মো. নুরুল করিম আরমান, লামা:
প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস উপসর্গ নিয়ে বান্দরবানের লামা উপজেলায় মো. আমির হোসেন (৪০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর আক্রান্ত সন্দেহে মৃত ব্যক্তিসহ তার আশ পাশের তিন পরিবারের মোট ১৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মৃত আমির হোসেন পৌরসভার পূর্ব নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছৈয়দ নূরের ছেলে। এছাড়া মৃত ব্যক্তির সংস্পশের্র পাঁচ বাড়ির সদস্য ও একটি ফার্মেসীর মালিককে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এর আগেও করোনা আক্রান্ত সন্দেহে পৌরসভা এলাকার লামামুখ গ্রামের দুই ব্যক্তির নামুনা সংগ্রহ করে বি.আই.টি.আই.ডিতে পাঠানো হয়। আমির হোসেনের মৃত্যুর পর উপজেলার মানুষের মাঝে করোনা ভাইরাস সংক্রনের ঝুঁকি রয়েছে বিধায় গত মঙ্গলবার থেকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউন ও স্বাস্থ্য বিধি অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তাই জরুরী কোন প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানান, উপজেলা নির্বার্হী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি।

মৃত আমির হোসেনের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৩৫) জানান, গত ১ সপ্তাহ ধরে সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন তার স্বামী। মৃত্যুর পূর্বে তার স্বামীর বুক ব্যথা, ঘনঘন বমি, গলা ব্যথা, জ্বর ও বুক ফুলে যাওয়ার মত উপসর্গগুলো ছিল। খবর পেয়ে সোমবার দুুপুরে করোনা উপসর্গের খবর পেয়ে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন আমির হোসেনের বাড়ি লকডাউন করে দেন। এক পর্যায়ে পরদিন (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান আমির হোসেন। এর আগে উপসর্গ দেখা দিলে আমির হোসেন চিকিৎসার জন্য গজালিয়া বাজারের জনৈক সদয় ত্রিপুরার ফার্মেসীতে যায়। এ সময় তিনি পাশের রফিক ও জাহাঙ্গীরের ঘরের সদস্যদের সংস্পর্শে যান। এদিকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে গত ২৫ মার্চ থেকে উপজেলাকে লকডাউন করার পর থেকে উপজেলা ও থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউন ও স্বাস্থ্য বিধি মেনের চলার জন্য ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হলেও মানছেনা স্থানীয়রা।

করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদদুল হক বলেন, ‘নির্দেশনা অনুযায়ী মৃত ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কিনা, তা নিশ্চিতের জন্য আমরা মৃত ব্যক্তিসহ তার পরিবার ও নিকটবর্তী আরো দুই বাড়ির ১৭ সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করেছি। নমুনা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রফিক্যাল অ্যান্ড এনফেকসাস ডিজিজি (বিআইটিআইডি) চট্রগ্রামে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।

এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ- জান্নাত রুমি বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিসহ পরিবারের সকল সদস্য এবং নিকটতম প্রতিবেশীদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছি। একইসঙ্গে চিকিৎসা নিতে যাওয়া ফার্মেসী এবং সংস্পর্শে আশা আরো দুই বাড়ির সদস্যদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার পাশাপাশি তাদের খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরীক্ষায় করোনা ভাইরাস শনাক্ত হলে মৃত ব্যক্তির পুরো গ্রামকেই লকডাউন করা হবে বলে জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •