কামাল হোসেন, রামু :
রামু উপজেলার অসহায় হিজরাদের মানবিক সহায়তা দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। রামুতে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এরকম অবহেলিত অসহায় ১৭ জন হিজরা পেলেন এই মনবিক সহায়তা।

জানা যায়, ১৫ এপ্রিল (বুধবার) রামু উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুমথ বড়ুয়া তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে করোনা পরিস্থিতিতে রামুর হিজরাদের মনবেতর জীবন নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। বিষয়টি রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা’র নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষনিক তাদের সহায়তার আশ্বাস দেন।

এরই পরিপেক্ষিতে ১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) ) রামু সরকারী খিজারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা ভবনের সামনে ১৭ জন হিজরাদের খবর দিয়ে এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা তাদের হাতে মানবিক সহায়তা স্বরুপ খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। খাদ্যসামগ্রী প্রদানকালে প্রণয় চাকমা তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। করোনা থেকে বাচঁতে হলে আপনাদের ঘরে থাকতে হবে। খাবারের সমস্যা হলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। আমরা ঘরে খাবার পৌঁছে দেবো।

এই মহতি উদ্যোগের নেপথ্যে থাকা সুমথ বড়ুয়া বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশের সব কর্মজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। হতদরিদ্রদের কম বেশি বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারিভাবে সাহায্য পেলে ও সবার দৃষ্টির বাইরে ছিল আমাদের আশেপাশে থাকা অবহেলিত তৃতীয় লিঙ্গগুলো। বিষয়টি আমাকে নাড়া দেয় এবং রামুর ইউএনওর নজরে আনি।

মানবিক সহায়তা পাওয়া হিজরাদের একজন নাম আবুল মনসুর। তিনি প্রতিবেদক জানান, আমরা করোনার কারনে বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমাদের খবর কেউ রাখে না। আমাদের এলাকার একজন শিক্ষক সুমত বড়ুয়া । তিনি সবসময় সমাজের মানবিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকেন। মাঝে মাঝে আমাদের খবরও নেন। আমরা তাকে আমাদের অসহায়ত্বের কথা জানায়। তিনি ইউএনও স্যারকে বলে আমাদের জন্য এই সহায়তার ব্যাবস্থা করেন। এই সহায়তা পেয়ে আমাদের কিযে উপকার হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করার নয়।ইউএনও স্যার ও সুমথ স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •