মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

চিকিৎসক দম্পতি।
ময়মনসিংহ শহরের নয়াপাড়া এলাকায় এস.কে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা ভাইরাস (COVID-19) জীবাণু আক্রান্ত হয়ে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ চিকিৎসক দম্পতি চাকুরীরত।

নাম-ডা. হামিদা আক্তার সেঁওতি এবং তাঁর চিকিৎসক স্বামী। বৈশ্বিক মহামারী করোনা যুদ্ধের ফ্রন্ট লাইনের অকুতোভয় দুঃসাহসী যোদ্ধা। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতাল ও মাঠে বিরামহীন চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে নাছোড় করোনা এই চিকিৎসক দম্পতিকেও রেহাই দেয়নি। কিন্তু তাতে-ডা. হামিদা আক্তার সেঁওতি মোটেও বিচলিত নন। একজন মহিলা হয়েও সাহস হারাননি একেবারে। বরং করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে পেরে, চিকিৎসক হওয়ার সময় নেওয়া শপথ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে পেরে নিজে গর্ববোধ করছেন। দিয়েছেন দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয়। যে স্ট্যাটাস চলমান করোনা ভাইরাস জনিত সংকটে পুরো চিকিৎসক সমাজকে অনুপ্রাণিত করবে। প্রেরণা ও প্রত্যয়ে সমৃদ্ধ হবে করোনা যুদ্ধের ফ্রন্ট লাইনের বীর সেনানীরা।

বাংলা নববর্ষ ১৪২৭ উপলক্ষে দেওয়া স্ট্যাটাসটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ডা. হামিদা আক্তার সেঁওতি’র টাইমলাইন থেকে স্ট্যাটসসটি হুবহু তুলে ধরা হলো—

“সবাই বলছে কাউকে বলো না।
কেন বলব না??
আমি তো কোনো দোষ করি নাই।

আমি আপনাদের সেবা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছি।

লকডাউনে যখন আপনারা বাড়িতে বসে সময় কিভাবে কাটাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ ছিলেন, তখন আমি হয়তো কোনো কোভিড- ১৯ পজিটিভ ব্যাক্তির পাশে দাঁড়িয়ে।
হ্যা, আমি কোভিড-১৯ পজিটিভ।
এতে –
আমার কোনো লজ্জা,
বা
ভয় বা আফসোস নাই।

বরং আমি খুব গর্বিত।

কারণ আমি শেষদিন পর্যন্ত কাজ করে এসেছি।

এখন যদি মরেও যাই আমার আফসোস থাকবে না।

কারণ আমি ডাক্তার হিসেবে যে শপথ নিয়েছিলাম তা পালন করে এসেছি।
আমি যতদিন পেরেছি আপনাদের জন্যে হাসপাতালে এবং মাঠে কাজ করেছি।
যেদিন আমার মনে হল আমার নিজেরই স্যাম্পল পাঠানো দরকার, আমি সাথে সাথে স্যাম্পল পাঠিয়ে নিজেকে কোয়ারান্টাইনড করেছি।
আমার পক্ষে যতদুর সম্ভব মানুষ এড়িয়ে চলেছি। নিজের বাড়িতেও ফিরিনি, যেহেতু আমারো পরিবার আছে, বাড়িতে বৃদ্ধ শ্বশুর শ্বাশুড়ি আছেন।
তারপরো আজ আমার এলাকার মানুষের কাছে (যে এলাকায় ভাড়া থাকি) যে ব্যবহার পেয়েছি, আমি ও আমার স্বামী তা কোনোদিন ভুলব না।

একটা কথা বলে যাই…নগর পুড়লে কি দেবালয় এড়ায়?????

আগামী বছর বেঁচে থাকলে এই স্মৃতি টা ভেসে উঠবে ফেবু’র পাতায়।
শুভ নববর্ষ, ১৪২৭! সবার মঙ্গল হোক।”

উল্লেখ্য, তিনি ব্রাহ্মনবাড়িয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি এবং তাঁর
স্বামী ময়মনসিংহ নগরীর এস.কে হাসপাতালে কোভিড-19 এ অাক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।

ডাক্তার হামিদা আক্তার সেঁওতি-আপনি আবারো ফিরে আসবেন বীরের মতো। দেশবাসীর এই প্রত্যাশা, আপনি একজন সাহসী বীর, সাহসী চিকিৎসক যোদ্ধা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •