অধ্যাপক রায়হান উদ্দিন:
আমি জানি আপনারা অনেকেই শিক্ষক এবং আমিও একজন শিক্ষক ছিলাম।এখন শিক্ষক নিয়ে কোন আলোচনা অনুষ্ঠানে ভালোবাসা নিয়ে উৎসাহ দিয়ে খুবএকটা উপস্থিতি চোখে পড়েনা। এই ধরনের একটা ভালো কাজে কারো তেমন উৎসাহ দেখা যায়না। তেমন কেউ আসেনা। আজকাল আমাদের দেশে দেখবেন ভালোমানুষেরা বিচ্ছিন্ন ,ভালোমানুষদের মধ্যে যোগাযোগ নেই তাঁরা একা থাকেন।তাঁরা আলাধা ঘরে একা একা শুয়ে কাঁদেন।পরস্পরকে খুজে পাননা ।কিন্তু যারা খারাপ তারাা কিনতু খুব্ই সংঘবদ্ধ ।এক শয়তান হুক্কাহুয়া দিলে মুহুর্তে হাজার শয়তানেররা ক্যা হুয়া, ক্যা হুয়া ,বলে বেরিয়ে পড়ে।সেই জন্য আজকে আমাদের দেশে দুর্বৃত্তেরা ভালোমানুষদের চাইতে অনেক উপরে উঠে গেছে।অনেক শক্তিশালী হয়ে গেছে ।আমাদের সংগ্রামতো তাদের সাথে তাইনা।আমরা শিক্ষক , আপনারা শিক্ষক, আমি নিজে শিক্ষক।আমার জীবনে আমি তিরিশ বছরেরও বেশী শিক্ষকতা করেছি। কলেজে অধ্যাপনা, কে,জি ,প্র্রিকেডেট হাই স্কুল, প্লেগ্রুপে ছড়া শিক্ষক,শিল্পকলায় সঙ্গীত শিক্ষা থেকে পথকলি পর্যন্ত কোনটাই বাদ যায়নি।শুধু অন্ধকারের সাথে যুদ্ধ করেছি।এই যে একটা বিরাট অন্ধকার, এই অন্ধকারের সাথে যদি আমাদের যুদ্ধ করতে হয় এবং এই যুদ্ধে যদি আমাদের জয়ী হতে হয় তাহলে আমাদের কি করতে হবে? আমাদের আলোকের যোদ্ধা তৈরী করতে হবে তাইনা? যে যোদ্ধারা কি অন্ধকারের পক্ষে হবেন না আলোকের পক্ষে হবেন?সেই যোদ্ধাদের আজ আমাদের গড়ে তোলতে হবে।কারন ছোট মানুষ আর বড় জাতি একসঙ্গে কখনও হয়না।যদি জাতি হিসেবে আমাদের বড় হতে হয় ,তাহলে মানুষ হিসেবে আমাদের বড় হতে হবে।আল বেরুণী একটা অসাধারন কথা বলেছিলেন তার ‘ভারততত্ব’ বইতে।উনি বলেছিলেন যে, যদি কোন শহরে গিয়ে দেখো ,সেই শহরের রাস্তাগুলো সরু, অপ্রশস্থ, তাহলে কি বুঝবে? সেই শহরের মানুষের মনগুলো ছোট।ছোট মন ছোট রাস্তা তৈরী করবে। আপনি তাকিয়ে দেখেন একটা জাতির মধ্যে কত রকম মানুষ আছে, পুলিশ আছে ,ডাক্তার আছে, ইঞ্জিনিয়ার আছে,আমলা আছে, কন্ট্রাকটার আছে,ব্যবসায়ী আছে কতকিছু আছে।আমরা যারা শিক্ষক তারা একটা খুব বড় কাজ করি।সেট্ াহচ্ছে যে একজন মানুষ ডাক্তার হোন, ইঞ্জিনিয়ার হোন, ব্যবসায়ী হোন , যাই হোন, সকলকে একটা জায়গায় আসতেই হয় । সেই জায়গাটার নাম কি? বিদ্যালয়। এবং আমাদের সামনে এসে তাদের বসতেই হয়।তখন তারা বাচ্চা ছেলে মেয়ে ,হাফপ্যান্ট পড়ে, লিকলিকে চেহারা তখন হয়তো কিছুই না।এমন হতে পারে সে একদিন প্রেসিডেন্ট হবে, সে একদিন প্রধান মন্ত্রী হবে।নোবেল প্রাইজ পাবে, সে একদিন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ হবে।সারা জাতি আমাদের সামনে আসে । কেন অধপতনে যাওয়ার জন্য? বিকশিত হওয়ার জন্য। সুতরাং আমাদের দায়িত্ব কি? ছাত্রদের ছাত্রীদের বিকশিত করা। তাদের মনকে সমৃদ্ধ করা ,তাদের স্বপ্নকে শক্তিশালী করা। তাদের মনকে শক্তিশালী করা, তাদের যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।এটিই হ্েচ্ছ একজন শিক্ষক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। তাহলে শক্ষকের প্রধান দায়িত্ব কি হলো জাতিকে বড় করে তোলা।শিক্ষক যদি বড় হন জাতি বড় হবে।শিক্ষক যদি বড় না হন জাতি ছোট হয়ে থাকবে।সুতরাং আমাদের উপরে কিন্তুু একটা সবচেয়ে কঠিন দায়িত্ব অর্পিত হয়ে আছে। যে জাতিকে আমাদের বড় করতে হবে, সমৃদ্ধ করতে হবে, যোগ্য করতে হবে । এখন একটা শিশুকে বড় করে তোলতে হবে।কি করলে মানুষ বড় হয়!বড় কিছুর সংস্পর্সে আসলে মানুষ বড় হয়।এখন যদি আমি বলি যে আমিসুন্দর হতে চাই।কি হলে আমি সুন্দর হবো।আমি কি উত্তর দেবো? আমি বলবো সুন্দরের কাছাকাছি যাও , সুন্দরের সাথে বাস কর।তুমি আস্তে আস্তে সুন্দর হয়ে যাবে।তুমি চাঁদের সঙ্গে বাস কর , তুমি ফুৃলের সঙ্গে বাস কর,তুমি জোস্ন্যার সঙ্গে বাস কর,তুমি কবিতার সঙ্গে বাস কর,সঙ্গীতের সঙ্গে বাস কর, চিত্রকলার সঙ্গে বাস কর,সুন্দর প্রকৃতির মধ্যে ঘুরে বেড়াও তোমার মনটা আস্তে আস্তে সুুন্দর হবে।সুন্দর হতে হলে কার কাছে যেতে হবে?সুন্দরের কাছে।একটা সুন্দর গল্প বলি , মহাকবি গ্যাটে জার্মানীর বিখ্যাত , পৃথিবী বিখ্যাত। আপনারা পাইন গাছ দেখেছেন । পাইন গাছ ভারী স্নীগ্ধ।ভারী সুন্দর্যময়,ভারী শান্ত।উনি বলছেন এক জায়গাতে যে একজন মানুষ একটা পাইন গাছের নীচ দিয়ে যখন হেঁটে যায়,তখন যাওয়ার আগের মুহুর্তে সে যা ছিল ঐ হেঁটে যাওয়ার পরে কি সে একি মানুষটা থাকে?নাকি কিছু বদল হয় তার । তার কাছ থেকে বিয়োগ হয় না যোগ হয় ? কি যোগ হয়? পাইন গাছেন স্নিগ্ধতা, পাইন গাছের সৌন্দর্য, তার রুপ তার সঙ্গে জড়িয়ে যায়।সুন্দরের কাছে গেলে কি হয় !সুন্দর আমাদের সাথে যোগ হয়। তেমনি আমরা বড় যদি হতে চাই তাহলে কার কাছে যাবো বড়র কাছে যাবো।ধরেন আমরা এই মুহুর্তে এই ঘরের মধ্যে আছি , ঘরটা বেশ খোলা, সুন্দর, সামনে খোলা বারান্দা।কিন্তুু ধরেন কোন এক আশ্চর্য যাদু বলে এই মহুুর্তে আমাদের সবাইকে কেউ যদি তোলে নিয়ে ককসবাজার সমুন্দ্র সৈকতে এই মুহুর্তে দাড় করিয়ে দেয়, আমরা এই মুহুর্তে যে মানুষগুলো যে অবস্থায় আছি আমরা কি তা থাকবো! না আমাদের কোন পবিবর্তন হবে।আমরা কি ছোট হবো না বড় হবো। কেন হবো। ওখানে কিসের সংস্পর্শে গিয়ে আমরা দাড়িয়েছি? একটা বিশাল এর সংস্পর্শে। সামনে অন্তহীন নীল নোনাসমুদ্র,তার উত্তাল বাতাস, আদিগন্ত উন্মোচিতজায়গা।সব কিছু আমার মধ্যে চলে আসছে। সে বিশাল সমুদ্র আমার মধ্যে চলে আসছে।দেখেন বড়র কাছে গেলে আমরা বড় হয়ে যাই।সুতরাং আমাদের ছেলেমেয়েদের আমাদের সন্তানদের যারা সারা জাতি কৈশোর বয়সে আমাদের সামনে বসে আছে,তাদেরকেযদি আমরা বড় করতে চাই,তাহলে কি করতে পারি কোথায় নেবো! কার কাছে নেবো? ছোটর কাছে না বড়র কাছে?বড়র কাছে । এখন পৃথিবীতে বড় কি? জ্ঞানের চাইতে বড় জিনিষ আছে।সেটা হলো মানুষের হৃদয়।যেখান থেকে জ্ঞানের জন্ম।জ্ঞানের উৎস কোথায়? মানুষের মন , আত্মা।“মিথ্যা শুনিনি ভাই,  এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোন মন্দির, কাবা নাই।“উর্দুতে আছে “দিলছে বেহতর কোই কিতাব নেহী।;এই হৃদয়ের চেয়ে পৃথিবীতে আর কিছু নেই। এই কবিতাটা লিখেছিলেন পারস্যের জালালুদ্দিন রুমী।উনি লিখেছিলেন খুবি বিপ্লবাত্বক কথা। যে মানুষের হৃদয় কাবার চেয়ে পবিত্র।হঠাৎ শুনলে মনে হবে একি কথা! কাবা পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র স্থান।সমস্ত পৃথিবীর লোক সেই কাবাকে স্পর্শ করার জন্য যায়। সেই কাবার চাইতে আমার হৃদয় বড়! এ কেমন কথা !জালালউদ্দিন রুমী বলছেন যে না এইটাই সত্য।কেন সত্য, কাবা বানিয়েছেন কে? ইব্রাহীম খলিল। আর মানুষের হৃদয় তৈরী করেছেন কে ? সৃস্টিকর্তা স্বয়ং নিজে।সুতরাং কোনটা বড় ? হৃদয়ের চাইতে পৃথিবীতে আর কিছু নেই।আমরা সবাই আশরাফুল মাখলুকাত(সৃস্টির সেরা জিব) আমরা বিশ্বের বিস্ময়। কিন্তুু তার মধ্যেও শ্রেনীবিন্যাস আছে।আমরা সবাই লিখি। সবার লেখা কি থাকে? কাদের লেখা থাকে । যাদের হৃদয়ে ঐশর্য্য,সৌন্দর্য্য,দীপ্তি,মেধা,আলো,বিপুল অন্তহীন শুধু তাঁদের লেখাই পৃথিবীতেবেচেঁ থাকে।আর বাকীরা পাখীসব করে রব।বড় মানুষদের লেখা থাকে । আর বড় মানুষরাকি বেচেঁ থাকে? রবীন্দ্রনাথ জন্মেছিলেন কোন সালে? ১৮৬১ সালে। মারা গিয়েছিলেন ১৯৪১ সালে।কেউ কি বাঁচতে পেরেছে পৃথিবীতে?কিন্তু রয়ে যাবে কি? তাঁদের স্মৃতি, কিসের মাধ্যমে? প্রধানত ৯০ ভাগ বই এর মাধ্যমে।সুতরাং পৃথিবীর সবচেয়ে মহৎ জিনিষ হচ্ছে হৃদয় ।তার পরেই বই।কারন বইয়ের মধ্যে পৃথিবীর শ্রেষ্ট মানুষদের আত্মার আলো দাউ দাউ করে জ্বলছে।ওকে নেভানোর ক্ষমতা কারোর নেই।ধরুন, রবীন্দ্রনাথের একটি বই তার মনের মধ্যে যত সৌন্দর্য , যত দীপ্তি,যত বিভা, যত মহৎ কল্পনা যা কিছু সব রয়েছে। আমি যদি তাঁর বই পড়ি তাহলে কি হবে! রবীন্দ্রনাথ সোজা আমার মধ্যে চলে আসবে।তাতে কি আমি কমবো না বাড়বো? এইভাবে আমি যদি শেখ সাদী পড়ি , আমি যদি প্লেটো পড়ি ,আমি যদি এরিস্টোটল পড়ি,মেকি্রাম গোর্কী পড়ি, পৃথিবীর কালীদাস পড়ি,সেক্রাপেয়ার ড়ি,গেটেপড়ি, সবাইকে যদি পড়তেই থাকি পৃথিবীর শ্রেষ্ট আলোময় আনন্দ যদি আমার মধ্যেআসতেই থাকে, তখন কি আমি এই রকম থাকবো?আমার মধ্যে একটা আলো চলে আসবে ।শেখ সাদীর একটা কবিতার মধ্যে লিখছেন “আমি একটি মাটির ঢেলা কুড়িয়ে পেলাম । নাকের কাছে নিয়েছি , দেখি সে মাটির ঢেলায় মিস্টি অপরুপ গন্ধ।আমি একটু অবাক হলাম মাটির গন্ধতো সোঁদা সেঁদা।এই মাটির ঢেলায় এতোমিস্টি গন্ধ এলো কোত্থেকে! তখন কবি মাটির ঢেলাকে জিজ্ঞেস করলেন যে, মাটির ঢেলা তোর গন্ধতো সুন্দর নয়রে, কিন্তুু তোর গায়ে এতো সুন্দর গন্ধ এলো কোত্থেকে? মাটির ঢেলা বললো , এটা খুব অসাধারান কথা, ঠিকই বলেছেন কবি ।আমার গায়ে গন্ধ এতো সুন্দর নয়।কিন্তু আমি যেখানে ছিলাম , তারউপরে ছিল একটা বসরাই গোলাপের গাছ।আশ্চর্য সুগন্ধে চারিদিক একেবারে মত্ত করে রাখতোসে গোলাপ।তাজা অবস্থায় গোলাপের পাপড়িগুলি আমার উপরে পড়তো না। পড়তো কখন, যখন ঝরে যেতো অর্থাৎ তখন গন্ধ অনেক কমে যেতো। কিন্তুু তবু আমার গায়ের উপরে সেই আধা গন্ধ পড়তে পড়তে পড়তেই এমন হলো সেই আমি বিপ্লব স্পন্দিত বক্ষে মনে হয় আমিই লেলিন । আমারোতো এমনি মনে হতে লাগলো আমিই গোলাপ। আমার সারা শরীরে গোলাপের গন্ধ জড়িয়ে গেলো।্ধসঢ়;এই যে বই যা কিনা শ্রেষ্ট মানুষদের একেকটা বই তো একেকটা গোলাপের মতো তাইনা? গন্ধেআলোতে ভরা, কোথা থেকে গন্ধটা আসলো? শ্রেস্ট মানুষদের হৃদয়ের সোন্দর্য্য আলো বিভা থেকে । সেই বই যদি আমি পড়তে থাকি, পড়তে থাকি, আরো পড়তে থাকি, কি হবে! আমি কি আমি থাকবো? না আমার চাইতে আলোময় সুন্দরর্যময় মহান মহত্বর কিছু একটা মানুষে পরিণত হবো।আমরা যদি আমাদের ছেলে মেয়েদের বড় করতে চাই , তাহলে পৃথিবীর শ্রেস্ট যা তার সংস্পর্শে আনতে হবে। এবং শ্রেস্টমানে কি? বই। পবিত্র কোরান কিসে নাজেল হলো? আরবী ভাষায় কি হিসেবে ?বই হিসেবে।বাইবেল কি? বই। প্লেটো কি? বই । পৃথিবীর শ্রেস্ট যা কিছুর দিকে আপনি তাকান, আইনষ্টাইন কি ? বই । সবাই বই।মানব জ্ঞানের নব্বইভাগ , জ্ঞানের আলোর সৌন্দর্যের নব্বাই ভাগ বই এর মধ্যে আছে। সবচেয়ে সুন্দর বই ,সবচেয়ে আলোভরা বই আমরা যদি একটি শিশুর মনের উপরে ফেলতেই থাকি ফেলতেই থাকি তো কি হবে? সে বসরাই গোলাপ হবে।আমরাকি গোলাপের বাগান চাই? আমরা ৩৪বছর ধরে এ আন্দোলন করছি। যে আসুন আমরা দেশকে একটা গোলাপের বাগানে পরিণত করি।আপনার স্কুলের ছেলেরা যদি আপনার কাছে এসে আপনাকে বলে যে আমাকে বিকশিত করো।আপনি কি করবেন না? এবং যদি চাই তার হাতে তার বয়সের উপযোগী সবচেয়ে সুন্দর ,সবচেয়ে আলোময় ,সবচেয়ে স্বপ্নেভরা ,বইগুলোতার হাতে তুলে দিতে হবে।একটা সুন্দর শিশু হিবেবে ওরা বড় হয়ে উঠবে।এদের হৃদয়টা বড় হবে। এরা অন্যের দু:খে চোখের পানি এরা ফেলতে পারবে।একটা গল্প বলি, আমি যখন স্কুলে পড়ি ,তখন আমাদের পাড়ায় এক ভদ্র লোক ছিলেন।কেউ তাঁকে বলতো পীর কেউ তাকে বলতো পাগল। উনি অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলতেন। আমাদের ডেকে একদিন বললেনকি, প্রায় ধর আমরা পাঁচ সাতজন একটা ঘরের মধ্যে আছি।যে ঘরেকোন জানালা নেই।ঢুকেছি একটা দরজা থেকে,দরজাটা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।এখন বাইরের পৃথিবীটা যদি দেখতে হয় তাহলে কিভাবে দেখব? তখন আমরা বললাম স্যার দেওয়ালের গায়ে একটা ছিদ্র করতে হবে।তখন উনি বললেন ধর দেয়ালের মধ্যে একটা ছিদ্র আমি করলাম।তখন উনি বললেন কি দেখছিস? বললাম হ্যাঁ একটা গাছের দু একটি পাতা দেখা যাচ্ছে।একটা বাড়ীর একটা চাল দেখা যাচ্ছে। একটা পুকুরের কোনা দেখা যাচ্ছে। উনি বললেন ধর এইবার আমিছিদ্রটাকে বড় করলাম ।প্রায় দুই ফুট ব্যাসার্দ।স্যার বললেন কি দেখিস ? আগের চেয়ে কম দেখিস না বেশী দেখিস? আমরা বললাম স্যার অনেক দেখছি । যেমন একটা শহরের একটা অংশ, একটা নদী বয়ে যাচ্ছে, এটা সেটা অনেককিছু।তো উনি বললেন চল্ধসঢ়; আমরা এবার ছাদে যাই।এসেছিস ছাদে ? বললাম এসেছি ছাদে? কি দেখছিস? আকাশ , পৃথিবী , বিশ্বচরাচর। যত বড় জায়গায় যাবো পৃথিবী ততো বড়হবে। এই দেশ আজকে বড় দু:খী। হতাশ হয়ে তো লাভ নেই।এই বিশ্বচরাচরের সভ্যতা এরএক কণাকি হতাশা দিয়ে তৈরী হয়েছে? কি দিয়ে তৈরী হয়েছে ? আশা এবংকাজ।আসেন আমরা কাজ করি । আমরা বসরাই গোলাপের বাগান করি।আমাদের চারপাশে অজস্র বসরাই গোলাপের বাগান ফুটে উঠুক।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •