শাহেদ মিজান, সিবিএন:

লবণ, পানসহ আরো কিছু পণ্য নিয়ে কক্সবাজারের সাথে নারায়ণগঞ্জের বহুদিনের নিয়মিত ব্যবসা চালু রয়েছে। কক্সবাজার থেকে লবণ এবং পান নিয়মিত রপ্তানি হয় নারায়ণগঞ্জে। তবে সেখান থেকে আমদানি হয়েও কিছু পণ্য কক্সবাজার আসে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন ভিন্ন! কেননা ঢাকার পর নারায়ণগঞ্জই এখন ভয়ংকর ‘হটস্পট’। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়ে সে জেলায় মহা আকার ধারণ করেছে করোনা। এমনকি নারায়ণগঞ্জ ফেরত লোকজনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। এমন মুহূর্তেও কক্সবাজার-নারায়ণগঞ্জ রপ্তানি-আমদানি ব্যবসা চালু রয়েছে। মালামালের পরিবহনের উপর লকডাউন কার্যকর না হওয়ায় এখনও দেদাঁরসে কক্সবাজার-নারায়ণগঞ্জ রপ্তানি-আমদানি ব্যবসা চলছে। এতে করে নারায়ণগঞ্জ থেকে কক্সবাজারে করোনা ভাইরাস প্রবেশের মহা আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজারের লবণ রপ্তানির আতুড়ঘর খ্যাত কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর নাপিতখালীতে বর্তমানেও প্রতিদিন লবণ নারায়ণগঞ্জে রপ্তানি করা হচ্ছে। লবণ পরিবহণ করা ট্রাকগুলো আসা-যাওয়া করছে। একই সাথে জেলার মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়াসহ জেলার অন্যান্য লবণ উৎপাদিত এলাকা থেকে নিয়মিত লবণ পরিবহন করছে লবণ বোট ও ট্রাকগুলো। প্রতিদিন কয়েকশ ট্রাক এবং বোট লবণ বোঝাই করে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জে।

অন্যদিকে মহেশখালীসহ কক্সবাজার জেলায় আরো কয়েকটি এলাকায় উৎপাদিত পান রপ্তানি হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে। শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়; করোনা আক্রান্ত চট্টগ্রামসহ আরো কয়েকটি জেলায় লবণ ও পান রপ্তানি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তি জানান, লবণ পরিবহনের ট্রাকগুলোতে থাকে চালক-হেলপারসহ ৩-৫ জন লোক। লবণ লোড ও আনলোড – দুইদিকেই অবস্থান করে তারা। ফলে তারা লোড করার সময় কক্সবাজারের অগণিত শ্রমিকের সংস্পর্শে আসে। একইভাবে আনলোড করার সময়ও নারায়ণগঞ্জে অগণনিত শ্রমিকের সংস্পর্শে থাকে। বোটের ক্ষেত্রেই একই পদ্ধতি চালু রয়েছে। ফলে ট্রাকের চালক-হেলপার ও শ্রমিক এবং বোটের মাঝি-মাল্লারা করোনা অধ্যুষিত নারায়ণগঞ্জ থেকে অতি সহজে এই ভাইরাসটি বহন করে নিয়ে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে কক্সবাজারের মহেশখালীসহ আরো কয়েকটি এলাকায় উৎপাদিত পান যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, টাইঙ্গাইল, ফেনি, কুমিল্লা এবং করোনায় দুইজন মারা যাওয়াসহ কয়েকজন আক্রান্ত সাতকানিয়া, পটিয়া, আমিরাবাদসহ আরো কিছু এলাকায়। এসব পান রপ্তানির জন্য ওসব এলাকায় যাওয়া-আসা করছে প্রায় দুই শতাধিক পান ব্যবসায়ী।

পান কেনা ও বেচার জন্য কক্সবাজার এবং নারায়ণগঞ্জসহ বাইরের ওসব মানুষের সংস্পর্শে থাকে। ফলে এদের মাধ্যমে কক্সবাজারে করোনা ঢুকে পড়ার আশঙ্কা আরো বেশি রয়েছে। এ নিয়ে সর্বস্তরের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার লবণ মিল মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জগামী ট্রাকগুলো নিয়ন্ত্রণের একটা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে কক্সবাজারে এসে চালকসহ অন্যান্যদের নির্দিষ্ট স্থানে আবদ্ধ রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনকে উদ্দেশ্য করে সচেতন মহল বলছেন, লকডাউন মেনে কক্সবাজারের মানুষ এখন ঘরে আবদ্ধ রয়েছে। কিন্তু ব্যবসার নামে নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য করোনা আক্রান্ত জেলায় এভাবে দেদাঁরসে লোকজন আসা-যাওয়ায় কক্সবাজার চরম করোনা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তাই বিষয়টি দ্রুত আমলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান।

এ প্রসঙ্গে সচেতন মহল বলছেন, পান যেহেতু পঁচনশীল সেহেতু নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পান সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। কিন্তু লবণসহ অন্যান্য পণ্য রপ্তানি ও আমদানি অনেকটা কমানো যায়। তা বন্ধ করা না গেলে স্বাস্থ্য বিধি কার্যকর করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য জেলা থেকে কোনো লোকজন ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। তবে মালামাল পরিবহণের সাথে নিয়োজিত লোকজন আসা-যাওয়া করছে। তাদের জন্য করোনা প্রতিরোধী স্বাস্থ্য বিধি কার্যকর করার উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •