এম আর খোকন :
চলতি বোরো মওসুমে বিআর-২৮ ধানের চাষ করে কক্সবাজারে অন্তত কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির শিকার হবে বলে অভিযোগ করেছেন অসংখ্য ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের যথাযথ তদারকী না থাকা ও কক্সবাজারে আবহাওয়ার সাথে এ জাতের ধানের ফলন নিয়ে পরীক্ষামুলক কোন গবেষণা না করে বীজ বিক্রেতাদের যোগসূত্রে সরাসরি কৃষকের মাঝে বীজ বিক্রি করা এটা ভুল সিদ্ধান্ত বলেও দায়ী করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক। পাকাধান ঘরে তোলার আগেই জমিতে পোকার আক্রমণের এ দৃশ্য দেখে আশায় বুকবাঁধা কৃষকেরা বলছেন এ যেন তাদের কাছে করোনার লকডাউনে মরার উপর খাড়ার ঘা।
জানাযায়, কক্সবাজার জেলায় কৃষি বিভাগের পরামর্শে চলতি বোরো মওসুমে শতশত কৃষক এবার বি আর-২৮ ধানের চাষ করেন। অধিক ফলন ও কম সময়ে ধান পাওয়ার কথা বলায় কৃষকও উক্ত জাতের ধান চাষে ধাবিত হয়। এতে যথারীতি কক্সবাজার শহরের আলীর জাহালস্থ কৃষি বিভাগের গুদাম থেকে প্রতি বস্তায় ৩৮০ টাকা করে বীজ সরবরাহ করেন শতশত কৃষক। কক্সবাজার সদর উপজেলার কাওয়ার পাড়ার মৃত আজম উল্লাহ সিকদারের পুত্র কৃষক আবু ছৈয়দ ও মৃত মোঃ ইদ্রিস মিয়ার পুত্র মুহিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে গত বছর ডিসেম্বরে তারা ৩ কানি জমির জন্য ১১৪০ টাকা দিয়ে ৩ বস্তা বীজ ধান বিআর-২৮ ক্রয় করেন। পরবর্তীতে উক্ত ধানের যথাযথ বীজতলা থেকে শুরু করে দীর্ঘ ৩ মাস ধরে অর্ধ লক্ষটাকা ব্যয়ে অনেক যত্নে ধানের বাম্পার ফলন ঘটায়। করোনা ভাইরাসের কারনে লকডাউনের এ দুর্ভোগেও অধিক ফলন দেখে আশায় বুকবাধেঁ এসব কৃষক। কিন্ত গত ক‘দিন ধরে তাদের যত্নে লালন করা ধান চোখের সামনে মড়ক দেখে দিশেহারা হয়ে পড়ে কৃষকেরা। খুরুশকুলের রাখাইন পাড়ার কাছে সেচ পাম্প এর মালিক ওমর হাকিম বলেন তারও ২ একর ধান পোকার আক্রমনের শিকার হয়েছে। ফকির পাড়ার এডভোকেট সাইফুল্লাহ নুর বলেন এ জাতের ধানের চাষ করে তাঁরও ৫ কানি জমির ধান একেবারে শেষ হয়ে গেছে। মনোপাড়ার আবু ছৈয়দ বলেন খুরুশকুলে অন্তত ৫০ একর জমির ধান গ্যাড়ি পোকায় নষ্ট করেছে।
এদিকে, কৃষকদের এসব অভিযোগের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর উপজেলার কৃষি অফিসার গোলাম সরওয়ার তুষারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ক‘দিন ধরে এ ধরনের অভিযোগ আসছে। তিনি বলেন বিআর-২৮ জাতের ধান এক সময়ে ফলন ভাল হতো। সাম্প্রতিক সময়ে এটি কোন কোন জেলার আবাহাওয়ার সাথে সহনীয় নয়। তাই কক্সবাজারে আগামিতে এ জাতের ধানের চাষ না করতে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করা হবে বলেও জানান তিনি। একই সাথে চলমান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। এ ছাড়াও তাহার নির্দেশে উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা ছালেহ আহম্মেদ ফারুকী ১৪ এপ্রিল খুরুশকুলে ক্ষতিগ্রস্ত জমির ধান দেখেছেন এবং উপস্থিত কৃষকদের পরবর্তী করণীয় নিয়ে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •