দেলোয়ার হোসেন:
(কোভিট-১৯) করোনা ভাইরাস একদিকে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে নতুন জীবনের উদয় হচ্ছে।

আমরা মনুষ্য জাতি উন্নয়নের নাম দিয়ে যেভাবে পরিবেশকে নষ্ট করেছি, একের পর এক পাহাড় কেটেছি, গাছ কেটে বনাঞ্চল ধ্বংস করেছি, যার কোন পরীসীমা নেই। প্রকৃতির এই ধ্বংসলীলার পেছনে বেশি দায়ী হচ্ছি আমরা মানুষেরা।

তাই প্রকৃতিও আজ অভিমান করে মনুষ্য জাতির উপর করোনার মতো মহামারি ভাইরাস পাঠিয়েছে। করোনা যেমন কেড়ে নিচ্ছে মানুষের প্রাণ অন্যদিকে প্রকৃতি নতুনভাবে নিজেকে সাজিয়ে নিচ্ছে।

সম্প্রতি প্রকৃতিবান্ধব সাংবাদিক আহমদ গিয়াস ভাইয়ের ফেসবুক থেকে জানলাম, লকডাউনের কারণে মানুষের যাতায়াত না থাকায় প্রায় বিলুপ্ত হওয়া সমুদ্র লতা নির্বিঘ্নে বেড়ে উঠছে, সমুদ্রপাড়ে বিচরণ করছে গাঙচিল, ঢেউয়ের সাথে খেলা করছে ডলফিন, বালিয়াড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছে লাল কাঁকড়া, সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে মিতালী করে অবাধে বিচরণ করছে হরিণসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী।

লকডাউন এর কারণে বিশ্বের বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ অনেক কম হওয়ার ফলে প্রকৃতি তার ফুল, ফল সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে এবং বন্যপ্রাণীও ফিরে পেয়েছে তাদের বিশাল বিচরণ ক্ষেত্র।

এই দূষণমুক্ত পরিবেশ মানুষকে অনেক কিছু শিখিয়ে যাচ্ছে। তারা মনুষ্য জাতিকে বলতে চায়? মহান আল্লাহর সৃষ্টি এই পৃথিবীটা শুধু তোমাদের নয়, আমরাও এই ভূখন্ডের মালিক! আমাদেরও অধিকার আছে স্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে উঠার। হয়তো মহাবিশ্বের মালিক মহান আল্লাহ করোনা ভাইরাস পাঠিয়ে গোটা পৃথিবীকে লকডাউন করে প্রকৃতির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে মানুষকে ঘর বন্দি করে রেখেছে।

আগামী দিনে বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে আসন্ন আরও বিপর্যয়ও যৌথ ভাবে সামলাতে হবে মানুষকে। এখন সময় হয়েছে করোনা সংক্রমণ থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিয়ে আগামীর জন্য একটি পরিবেশবান্ধব পৃথীবি গড়ার।

যেখানে নির্মল স্বচ্ছ আকাশ আর সকল প্রাণীর অবাধে বিছরণ করার পর্যাপ্ত জায়গা থাকবে। তাহলে হয়তো আরও একটু ভাল ভাবে, অন্যের সঙ্গে মিলেমিশে আরো বেশী বাঁচতে পারবে মনুষ্য জাতি।

এখন অতিবেশী প্রয়োজন সবাই মিলে মিশে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিবেশবান্ধব পৃথিবী গড়া। যার সুফল আমরা না পেলেও আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে। পরিবেশকে বাঁচালে আমরাও বাঁচবো।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সবাইকে বিপদমুক্ত রাখুক। আমিন

আমার স্বল্প অভিজ্ঞতাই যেটা মনে হয়েছে সেটাই আমি লিখেছি। ভুল ত্রুটি মার্জনীয়

দেলোয়ার হোসেন
ক্ষুদ্র চিন্তুক, কক্সবাজার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •