আর্থিক সহায়তা প্রদানে প্রশাসনের প্রতি আহবান এলাকাবাসীর

সৌদি আরবে মারা যাওয়া ঈদগাঁওর দুই রেমিটেন্সযোদ্ধার পরিবারের দুর্দিন

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল, ২০২০ ১০:১৫ , আপডেট: ১৫ এপ্রিল, ২০২০ ১০:২৫

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


ইমাম খাইর, সিবিএন:
সংসারের স্বপ্ন পূরণ ও জীবিকার তাগিদে গত ১০ মার্চ সৌদি আরব গিয়েছিলেন কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও মাইজ পাড়ার বাসিন্দা জসিম উদ্দীন (৪০)।
কিন্তু তিনি জানতেন না, তার মৃত্যুটা ওখানেই হবে।
পুরো বিশ্বকে কাবুকরা করোনাভাইরাসের কাছে ধরাশায়ী হয়ে মৃত্যুর শরাব পান করলেন টগবগে এই যুবক।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সৌদি আরবের মক্কা আল নুর হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জসিম উদ্দীন কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও মাইজ পাড়ার মরহুম নাজির হোসেনের ছেলে। তার মায়ের নাম মৃত দিলদার বেগম।
একই দিন মক্কা নগরীর একটি হাসপাতালে পেট ব্যথা নিয়ে ভর্তি ছিলেন আবু তাহের (৫০)। কিন্তু সেরে উঠে নি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মারা গেলেন তিনি।
আবু তাহের কক্সবাজার সদরের পূর্ব গোমাতলী মরহুম হাজ্বী ছৈয়দুর রহমানের পুত্র এবং সাবেক ইউপি সদস্য মুহাম্মদ এহেসানের বড় ভাই।
এই দুই রেমিটেন্সযোদ্ধার পরিবার ও এলাকায় চলছে শোকের মাতম। সান্ত্বনার ভাষা নেই স্বজনদের।
জীবন জীবিকার তাগিয়ে সৌদি আরব পাড়ি জামিয়েছিলেন কক্সবাজার সদরের বৃহত্তর ঈদগাঁও এলাকার জসিম উদ্দিন ও আবু তাহের। কিন্তু নিয়তির কাছে হেরে গিয়ে দুই রেমিটেন্সযোদ্ধা চিরতরে বিদায় নিলেন।
এদিকে, প্রবাসে মারা যাওয়া জসিম উদ্দিন ও আবু তাহেরের পরিবারের এই দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকার বাসিন্দা জানে আলম বলেন, আর্থসামাজিক কারণে কক্সবাজার জেলায় সবচেয়ে বেশী পরিমান বৃহত্তর ইদগাঁও এলাকার জনগন প্রবাসে অবস্থান করছেন। দেশের অর্থনীতিতে এই এলাকার অবদান উল্লেখযোগ্য।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপি করোনা ভাইরাস এর মহামারীর কারণে ক্ষতি মোকাবেলায় আমার দেশের দয়ালু বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন।
প্রবাসী আয়ে বিশ্বে নবম স্থানে বাংলাদেশ। জিডিপির ৭ শতাংশ প্রবাসসীদের রেমিটেন্স থেকে আয় হয়।
করোনা যুদ্ধের পাশাপাশি ক্ষুধার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার।
মরহুম জসীম পরিবারের একমাত্র উর্পাজনক্ষম ব্যক্তি ও দুই কন্যা সন্তানের জনক ও তার স্ত্রী সন্তান সম্ভবা। আবু তাহেরে পরিবারের অবস্থাও তেমন ভালো নয়।
প্রবাসীবান্ধব এই সরকার প্রবাসী পরিবারের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দিবেন বলে আশা করছেন জানে আলম।
আলী রাজ পরিবহনের চেয়ারম্যান ও ঈদগাঁওর বাসিন্দা সিরাজ আকবর বলেন, অসংখ্য প্রবাসীর পাঠানো টাকার উপর নির্ভর করে চলছে পরিবার। তাদের দুর্দিনে খোঁজখবর নেয়া আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।
ব্যক্তি উদ্যোগে তাদের সাহায্য সহযোগিতার পাশাপাশি সরকারী বিশেষ ফান্ড থেকে আর্থিক প্রণোদনা দেয়া দরকার। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সিরাজ আকবর।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •