মুহাম্মদ ছলিম উল্লাহ সুজন

বিশ্বব্যাপী মহাভয়াল করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো- ঘরে থাকি, পরিবারকে #cb#নিরাপদে রাখি এবং দেশকে ভয়াল পরিণতি থেকে রক্ষা করি।

এ লক্ষে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করলেও সাধারণ জনগন কোন তোয়াক্কা না করে যখন-তখন, যেখানে-সেখানে খেয়াল-খুশি মতো প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে বিচরণ করে দেশ ও জাতিকে মহা বিপদের দিকে অগ্রসর করছে। বিভিন্ন এলাকাকে লকডাউন, চলাচলে সীমিত করণ করার পরও আমরা সজাগ হতে পারছি না। ইহা আমাদের চরম মূল্য দিতে হবে।

এই ভাইরাসটি এত ভয়ানক যে, যখন আপনি একবার এই রোগে সনাক্ত হবেন, আপনার কাছ থেকে এই পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের ব্যক্তিই ( মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন, আত্বীয়-স্বজন) আপনাকে দেখতে পারছে না। হয়ত রোগ সনাক্ত হওয়ার আগ মূর্হূত পর্যন্ত আপনার সাথে হয়তো শেষ দেখা, মায়া-মমতা, ভালবাসা।

কারণ, আপনি এই রোগে আক্রান্ত হলেই ( আল্লাহ আমাদের মাফ করবেন) আপনাকে সবার কাছ থেকে আলাদা করে ফেলা হচ্ছে। আপনার থেকে আপনার পরিবার-পরিজনকে নিরাপদ করার জন্য একমাত্র উপায় হওয়াতে।

এতে শেষ নয়, আল্লাহর হুকুম হলেই আপনি চলে যাচ্ছেন- না ফেরার দেশে। তাতেও, সেই মায়া-মমতা, চিরস্থায়ী –বান্ধন, আপনার ( মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন, আত্বীয়-স্বজন) আপনাকে শেষ বিদায় জানাতে পারছে না। এতে দ্বিমত থাকলেও বাস্তবতার আলোকে বিশ্বে এবং দেশে যারা মৃর্ত্যু বরন করেছে, তাদের দিকে থাকালে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

দেশকে আমরা সবাই ভালবাসি, কিন্তু মন থেকে ভালবাসি না। কারণ, আপনার/আমার নিরাপত্তার জন্য,

কেন প্রশাসন আমাকে বিধি-নিষেধ আরোপ করবে?

কেন প্রশাসন দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ করবে?

কেন প্রশাসন চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য তাগাদা দেবে?

সবাই কে একদিন চলে যেতে হবে, এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে এভাবে কেন? কেন মানুষকে কষ্ট দিয়ে অর্থ উর্পাজন করবো? কেন আমি ডাক্তার হয়ে মানুষকে সেবা না দিয়ে কষ্ট দেবো?

কথায় আছে- অভাব যখন কাছে আসে, ভালবাসা তখন জানালা দিয়ে পালাই। তাই মানুষ দু-বেলা খাবারের জন্য কোন আইন-আদেশকে তোয়াক্কা না করে ঘরের বাহিরে অবাধে বিচরন করছে, এত পরিবার ও দেশ ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। আমরা সবাই, সবার স্থান থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই এবং পরিবার ও দেশকে মহাভয়াল পরিণতি থেকে রক্ষা করি।

সাহায্যের নামে যত্র-তত্র মানুষকে জড়ো করা থেকে বিরত থাকি। সরকারের আদেশ-নিষেধকে মান্য করি। সামান্য ক্ষতি বা ক্ষুধার জন্য পরিবার ও দেশকে বিপদে না ফেলি। এই দেশ আপনার-আমার সবার। দেশকে রক্ষা করা সবার অধিকার।

এই মহামারি সংকট শুধুমাত্র বাংলাদেশে নয়, সারাবিশ্বব্যাপী এই মহামারি সংকটের উত্তরনের জন্য প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হই। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চাই। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের ক্ষমা করুন। আপনি ছাড়া এই মহামারি থেকে আমাদের উত্তরনের আর কেউ নেই।

পরিশেষে আবারও বলি, ঘরে থাকি, পরিবার ও দেশকে নিরাপদ রাখি।

ভাইরাসটা কী?

আসলে করোনাভাইরাস এমন একটি পরজীবী সংক্রামক ভাইরাস – যা এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি এবং ইহা এতটা মারাত্বক ছোঁয়াছে, খুবই অল্প সময়ে মানুষকে দূর্বল করে ফেলে এবং বিপদের দিকে ঠেলে দেয়।

সারাবিশ্বে এরই মধ্যে প্রায় ২১১টির বেশি দেশে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৬৬ জন, প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৬৯৭।

ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯ – এনসিওভি বা নভেল করোনাভাইরাস। এটি এক ধরণের করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ছয়টি প্রজাতি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। তবে নতুন ধরণের ভাইরাসের কারণে সেই সংখ্যা এখন থেকে হবে সাতটি।

২০০২ সাল থেকে চীনে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া সার্স (পুরো নাম সিভিয়ার এ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) নামে যে ভাইরাসের সংক্রমণে পৃথিবীতে ৭৭৪জনের মৃত্যু হয়েছিল আর ৮০৯৮জন সংক্রমিত হয়েছিল। সেটিও ছিল এক ধরণের করোনাভাইরাস।

নতুন এই রোগটিকে প্রথমদিকে নানা নামে ডাকা হচ্ছিল, যেমন: ‘চায়না ভাইরাস’, ‘করোনাভাইরাস’, ‘২০১৯ এনকভ’, ‘নতুন ভাইরাস’, ‘রহস্য ভাইরাস’ ইত্যাদি।

এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগটির আনুষ্ঠানিক নাম দেয় কোভিড-১৯ যা ‘করোনাভাইরাস ডিজিজ ২০১৯’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।

রোগের লক্ষণ কী:

*রেসপিরেটরি লক্ষণ ছাড়াও জ্বর, কাশি, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষণ।

*এটি ফুসফুসে আক্রমণ করে।

*সাধারণত শুষ্ক কাশি ও জ্বরের মাধ্যমেই শুরু হয় উপসর্গ, পরে শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়।

*সাধারণত রোগের উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচ দিন সময় নেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভাইরাসটির ইনকিউবেশন পিরিয়ড ১৪দিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। তবে কিছু কিছু গবেষকের মতে এর স্থায়িত্ব ২৪দিন পর্যন্ত থাকতে পারে।

মানুষের মধ্যে যখন ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেবে তখন বেশি মানুষকে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকবে তাদের। তবে এমন ধারণাও করা হচ্ছে যে নিজেরা অসুস্থ না থাকার সময়ও সুস্থ মানুষের দেহে ভাইরাস সংক্রমিত করতে পারে মানুষ।

শুরুর দিকের উপসর্গ সাধারণ সর্দিজ্বর এবং ফ্লু’য়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্থ হওয়া স্বাভাবিক।

সুরক্ষার উপায় কীঃ

সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করে আপনি এই ভাইরাসটির সংক্রমণ ও বিস্তারের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পারেন।

১. হাত ধোয়াঃ ঘন ঘন ভাল করে সাবান বা অ্যালকোহল-জাতীয় হ্যান্ড-রাব দিয়ে হাত ধুতে হবে এবং হাত ধুতে সবাইকে সবাইকে উৎসাহিত করা।

২. হাঁচি কাশির পরঃ হাঁশি কাশির সময় অবশ্যই টিস্যু ব্যবহার করা এবং ব্যবহৃত টিস্যু নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা অথবা ডিজপোজেবল করা।

৩. টয়লেট ব্যবহারের পরঃ টয়লেট ব্যবহারের পর অবশ্যই সাবান বা অ্যালকোহল-জাতীয় হ্যান্ড-রাব দিয়ে হাত ধোয়া।

৪. মাস্ক ব্যবহার করাঃ করোনাভাইরাস থেকে রক্ষার জন্য অন্যতম হাতিয়ার হলো মাস্ক ব্যবহার করা। করোনাভাইরাস একটি পরজীবী ভাইরাস। ইহা মানুষের সারা শরীরে সহজে আক্রমণ করতে পারে না। তবে নাকে এবং মূখের ভেতরে কোন ভাবে প্রবেশ করতে পারলেই সহজে একজন মানুষকে দূর্বল করে ফেলে। শরীরে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গকে দূর্বল করে দেয় এবং মৃর্ত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

মাস্ক ব্যবহারে উপর স্বাস্থ্য মন্ত্রক এ ব্যাপারে নির্দেশিকা জারি করেছেঃ

স্বাস্থ্য মন্ত্রক এ ব্যাপারে নির্দেশিকা জারি করেছে। এই নির্দেশিকা অনুসারে, সবারই মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই। মাস্ক ব্যবহার করুন যদি–

• আপনার উপসর্গ (কাশি, জ্বর বা শ্বাসকষ্ট) থাকলে।

• কোনও করোনা-আক্রান্তের সেবা করছেন।

• আপনি একজন স্বাস্থ্যকর্মী এবং শ্বাসজনিত সমস্যা নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করছেন।

মাস্ক পরার সময় খেয়াল রাখবেন–

• মাস্কের প্লিটগুলি এমনভাবে খুলতে হবে, যাতে তার মুখ নীচের দিকে থাকে।

• প্রতি ৬-ঘণ্টা অন্তর বা ভিজে গেলে মাস্ক পরিবর্তন করুন।

• নিজের মুখ, নাক ও চোয়ালের ওপর মাস্কটি ধরুন। নিশ্চিত করুন যাতে মাস্কের দু-ধারে কোনও ফাঁক-ফোঁকর যেন না থাকে।

• মাস্ক যাতে মুখের সঙ্গে সেঁটে থাকে তার জন্য প্রয়োজনে তা ছোট বা বড় করে নিন।

• ডিজপোজেবল মাস্ক কখনই পুর্নব্যবহার করবেন না। ব্যবহারের পর যথাযথ জায়গায় জীবাণুমুক্ত করে মাস্কগুলি ফেলে দিন।

• ব্যবহারের সময় মাস্কে হাত দেবেন না।

• মাস্ক খোলার সময় তার বাইরের স্তরে হাত লাগাবেন না।

• মাস্ক গলা থেকে ঝুলিয়ে রাখবেন না।

• মাস্ক খোলার পর ভাল করে সাবান বা অ্যালকোহল-জাতীয় হ্যান্ড-রাব দিয়ে হাত ধুতে হবে।

লেখক : সম্পাদক ও সিইও ওয়ান নিউজ ডট কম ডট বিডি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •