রুহুল আমিন :

এই করোনা ভাইরাসের সময়ে প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে কোথাওনা কোথাও রিলিফ চুরির ঘটনা ঘটছে। ধরাও পড়ছে।  আমরা অনেকেই  জনপ্রতিনিধি হয়ে চুরি করছে তাদের বিরুদ্ধে  প্রতিনিয়ত লিখছি এবং লিখতে থাকবো এটা স্বাভাবিক।
কারণ আমরা দূর্নীতিমুক্ত সমাজ ও দেশ চাই বলে।
কিন্তু এই চুরির পেছনে কারণটা কি একটি বারও আমরা ভেবে দেখেছি..?
চলুন দেখে আসি ।  শুরুতে জনপ্রতিনিধিদের সরকারি সম্মানি এবং ভাতার তথ্য দেওয়া যাক।

সিটি করপোরেশনের মেয়রের মাসিক সম্মানী ৮৫ হাজার টাকা ও কাউন্সিলর ৩৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। তবে অন্যান্য ভাতা আগের মতোই বহাল থাকবে। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের মাসিক সম্মানী ৫৪ হাজার টাকা ও আপ্যায়ন পাঁচ হাজার টাকা, সদস্যদের মাসিক সম্মানী ভাতা ৩৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা মেয়রের ৩৮ হাজার টাকা ও কাউন্সিলর ৮ হাজার টাকা; ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভা মেয়রের ২৮ হাজার টাকা ও কাউন্সিলরের ৭ হাজার টাকা; ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভা মেয়রের ২৪ হাজার টাকা ও কাউন্সিলরের ৬ হাজার টাকা মাসিক সম্মানী পাবেন। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাসিক সম্মানী ৪০ হাজার টাকা ও ভাইস চেয়ারম্যান ২৭ হাজার টাকা সম্মানী পাবেন। তবে অন্যান্য ভাতা আগের মতোই বহাল থাকবে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সরকারি অংশ ৩ হাজার ৬০০ টাকা ও ইউপি অংশ ৪ হাজার ৪০০ টাকাসহ মোট ৮ হাজার টাকা; সদস্য সরকারি অংশ ২ হাজার ৩৭৫ টাকা ও ইউপি অংশ ২ হাজার ৬২৫ টাকাসহ মোট ৫ হাজার টাকা মাসিক সম্মানী পাবেন।
সূত্র: প্রথম আলো, ১০ জানুয়ারি ২০১৭

আমরা যারা ব্যবসা করি বা টাকা আয়ের উদ্দেশ্যে যে মূলধনটা ব্যয় করি সেটার পেছনে একটি মাত্র লক্ষ্য থাকে, সেটা কি? নিশ্চয় মুনাফা।
কারণ আমরা লাভ ছাড়া কেউ কখনও একটি কদমও বাড়াই না।
ঠিক তেমনি যারা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয় বা যারা জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য নির্বাচন করে তারা যে মোটা অংকের টাকাটা আমাদের পেছনে খরচ করে সেটারও পেছনে কারণ কি নিশ্চয় মুনাফা এটা বুঝতে অবশ্যই কারো বোধয় দ্বিধাবোধ নেই।
আমি এখানে একজন কাউন্সিলর এবং একজন মেম্বার এর উদাহরণ টেনে আনছি । একজন কাউন্সিলর মাসিক সম্মানী পায় ৮ হাজার টাকা আর পাঁচবছর শেষে মোট দাঁড়ায় ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।
এটা প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার একজন কাউন্সিলর এর হিসাব।
এবার আসি একজন ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার এর সরকারি মাসিক সম্মানি ২ হাজার ৩৭৫ টাকা এবং ইউপি অংশ ২ হাজার ৬২৫ টাকা, পাঁচবছর শেষে ৩ লক্ষ টাকা।
আমি চেয়ারম্যান এবং মেয়র এর হিসাবটা করলাম না । খ,গ শ্রেণীর মেয়র, কাউন্সিলর এর হিসাবটাও করলাম সেটা আপনারা তথ্য থেকে দেখে নিজ দায়িত্বে করে নেবেন।

দেখুন, একজন ব্যক্তি মেম্বার পদটা পেতে কম হলেও ১০ লাখ টাকারও অধিক খরচ করে  । অন্যদিকে একজন কাউন্সিলর কম হলেও ২০ লাখ টাকারও অধিক টাকা খরচ করে থাকে।
আমি মিনিমাম এটা মনে করি হয়ত বা আপনাদের ধারণাটা আমার চেয়েও বেশি বা কম হতে পারে।
এটাতো নিশ্চিত ৩ লাখ বা ৪ লাখের উপরে খরচ করে।

যে ব্যক্তি এতো টাকা খরচ করে মেয়র,চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর, মেম্বার নির্বাচিত হয় সেটা কি  লাভ ছাড়া ?
নিশ্চয়  লাভের আশায় তিনি সেই টাকাটা খরচ করেছেন। ওই যে বললাম লাভ ছাড়া কেউ সওদাগরি করে না।

দেখেন সরকারি বেতন,ভাতায় যেহেতু তার খরচের অর্ধেক টাকাও উঠে আসছে না তাহলে সেই জনপ্রতিনিধি নিশ্চিত অবৈধ পথ বেচে নেবে এটা অস্বাভাবিক কিছু না, কারণ অন্তত তার খরচ করা টাকাটা তো তুলে আনতে হবে।
কারণ সংস্কৃতিটা আমরাই সৃষ্টি করে দিয়েছি।
কেন বা সে জমি বিক্রি করে,গরু বিক্রি করে,বউয়ের গহনা বিক্রি করে শুধু শুধু বিরাট অংকের টাকা আমাদের পেছনে খরচ করবে লাভ ছাড়া।

সবার প্রশ্ন হচ্ছে এটা কি এভাবে চলমান থাকবে..?
আমি বলবো হ্যাঁ থাকবে ততদিন পর্যন্ত, যতদিন পর্যন্ত আমরা এই টাকার নির্বাচন,পোস্টার,ব্যানার এর নির্বাচন,ভোট কেনাবেচার নির্বাচন থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো না ততদিন পর্যন্ত জনপ্রতিনিধিদের চুরি,দূর্নীতি থেকে সরাতে পারবো না।

এই অপসংস্কৃতি বেরিয়ে আসার একটি মাত্র পথ সেটা হচ্ছে, আমি নিজেও যেহেতু একজন তরুণ যুবক তাই আমি তরুণদের নিয়ে আশাবাদী।এই তরুণরা চাইলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অপ-নির্বাচন,টাকার নির্বাচন,লাভের আশায় নির্বাচন ঠেকাতে পারে।  বাধ্য করতে পারে টাকার খেলা বন্ধে।

আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশে টাকার বিনিময়ে নেতা নির্বাচন বন্ধ করি। যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করি। আমাদের আমানতের হেফাজত করি। তাহলে আমাদের ত্রাণ , আমাদের জন্য বরাদ্ধ সঠিকভাবে পাব।

লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ,কক্সবাজার সিটি কলেজ। 
ডিরেক্টর, অধ্যয়ন একাডেমিক সলিউশন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •