মোঃ ফারুক, পেকুয়া:
পেকুয়ায় নামেমাত্র চালু রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। গত ২০ দিন আগে চালু করা এ প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে সাম্প্রতিক সময়ে পেকুয়ায় ফিরে আসা প্রায় অর্ধশত মানুষের মধ্যে আজ অবধি একজনকেও রাখা সম্ভব হয়নি। এতে পুরো উপজেলায় বেড়েছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি।

উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে এ প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি দাবী করছেন পেকুয়ায় করোনা মহামারী প্রতিরোধে কাজ করে যাওয়া পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও স্থানীয় সচেতন সমাজ।

সরেজমিনে দেখা যায়, পেকুয়া উপজেলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের প্রবেশপথ ও ভবনে ‘প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের জন্য নির্ধারিত স্থান’ ব্যানার ঝুলানো হয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত ভবণের মূল ফটক তালা দেয়া। সুনশান নিরব এ ভবনে লাল রঙের দুটি ব্যানার ছাড়া অন্যকিছু চোখে পড়েনি। অনেক হাকডাক করেও ভবনের আশেপাশে কাউকে পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে টিটু, মিনারসহ আরো বেশ কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি বলেন, সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী পেকুয়া উপজেলার প্রায় তিন লাখ বাসিন্দার সংক্রমণ ঝুঁকি কমাতে এই প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টার চালু করার কথা ছিল। পেকুয়া উপজেলায় বাইরে থেকে কেউ এলে, তাকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের মাধ্যমে পরিবার বা সমাজ থেকে আলাদা রেখে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করা ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। যাতে সংক্রমিত কেউ কমিউনিটিতে ভাইরাস ছড়াতে না পারে। কিন্তু পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টার চালু করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। এর মাশুল পেকুয়া উপজেলার মানুষদের খুব কঠিনভাবে দিতে হবে। অবকাঠামোগত সকল সুযোগসুবিধা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র পানি সরবরাহের অভাবে পেকুয়া ক্রীড়া কমপ্লেক্স ভবনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে পরিণত করতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন। পানি সরবরাহের একটি ইলেক্ট্রিক মোটরের দাম কি মানুষের জীবনের ঝুঁকির চাইতে বেশি ?

পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ মুজিবুর রহমান বলেন, উপযুক্ত স্থান হিসেবে উপজেলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টার বানানো হয়। কিন্তু সেখানে শুধুমাত্র পানি সরবরাহ ব্যবস্থা না থাকায়, আজ অবধি কাউকে রাখা সম্ভব হয়নি। অথচ সর্বোচ্চ সংক্রমিত এলাকা নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন নিয়মিত পেকুয়ায় ফিরে আসছে। তাদের কোনভাবেই আমরা কমিউনিটির বাইরে রাখতে পারছি না৷ তাই পেকুয়ায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি প্রবলভাবে দেখা দিচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পেকুয়া ফিরে আসা বিশ জনের নমুনা সংগ্রহ করে আমরা পরীক্ষা করিয়েছি। তাদের কারও শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়নি।

পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম বলেন, সারাদেশে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও নানা পন্থায় লোকজন নিজের এলাকায় ফিরছে। তাদের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে, আমরা তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা আমরা যাদের চিহ্নিত করতে পেরেছি, তাদের হোম কোয়ারান্টাইনে বাধ্য করছি। কিন্তু তারা পরিবারের সদস্যদের সাথে মেলামেশা করছে। তা ঠেকানো যাচ্ছে না বলে ঝুঁকিও বাড়ছে। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টারটি চালু রাখা গেলে, সাম্প্রতিক সময়ে পেকুয়ায় ফিরে আসা মানুষদের মূল জনস্রোত থেকে আলাদা রাখা সহজ হতো।

এব্যাপারে জানতে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈকা সাহাদাতের সরকারী মুঠোফোন রিসিভ না করায় হোয়াটসঅ্যাপ ও উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক ইনবক্সে যোগাযোগ করলেও কোন ধরণের উত্তর পাওয়া যায়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •