প্রথম আলো:

ভোলার লালমোহন উপজেলায় ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেছে দরিদ্র জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি চাল। আজ রোববার সকালে উপজেলার বদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যের বসতঘর থেকে এসব চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সরকারি জরুরি সেবা কেন্দ্রের ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে লালমোহন থানার পুলিশ বদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. জুয়েলের ঘরের খাটের নিচের মাটি খুঁড়ে সাত বস্তা চাল জব্দ করে। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. জুয়েল পলাতক। তবে তাঁর বাবা সাবেক ইউপি সদস্য নান্নুকে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর খায়রুল কবীর বলেন, ট্রিপল নাইনে ফোন পেয়ে বদরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. জুয়েলের ঘরে মাটি খুঁড়ে পাঁচ বস্তা ও ঘরের পেছন থেকে আরও দুই বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। জুয়েলকে না পাওয়ায় তাঁর বাবা নান্নুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি খাদ্য অধিদপ্তরের নাম লেখা সাতটি খালি বস্তা ও সাতটি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে একই ইউনিয়ন পরিষদের পাশে দুটি বাড়ি ও গাছের গুঁড়ির ভেতর থেকে ১৫ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফরিদুল হক তালুকদার, তাঁর ভাতিজা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ওমর ফারুক তালুকদার ও একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলামসহ চারজনকে আসামি করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করেন। পরে পুলিশ ইউপি সদস্য ওমর ফারুক তালুকদারকে গ্রেপ্তার করে।

জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চাল কম দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল হক তালুকদার বলেন, জব্দ করা সব চাল জেলেদের। জেলেরা চাল বিক্রি করেছেন। তিনি এক মাসের চাল বিতরণ করেছেন, আরও এক মাসের চাল বিতরণ করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •