ইমাম খাইর, সিবিএনঃ
করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কক্সবাজার জেলা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার পরে বাসাবাড়ি থেকে খুব বেশী প্রয়োজন না হলে বের হতে নিষেধ করেছে প্রশাসন। দিনের বেলায়ও জনসমাগম ও চালাচলে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। প্রশাসনের নিদের্শনা মেনে চলছে শহরের বাসিন্দারা।
কিন্তু গত প্রায় ১০ দিন ধরে সন্ধ্যা নামতেই বেশ কিছু এলাকায় বালু, মাটি ও মালবাহি ট্রাক চলাচলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যে সময়ে মানুষ ঘুমিয়ে পড়ে ঠিক ওই মুহুর্তেই ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলের আওয়াজে ঘুম ভাঙে শহরবাসীর। ট্রাকের হর্ণের বিকট শব্দে শিশুরা আতংকিত হয়ে উঠছে।

তবে, এসব বিকট আওয়াজেও ঘুম ভাঙেনা প্রশাসনের -অভিযোগ স্থানীয় লোকজনের।

শহরের এন্ডারসন রোডের বাসিন্দা প্রবীন আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সিনিয়র সাংবাদিক মুহম্মদ নূরুল ইসলাম, তোফায়েল আহমদসহ অনেকের একই অভিযোগ। নিজেরাও ভুক্তভোগি।
তারা বলছেন, রাত ৮টা বাজতে না বাজতেই মাটি ও বালুবাহী অনেক ট্রাক থানা রাস্তা দিয়ে ঢুকে সোজা পূর্ব দিকে চলে যায়। এ সময় সড়কে বেশ কিছু লোক হাঁটাচলা করতে দেখা যায়।
তবে, ট্রাকগুলো কোন জায়গায় যাচ্ছে; কারা এসবের সাথে জড়িত, তা কারো জানা নাই। প্রশাসনের আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী শহরবাসীর।

একই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

এন্ডারসন রোড এলাকার এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে বলেন, লকডাউনেও কস্তরাঘাট থেকে চোরের মত বঙ্গবন্ধু সড়ক দিয়ে বড়বড় ট্রাকে করে মাটি নিয়ে যাচ্ছে পেশকার পাড়ার নুরুল ইসলাম, ফরিদুল আলমসহ একটি সিন্ডিকেট। ট্রাক পাহারা দিচ্ছে টেকপাড়া, পেশকার পাড়া থেকে আগত ৫/৬ জন মতো যুবক। তার প্রশ্ন, এসব কি লকডাউনের বাইরে?

শহরের এন্ডরসন সড়ক থেকে মঙ্গলবার রাতে নেয়া ছবি।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতের অন্ধকারে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ১০ চাকাবিশিষ্ট ৭/৮ টি বড় ট্রাকে করে বালু নিয়ে গেছে। ট্রাকের বিকট আওয়াজের কারণে এলাকাবাসী মারাত্মক ভোগান্তির শিকার। কস্তুরা ঘাট, এন্ডারসন সডক, বঙ্গবন্ধু সড়ক হয়ে গাড়িগুলো চলাচল করছে।

আপন টাউয়ার এলাকার এক বাসিন্দা জানিয়েছে, পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের নূর পাড়া, ৪ নং ওয়ার্ডের পেশকার পাড়া, টেকপাড়ার কিছু লোক ট্রাকগুলো পাহারা দেয়। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে পরের দিন ভোর ৬ টা পর্যন্ত ট্রাকগুলো চলাচল করে। এতে বড় মাপের কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততা আছে বলে জানা গেছে।

খুরুশকুল সড়ক এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সপ্তাহখানেক সময় ধরে বেশ কিছু মালবাহী ট্রাক চলাচল করছে। ট্রাকগুলো খুরুশকুল ব্রীজের নিচে থেকে পাথর আনে, বালু নোয়। এভাবে সারারাত ৫০/৬০ টনের গাড়ি আসা যাওয়া করে। এসব গাড়ির কারণে রাস্তার নিকটবর্তী বাসাবাড়ীর মানুষগুলো ঘুমাতে পারে না।

স্থানীয় সেলিম রাজা জানিয়েছে, খুরুশকুল ব্রীজের নীচে নারায়নগঞ্জের পাথরবোঝায় ট্রলার দেখা গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া দরকার।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ৭ টনের জায়গায় ৫০ টনের মালবাহী ট্রাক চলাচল করায় ঘরবাড়িগুলোতে কম্পন সৃষ্টি হয়। তাতে সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাস্তাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তাদের ধারণা, মালবাহী ট্রাকগুলোতে করে ঢাকা, সিলেট ও নারায়ণগঞ্জ থেকে লোকজন আসা যাওয়া করছে। এতে করে ঝুঁকিতে পড়ছে কক্সবাজার শহর। পরিস্থিতি করুণ না হওয়ার এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী শহরবাসীর।

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার কক্সবাজার নিউজ ডটকম (সিবিএন)কে জানিয়েছেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরপর থেকে আর কোন ট্রাক চলাচল করার কথা নয়। তবু নির্দেশ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে, প্রশাসনের এ্যাকশানের পর এন্ডারশন সড়ক হয়ে গতরাতে (মঙ্গলবার) কোন ধরণের মালবাহী ট্রাক চলাচল করেনি বলে স্থানীয়দের অনেকে জানিয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •