আবুল কাসেম আশরাফ
বিশ্ব আজ ভয়াল করোনা থাবায় ক্ষত বিক্ষত। থামছে না উপর্যুপরি লাশের মিছিল ও আক্রান্ত  মানুষের গগন বিদারী আর্তনাদ।থমকে গেছে মানব সভ্যতা।সর্বত্র বিরাজ করছে চাপা আতঙ্ক।
বুক ফুলিয়ে পিচঢালা পথ ধরে হেঁটে চলা যুবকের চোখে মুখে আতঙ্ক। রিক্সার প্যাডেলে পা চালানো অভাবীর চেহারায়ও আতঙ্ক। যে লোকটা দোকানের ক্যাশে বসা,তাঁর হৃদয়েও আতঙ্ক।ফোনের ওপাশে যে মা কথা বলছেন, তাঁর কন্ঠেও কাঁপা কাঁপা আতঙ্ক।
যেন মিনি কেয়ামতে মানবাত্মা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ব্যাকুল চিত্তে বাঁচার আকুতি।সর্বত্র সবার মুখে ইয়া নাফসী, ইয়া নাফসী।
আগাম পরিলক্ষিত হচ্ছে, বিশ্ব জুড়ে বেকারত্বের নীরব পদধ্বনি।দেখা দিতে পারে ভয়াবহ খাদ্য সংকট।ঘটতে পারে অকল্পনীয় পরিস্থিতি।
আমরা সবাই প্রিয় স্বদেশ বাংলাকে ভালবাসি।অনেকটা পথ পার হয়ে এসেছি স্বাধীনতা পরবর্তী। অর্ধ শতাব্দী ছুঁইছুঁই করছে। আন্দোলন, সংগ্রামের ফসল মাতৃভূমির জন্য ভালোবাসার কমতি নেই আমাদের অন্তরে। স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে নেই সামান্য অলসতা। বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নেই কোন কার্পণ্যতা। বিভিন্ন দিবসে নজিরবিহীন উদারতা প্রদর্শন করে প্রমাণ করেছি, মৌলিকত্বে একাত্মতায় আমরা সবাই সীসা ঢালা প্রাচীর।
দুঃখজনক হলেও সত্য, একটা ঘাটতি অনুমেয় হচ্ছে অভ্যন্তরীণ। যুগের পর যুগ সমাধান হচ্ছে না এই সমস্যার।সমস্যার নাম হল জাতির ক্রান্তিকালে সম্মিলিত ঐক্য।জাতীয় সংকট মোকাবিলায় মতানৈক্য লক্ষনীয়।দলীয় মানসিকতা কাজ করে নাগরিক জীবনে।
এখনো দলমত নির্বিশেষে করোনা রনে আমরা সহাবস্থানে না হয়ে হীনমন্যতায় পড়ে রয়েছি ।দিনদিন করোনার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ছে জনসমুদ্রে। তাতে শঙ্কিত পৃথিবী।অনিশ্চিত গন্তব্যে গোটা মানব সমাজ।
প্রিয় দেশবাসী! আসুন,ভূলে যাই দলীয় সংকীর্ণতা। জাতির কল্যাণের জন্য একতাকে প্রধান্য দিয়ে কাজ করে যাই স্বার্থহীনভাবে। দলকে নয়, দেশকে ভালবাসি।
আমি আবারও বলছি – আমরা সংগ্রামী হই। সহযোগী হই। সহযোদ্ধা হই। কাজ করে যাই দেশের – দশের জন্য। আর্ত মানবতার জন্য।
সহকারী শিক্ষক, খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়।
খরুলিয়া, সদর, কক্সবাজার।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •