ইমাম খাইর, সিবিএন:
কক্সবাজার জেলায় মোট ৬৩১ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইন এবং ৫২ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে । কোয়ারেন্টাইন হতে আজ অবধি ছাড়প্রাপ্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৪৭৩ জন।

১২ এপ্রিল পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদন অনুযায়ী এতথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ জন। ঢাকাস্থ কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তিনি গত ৫ এপ্রিল সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

১ মার্চ থেকে কক্সবাজার জেলায় বিদেশ প্রত্যাগত ২০০২ জনের মধ্যে থেকে ১১২১ জন প্রবাসীর ঠিকানা ও অবস্থান জেলা প্রশাসন কর্তৃক চিহ্নিত করা হয়েছে। এ যাবৎ কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কক্সবাজার জেলায় কেউ মৃত্যুবরণ করেননি।

কোভিড-১৯ চিকিৎসায় জেলার প্রস্তুতিঃ
কক্সবাজার জেলার ০৮ টি সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র বা হাসপাতালে মোট বেড রয়েছে ৫৫৫ টি। তন্মধ্যে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় ১৭৬ টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসকল চিকিৎসাকেন্দ্র মোট ১৩৪ জন ডাক্তার ও ১৯৫ জন নার্স দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি হাসপাতাল সমূহে মোট ১৫৪৬ পিস ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী বা পিপিই বিতরণ করা হয়েছে এবং ২৮১৫ পিস পিপিই মজুদ রয়েছে। এ জেলায় ২৯ টি বেসরকারি হাসপাতালে মোট বেড রয়েছে ৮৪২ টি এবং কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১০৬ টি। বেসরকারি হাসপাতাল সমূহে মোট ১০৭ জন ডাক্তার ও ৮০ জন নার্স কর্মরত রয়েছেন। বেসরকারি হাসপাতাল সমূহে মোট ১১০৫ পিস ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী বা পিপিই মজুদ রয়েছে এবং ৩৯৫ টি পিপিই ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির জরুরি চিকিৎসায় স্থানান্তরের নিমিত্ত ১১ টি পৃথক অ্যম্বুলেন্স এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চিকিৎসা কেন্দ্রসমূহে আইসোলেশন ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকলেও রামু উপজেলায় নবনির্মিত হাসপাতালের একটি নতুন ভবনে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট আইসোলেশন ইউনিট এবং চকরিয়া উপজেলায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট আরো ০১ টি আইসোলেশন ইউনিট জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলার সরকারি সহায়তা পরিস্থিতিঃ
কোভিড-১৯ এর কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া অতিদরিদ্র দিনমজুর শ্রেণির মানুষদের জরুরি প্রয়োজনে খাদ্য সহায়তা প্রদানের নিমিত্ত কক্সবাজার জেলায় ৫৭৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ ২৮ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা এবং শিশু খাদ্য বাবদ নগদ ৬ লক্ষ টাকা মজুদ রয়েছে। এছাড়াও, ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রয়ের জন্য মজুদ রয়েছে ২৬১৯.১৬ মেট্রিক টন চাল। ইতোমধ্যে ৩৪,০০০ পরিবারের নিকট ৪৯০ মেট্রিক টন খাদ্য সহায়তা ও ৬,৬০০ পরিবারকে ১৪ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকার নগদ অর্থ বিতরণ এবং ৯৪,৮৭৭ টি পরিবারের নিকট ১০ টাকা দরে প্রতি পরিবারকে ৩০ কেজি করে ৬৬.৯৫ মেট্রিক টন চাল বিক্রয় করা হয়েছে। আজ ১২ এপ্রিল নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট হতে প্রেরিত বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের স্কুল ‘অরুণোদয়’ এর ৫৯ জন অসহায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুর পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

কক্সবাজার জেলায় করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারনা, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রোধে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে যৌথ অভিযান/টহল পরিচালনাসহ কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক সকল কার্যক্রম জেলা প্রশাসন কর্তৃক পরিচালনা করা হচ্ছে। এ দুর্যোগ মোকাবেলায় সকল শ্রেণিপেশার মানুষ, সুশীল সমাজ, সাংবাদিকবৃন্দ সহ সর্বস্তরের জনগনের অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •