জসিম সিদ্দিকী :

বর্তমানে সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করেছে। মানুষের অপমৃত্যু ঘটছে প্রাণঘাতি মহামারী এই করোনার কবলে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলা প্রতিরোধ, প্রতিকার, প্রভাব বিস্তার রোধ এবং জনগনের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষে সরকারের যথাযথ নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী অনন্য ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। এই বাহিনীর অন্যতম একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ১৫ আনসার ব্যাটালিয়ন, সদর দপ্তর পটিয়া, চট্টগ্রাম যার সদস্যরা কক্সবাজার শরনার্থী শিবির ও পটিয়া সদর দপ্তর এলাকায় দায়িত্বে মোতায়েন কৃত । বর্তমানে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে শুরু থেকেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে ১৫ আনসার ব্যাটালিয়ন। প্রথমত নিজ সৈনিকদের সুরক্ষার বিষয়াটি প্রধান্য দিয়েছেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক। ব্যাটালিয়নের মোট ৩৬৭ জন সৈনিকদের মাঝে চার দফায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, বাংলা সাবান, হ্যান্ড গøাভস, পিপিই, চশমা তাদের মাঝে বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ১০ লাখ শরণার্থীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত এই ব্যাটালিয়নের দুই কোম্পানী ব্যাটালিয়ন ফোর্স করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের অধীনে অভিযানিক দায়িত্ব পালন করছে কুতুপালং ও নয়াপাড়াসহ ৩৪ টি ক্যাম্পে। কুতুবদিয়া , পেকুয়া, মহেশখালী ও ঈদগাঁও চারটি পৃথক ক্যাম্পে ও তারা করোনা ভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে প্রশাসনের চলমান সকল ডিউটিতে অংশগ্রহন করছে। পটিয়া ব্যাটালিয়ন ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর এলাকায় সামাজিক ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রেও এগিয়ে এসেছে ১৫ আনসার ব্যাটালিয়ন। আগামীতে খাদ্য সংকটের আশংকা মোকাবেলার জন্য স্থানীয় চাষী কৃষক জেলে মাৎস্য খামারী পোল্ট্রি খামারীদের অধিক ফসল উৎপাদনে উদ্ধুদ্ধকরন কর্মসুচী অব্যাহত রেখেছে । এতে জনগনের জন্য মানবিক ও সামাজিক সহায়তা ও দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠির মাঝে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ও করোনা ভাইরাসে কর্মহীন অসহায়দের মাঝে কিছু খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বর্তমানে সরকার ঘোষিত সারাদেশব্যাপী চুড়ান্ত লকডাউন কাটডাউন বা জনগনকে ঘরবন্ধী রাখার নির্দেশনা নিশ্চিত

সফল করার জন্য সিভিল প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে ব্যাটালিয়নটি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার স্টেশন ও মহাসড়কে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়। পালা করে নিরাপত্তা ও সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং নিশ্চিত করণে ডিউটি করছে বিশেষ প্রশিক্ষিত টিম। ব্যাটালিয়ন সদরে নিজস্ব জনবলের জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন হিসেবে অধিনায়কের তত্ত্বাবধানে ৮ শয্য বিশিষ্ট আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। পরিচালক স্বাস্থ্য দপ্তর ও সিভিল সার্জন অফিসের কন্ট্রোল রুমের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে ব্যাটালিয়ন এমআই রুম। সরকারের ও প্রশাসনের যে কোন দায়িত্ব নির্দেশনা বাস্তবায়নে তৈরী রয়েছে আরো কয়েকটি কুইক রেসপন্স টিম।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •