মো.ফারুক, পেকুয়া:

মুজিবুর রহমান। পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক হিসাবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করছেন। কিছু সময় হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দায়িত্বও পালন করেন। বিশ্ব মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে মহাসংকটের এ অবস্থায় পেকুয়া উপজেলায় আজ অবধি কোন রোগী শনাক্ত না হলেও সংকট মোকাবেলায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। স্থানীয় থানা প্রশাসনের অক্লান্ত পরিশ্রমের পাশাপাশি করোনা রোগী সন্দেহে এ পর্যন্ত ৩৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে তার রিপোর্ট পেশ করেছেন। স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও নিজে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘরে থাকার আহ্বানসহ সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলার আহ্বান জানাচ্ছেন। ইতোমধ্যে এ মহাসংকটে তাকে বীর সৈনিক হিসাবেও উল্লেখ করছেন কেউ কেউ। তিনি উপজেলার বারবারকিয়া ইউনিয়নের সবজীবন পাড়ার হাফেজ নুরুল ইসলাম ও মমতাময়ী মা সামশুনাহারের সুযোগ্য সন্তান।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে,  তার পিতা মাতার আশা ছিল ছেলে ডাক্তারী পাশ করে এলাকাবাসীর সেবাই নিয়োজিত হবেন। পিতার মাতার সেই আশা ও স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং নিজের ইচ্ছায় বেশ কয়েকবছর ধরে পেকুয়াবাসীর সেবা দিয়ে যাচ্ছেন মুজবিুর রহমান। সরকারি ডাক্তার নিজের ডিউটির বাইরে তাকে যখনি প্রয়োজন এলাকাবাসীর তখনি সাড়া দিয়েছেন। তা রাত ২টা হউক আর ৩টা হউক। এক্ষত্রে তিনি আর্থিক বিষয়টা বিবেচনা না করে রোগীর সেবাকে বেশি করে দেখেছেন। তার বাস্তব দেখা মিলল বিশ্ব মহামারী করোনা মহাসংকটে। নিজের জীবনের মায়া না করে এ পর্যন্ত করোনা রোগী সন্দেহ ৩৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে। সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে নমুনা সংগ্রহ ছাড়াও বেশ প্রচারণা চালাচ্ছেন ঘরে থাকার জন্য। বলছেন সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে এলাকাকে নিরাপদ রাখার জন্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার কাজের প্রসংশা করে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগাচ্ছেন।

আরো জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে পেকুয়ায় যখন নতুন সরকারী হাসপাতাল প্রতিষ্টিত হয় তারও আগে থেকে তিনি পেকুয়াবাসির সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। অর্থাৎ এমবিবিএস পাশ করার পর থেকেই মাতা পিতার নির্দেশে পেকুয়াবাসীর সেবায় নেমে পড়েন তিনি। আজ অবদি তিনি পেকুয়া ছেড়ে যাননি। যেখানে অনেক চিকিৎসক অসময়ে গেলে বিরক্ত হন সেখানে জরুরী মুহুর্তগুলোতে ছুটে যান ডা: মুজিবের কাছে। ইতিমধ্যে পেকুয়ায় অনেক নামিদামি ডাক্তার এসেছেন, গেছেন এবং বর্তমানেও আছেন। কিন্তু মানুষের জরুরী মুহুর্তগুলোতে কাউকে এমনভাবে পাওয়া যায়নি যেভাবে ডা: মুজিবুর রহমানকে পাওয়া যায়। বর্তমানের করোনা যুদ্ধে সারাদেশে অনেক চিকিৎসক যখন সেফটির কথা বলে নিজেদের আড়াল করার চেষ্ঠা করছেন ঠিক তখনিই স্বল্পতম পিপিই পড়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আক্রান্তদের দ্বারে দ্বারে ছুটে চলেছেন ডা: মুজিবুর রহমান। এটাকেই বলে সেবা। ওনাদেরকেই বলে যুদ্ধের প্রকৃত সৈনিক।

স্থানীয়রা তারকে ছিদ্দিকী, আশাদুল হক চৌধুরী, এডভোকেট জেডএম মিনারসহ আরো কয়েকজন জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের অনেক চিকিৎসক মহামারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে যেখানে অনিহা প্রকাশ করছেন সেখানে ডাক্তার মুজিবুর রহমানের ছুটে চলায় মনে করিয়ে দেয় ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাসের কথা। রাত দিন ২৪ ঘন্টা পেকুয়াবাসী আমরা যারাই তাকে ফোন দেই অথবা তার সাথে সাক্ষাত করি তিনি সেবা দিতে কোন ধরণের কৃপণতা করেননা। বিগত সময়ে পেকুয়াবাসীর নিবেদিত সেবাদানকারী চিকিৎসক হিসাবে তার যতেষ্ঠ সুনামও অর্জন রয়েছে। বর্তমানে দেশের করোনা যুদ্ধেও আক্রান্ত মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে চলা এক অগ্রজ সাহসি সৈনিকের নাম ডা: মুজিবুর রহমান। নিজে মেডিকেল টিম নিয়ে করোনা সন্দেহ রোগীদের নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। প্রতিটি পাড়া মহল্লার অধিবাসীরা তার সাহসী ভুমিকায় আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। একই সাথে ডাক্তার মুজিবুর রহমানসহ পেকুয়ার সকল চিকিৎসকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এবিষয়ে সাংবাদিক শাফওয়ানুল করিম বলেন, এ যুদ্ধার সাথে আমার প্রায় সময় কথা হয়। ওনাকে আমরা সাহস দেয়ার আগেই ওনি আমাদেরকে সাহস আর পরামর্শ দিচ্ছেন।মনোবল শক্ত রাখতে বলছেন। বলছেন, “এ যুদ্ধে হয়ত আমি হেরে যেতে পারি। কিন্তু হার মানবোনা। পেকুয়াবাসির জন্য আপনার এ ত্যাগগুলো ইতিহাসের পাতায় সম্মাণজনক অধ্যায়ে স্থান হবে। শুভ কামনা নিরন্তর।

এডভোকেট মীর মোশারফ হোসেন টিটু বলেন, চিকিৎসক মুজিবুর রহমানের ত্যাগ আর পরিশ্রম আমাদেরকে মুগ্ধ করেছে। তার পরিশ্রমের মূল্যায়ন কোন কিছুর সাথে তুলনা হয়না। তবে ওনার নিরাপত্তার কথাও আমাদের চিন্তা করতে হবে। আমরা সচেতন হলে মুজিবুর রহমানের মত সকল চিকিৎসকের কাজ করতে সহজ হবে। আসুন আমরা করোনার সকল নিয়ম মেনে সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ডাক্তার মুজিবুর রহমান বলেন, আমি যখন ডাক্তারী পড়ি। তখন পিতা মাতা বলল পাশ করে এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়াবি। পেকুয়াবাসীর প্রতি ভালবাসায় দীর্ঘবছর ধরে পেকুয়ায় অবস্থান করছি। অতিতে আমার সাধ্যমত সাধারণ নাগরিকের পাশে দাঁড়িয়েছি। বর্তমানে করোনা মহামারীতে আমাদের সবার উচিত সচেতন হওয়া আর ঘরে অবস্থান করা। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লোকদের আটকানো। সর্বশেষ পেকুয়ায় সন্দেহভাজন ৩৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরিক্ষা করিয়েছি। তার মধ্যে একজন শ্বাস কষ্ট নিয়ে মারাও গেছে। ইনশাল্লাহ সবার রিপোর্ট নেগেটিভ। আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য সংকট মূহর্তে পেকুয়াবাসীর পাশে দাঁড়ানো। পেকুয়াবাসীর প্রতি অনুরোধ থাকবে অন্য এলাকা থেকে লোকদের আটকান। এক্ষেত্রে আমাদের থানা প্রশাসনের কর্মকর্তারা পেকুয়াবাসীর জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আসুন আমরা সবাই ওনাদের সহযোগিতা করি আর পেকুয়াকে নিরাপদ রাখি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •