ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দেয়া আর্থিক অনুদান আচমকা বন্ধ করে দিল আমেরিকা। করোনা ক্রান্তিকালে অন্তত এমনটা আশা করেনি কেউ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের ব্যর্থতা ঢাকবার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে যে বলির পাঁঠা বানিয়েছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিরুদ্ধে আমেরিকা কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, যেগুলোর কথা না বললেই নয়। যেমন-

১. চীনের উহানে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের খবর আসে গত বছরের ডিসেম্বরে। এই ভাইরাস একজনের শরীর থেকে আরকেজনের শরীরে ছড়ায়না বলে চীনের দেয়া ভুল তথ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রচার করে। বলেছে এটা কোনো ছোঁয়াচে ভাইরাস নয়, তাই করোনা থেকে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই।

২. তাইওয়ান চীনের এই তথ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অবহিত করলেও চীনের চাপে পড়ে তা উপেক্ষা করা হয়। কারন চীন তাইওয়ানকে স্বাধীন রাস্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেয়না, নিজের দেশের অংশ বলে মনে করে।

৩. ঠিক ওই সময় প্রায় ৫ মিলিয়ন মানুষ উহান থেকে সরে পড়ে। চীন এতে কোনো বাধা দেয়নি। এদের মাধ্যমেই করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে বলে আমেরিকার ধারনা। চীন থেকে যেসব যাত্রী বিভিন্ন দেশে যাচ্ছিল, তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যাপারেও যথাযথ নির্দেশনা দেয়নি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

৪. আমেরিকার বিশ্বাস, চীন করোনায় আক্রান্ত রোগী ও মৃতের সঠিক সংখ্যা বলছেনা, কম করে দেখাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনের সরকারী পরিসংখ্যানকে অনুসন্ধান না করে মেনে নিয়েছে। ফলে অনেক দেশে এবং দেশের নাগিরকরা করোনা ভাইরাসকে অন্যান্য কম ক্ষতিকারক ভাইরাসের মত হাল্কা ভাবে নিয়েছে। করোনা ভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীতে রূপ নেয়ার এটাও একটা অন্যতম কারণ বলে ভাবা হচ্ছে।

৫. করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক মহামারী হিসাবে ঘোষনা দিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনেক দেরী করে ফেলেছে।

তবে সবচেয়ে অদ্ভূত ব্যাপার হচ্ছে চীনের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন ট্রাম্প অথচ গত ফেব্রুয়ারীতে টুইটারে করোনা বিস্তার ঠেকাতে চীনের আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর প্রশংসায় ছিলেন পঞ্চমুখ। অবশ্য এধরনের দ্বিচারিতা একমাত্র ট্রাম্পের পক্ষেই সম্ভব। এছাড়া তাইওয়ান নিয়ে চীন ও আমেরিকার মধ্যে চলমান দ্বন্দ ও রাজনীতিও ট্রাম্পকে ইন্ধন জুগিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

তবে অপ্রিয় হলেও যে কথা সত্য তা হচ্ছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাজেটের ১৫% শতাংশ আসে আমেরিকার কোষাগার থেকে। যার পরিমান হচ্ছে বছরে ৪০০-৫০০ কোটি ডলার! অন্যদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শক্তি হয়েও চীন দিচ্ছে মাত্র ৪০ মিলিয়ন ডলার। এই অসাম্য ব্যবসায়ী ট্রাম্পকে খাপ্পা করে তোলারও একটি অন্যতম কারণ। চীন যদি সত্যিই বিশ্বের আমজনতার কথা ভাবে তাহলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জন্য তাদের আর্থিক অনুদান এখনই বাড়ানো উচিত।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •