাল।

ইতোমধ্যে ৬৫,৯০০ পরিবারের নিকট ৯৫০ মেট্রিক টন খাদ্য সহায়তা, ৭,৫১৯ পরিবারকে ৩৯ লক্ষ ৫৮ হাজার টাকার নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আজ জেলা প্রশাসন, কক্সবাজার-এর অনলাইন পাঠ্যক্রম “আকাশ আমাদের সীমানা” তে অষ্টম শ্রেণীর গণিত, নবম শ্রেণীর গণিত, দশম শ্রেণীর ইংরেজী দ্বিতীয় পত্রের ক্লাস আপলোড করা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলায় করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারনা, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রোধে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে যৌথ অভিযান/টহল পরিচালনাসহ কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক সকল কার্যক্রম জেলা প্রশাসন কর্তৃক পরিচালনা করা হচ্ছে। বিগত ১৮ মার্চ থেকে অদ্যবধি কক্সবাজার জেলায় মোবাইল কোর্টে বাজার মনিটরিং এ ১৯৫ টি মামলায় ১৫,০৭,৫০০ টাকা এবং করোনা সঙ্গনিরোধে ৪৬০ টি মামলায় মোট ১১,৩৬,৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •