মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

বাংলাদেশ ব্যাংক ১৬ এপ্রিল জারীকৃত এক সার্কুলারে লকডাউন (Lockdown) এবং লকডাউনবিহীন দেশের সকল এলাকায় সাধারণ ছুটিতে সরকারি-বেসরকারি সকল ব্যাংকের শাখা গুলো সীমিত আকারে খোলা রাখতে নির্দেশনা দিয়েছেন। এ নির্দেশনা জানার পর কক্সবাজারের ব্যাংকার ও ব্যাংকের স্টাফেরা উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

কক্সবাজার জেলা লকডাউন (Lockdown) ঘোষণার আগে সাধারণ ছুটি থাকাকালে ব্যাংকার ও ব্যাংকের স্টাফেরা বাড়ি থেকে ব্যাংকের শাখায় আসা-যাওয়া করতে, তারা যানবাহন পেতে খুবই সংকটে পড়েছেন। আবার কোন রকমে নিজস্ব উদ্যোগে যানবাহন, বাইক, সিএনজি, মাইক্রোবাস ইত্যাদি নিয়ে কর্মস্থলে আসলেও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েকগুন বেশি ভাড়া দিয়ে তাদের আসা-যাওয়া করতে হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পথে পথে তারা দায়িত্বপালনরত আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা বাধাগ্রস্ত ও নিগৃহীত হয়েছেন অসংখ্যবার। ব্যাংকার ও ব্যাংকের স্টাফদের ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে হরেকরকমের বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছে এভাবে। তারা সবসময় আতংকে থাকেন, সাধারণ ছুটিতে কক্সবাজারে লকডাউন (Lockdown) চলাকালে মানুষকে ব্যাংকিং সেবা দিতে গিয়ে কখন জানি তারা হয়রানি, হেনেস্তার শিকার এবং কয়েকগুণ অতিরিক্ত যাতায়াত খরচ তাদের গুনতে হয়।ব্যাংকার ও ব্যাংকের স্টাফদের এরকম উদ্বেগের কথা সিবিএন-কে তারা জানিয়েছেন।

বৈশ্বিক মহামারী করোনা সংকটে জনদুর্ভোগ কমাতে, ঘরবন্দী মানুষের আর্থিক প্রয়েজন মেঠাতে ব্যাংকার ও ব্যাংকের স্টাফেরা লকডাউনেও গ্রাহকদের অত্যাবশ্যকীয় ব্যাংকিং সেবা দিতে খুবই আগ্রহী। কিন্তু তাদের জন্য কর্মস্থলে যাতায়তের সুব্যবস্থা করতে, পথে পথে হয়রানি ও বিড়ম্বনা থেকে বাঁচাতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ প্রশাসনকে কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে। নাহয়, ব্যাংকার ও ব্যাংকের স্টাফেরা নিজেদের কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার নিরাপত্তা ও যাতায়াতের সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পরিস্থিতি আরো সংকটময় হয়ে উঠবে।

স্বাভাবিক সময়ে ভিন্ন উপজেলা থেকে কক্সবাজার জেলা সদরে এসে ব্যাংকে দায়িত্বপালন করেন, এরকম একজন প্রবীণ ব্যাংকার সিবিএন-কে বলেছেন, যদি কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২টি রিজার্ভ বাসের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে, ব্যাংকার ও ব্যাংকের স্টাফদের উল্লেখিত সমস্যার অধিকাংশ সমাধান হবে। যদি ২টি বাস দেওয়া হয়, তাহলে, একটি উখিয়া স্টেশন থেকে এবং আরেকটি বাস ঈদগাহ বাস স্টেশন থেকে প্রতি কর্মদিবসে সকাল সাড়ে ৮ টায় ছাড়া হয়, তাহলে বাস ২টি সারাপথ থেকে ব্যাংক ও ব্যাংকের স্টাফদের বাসে তুলে নিয়ে সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে কক্সবাজার জেলা সদরে পৌঁছে দেবে। যেহেতু বেলা ২টার মধ্যে ব্যাংকের নিজস্ব কার্যক্রম সহ সকল কার্যক্রম শেষ, তাই আবার বাস ২টি বেলা আড়াইটার দিকে কক্সবাজার জেলা সদর থেকে ছড়ে ঈদগাহ ও উখিয়া পর্যন্ত গিয়ে ব্যাংকার ও ব্যাংকের স্টাফদের পৌঁছে দেবে। এভাবে যদি বাসের ব্যবস্থা করা হয় অথবা বিকল্প অন্যকোন ভাবে যদি ব্যাংকার ও ব্যাংকের স্টাফেদের উল্লেখিত সমস্যার সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ও আগ্রহের সাথে গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবা দিতে অনুপ্রাণিত হবেন। এ ২টি সড়ক ছাড়াও ঈদগাহ-চৌফলদন্ডী-খুরুস্কুল রোড, মেরিন ড্রাইভ রোড, মহেশখালী-কক্সবাজার নৌ রুট সহ আরো কিছু পথ রয়েছে। সেসব পথদিয়ে ব্যাংকার ও ব্যাংকের স্টাফেরা
আসা-যাওয়া করতে যাতে অসুবিধা নাহয়, সে বিষয়েও প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে হবে। পরিবহন সুবিধা এবং পথে পথে ব্যাংকার ও ব্যাংকের স্টাফদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারেও সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আগামী রোববার ১৯ এপ্রিল থেকে ব্যাংক গুলো খোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ অবস্থায় হাতে আরো ২ দিন সময় আছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে সময় থাকতে সমাধান করার জন্য কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন এবং কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার) এর প্রতি বিনীত অনুরোধ করছি। এজন্য প্রয়োজনে কক্সবাজার ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সাথে প্রশাসনের বৈঠক করা যায়। মোদ্দা কথা হলো, করোনা ভাইরাস জনিত এ সংকটে ব্যাংকার ও ব্যাংকের স্টাফদের কর্মস্থলে যাতায়াতে ও নিরাপত্তাজনিত সংকটের সুষ্ঠু সমাধানে কক্সবাজার জেলার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেই মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে।

(লেখক : আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা।)

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •