মোঃ শহিদ উদ্দিন (সোহেল)

সব কিছু সবসময় ঠিক থাকলে পৃথিবীতে কোন ইতিহাস রচিত হত না। ষড়যন্ত্রের কালিমা নিজ দেহে না মেখে যূগে যূগে কিছু মানুষ এগিয়ে গেছেন বলে পৃথিবীটা এত সুন্দর! এত মসৃণ! শত শত কাঁটার ভিতর দিয়ে ধুরু ধুরু বুকে গোলাপ ফোটে বলে তার এত শোভা!
পলাশীর প্রান্তরে শত ষড়যন্ত্রের উর্ধ্বে উঠে মীর মদন ও মোহনলাল দেশের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আজও জাতি তাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। পলাশী যুদ্ধের প্রায় পৌনে ৩০০ বছর পর এই করোনা যুদ্ধের সিপাহসালার বা পথিকৃত হলেন আমাদের ডাক্তার মহোদয়গণ। তেমনি একজন সিপাহসালার ছিলেন ডাঃ মঈন উদ্দিন। তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আল্লাহ যেন মরহুমকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মকামে স্থান দান করেন। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ মিডিয়া জগতে চিকিৎসা সেবায় তার অবদান ও জীবনের শেষ আকুতি দু’টোয় ভাইরাল হয়েছে। আমরা তাকে জীবিত অবস্থায় কি দিতে পেরেছি তা জানিনা তবে চিরায়ত মরণোত্তর সেবা ও স্বীকৃতি দিতে হয়ত একটুও কুন্ঠিত হবনা। অথবা বেসুরো গলায় ঘ্যান ঘ্যান করে বলব- “যিনি মরিয়া প্রমাণ করলিন তিনি মরেন নি “। কারণ ঠেকে শেখা জাতি হিসাবে পূর্বাপ্রস্তুতিতে আমাদের যত এল্যার্জি ! একে একে এভাবে সব ডাক্তারেরা যদি মরণোত্তর সেবা নিতে চায়, তাহলে রোগী দেখবে কে?
জানি আজ ডাক্তার সমাজ নানা অভিধায় অভিযুক্ত। এরপরও মৃত্যুপূরীকে বাঁচাতে তাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। নচেৎ সম্ভাবনার অনেক ডানা পালকহীন হয়ে পড়ে থাকবে। আবেগ ও বিদ্বেষতাড়িত না হওয়া-ই যাদের ধর্ম তারাই আমাদের ডাক্তার। কে শত্রু? কে মিত্র? এই প্রশ্ন একেবারে অবান্তর যাদের স্টেথোস্কোপের কাছে। এই নিবেদিত সারথিদের হাতের স্পর্শে হাসপাতালের বেডে শোয়া শত শত রোগী স্বপ্ন দেখে সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থাকার। চিকিংসা বিজ্ঞানের অগ্রদূত ইবনেসিনাকেও ( শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা বিজ্ঞানী হওয়ার পরেও) তৎকালীন শাসকের সাথে মতদ্বৈততার ভিতর দিনাতিপাত করতে হত। যার ফলশ্রুতিতে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। বন্দী অবস্থায় থেকেও হাসিমুখে সুলতানকে চিকিৎসা দিতেন! একই ভাবে নিজের আভিজাত্য কে তুচ্ছ করে হারিকেন নিয়ে রাতের আঁধারে ছুটে গিয়েছিলেন যুদ্ধাহতদের দ্বারে দ্বারে উচু বংশে জন্ম নেয়া ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল। আমাদের মুক্তিযুদ্ধেও এই রকম অনেক দৃষ্টান্ত কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে। চিকিৎসক সমাজ ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে অসমীকরণের স্বীকার হয়েছেন ঠিকই কিন্তু রেখে চলেছেন অসমান্য অবদান। স্থান করে নিয়েছেন অসহায় মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায়। আমরা আজ তাদের স্যালুট জানাই।লেখকঃ ব্যাংকার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •