ইমাম খাইর, সিবিএন ##
চকরিয়া উপজেলার কাকারা ৩ নং ওয়ার্ডের লুটনী সংলগ্ন মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত ৩টি ড্রেজার মেশিন নদীতেই ধ্বংস করা হয়েছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ড্রেজারগুলো ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়।
তবে, বালু উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের কাউকে আটক বা মোবাইল কোর্টে জরিমানা করতে পারেন নি অভিযানকারী কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, ‘মাতামুহুরী নদী থেকে ইজারাবিহীন বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক এসিল্যান্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রদান করি। তিনি ঘটনাস্থলে গেলে অভিযোগের সত্যতা পান। এ সময় নদী থেকে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ৩টি ড্রেজার মেশিন বিনষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।’
ইউএনও বলেন, ‘আইন ও পরিবেশ বিরোধী যে কোন ধরণের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে। আইন অমান্যকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
এদিকে, কাকারা লুটনী সংলগ্ন মাতামুহুরী তীরবর্তী এলাকার মানুষজনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে কক্সবাজার নিউজ ডটকম (সিবিএন)-এ সংবাদ প্রকাশিত হয়।
রবিবার (১২ এপ্রিল) ‘হুমকিতে জনপদ ও ফসলি জমি: মাতামুহুরীর দুই পয়েন্টে ইজারাবিহীন বালু উত্তোলন’ শিরোনামের সংবাদটি প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়।
এর পরই সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হোসেনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলেন ইউএনও নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান। নির্দেশ বাস্তবায়নে তিনি আর বিলম্ব করেন নি।
প্রশাসনের সময়োপযোগী এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছে প্রভাবশালীদের কারণে মুখ খোলতে না পারা মানুষগুলো।
ইউএনও, এসিল্যান্ডসহ অভিযান সংশ্লিষ্টদের জন্য অনেকে হাত তুলে দোয়া করেছে।
করোনা পরিস্থিতির সুযোগে মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে চলছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
যে কারণে নদীর কিনারার বিস্তীর্ণ জনপদ ঘেঁষে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের কারণে বসতিগুলোও পড়েছে হুমকির মুখে। কমে যাচ্ছে নদী চরের খেতখামার। জীবন জীবিক নিয়ে শঙ্কিত সাধারণ মানুষ।
বালুখেকোদের কাছে অসহায় মানুষগুলো পারছে না বাঁধা দিতে, না পারছে প্রতিবাদ করতে। কেউ ‘মৃদু প্রতিবাদ’ করলে তাকে এলাকাছাড়া করার হুমকি দেয়।
ড্রেজার মেশিন বসিয়ে রাতভর তুলা হয় বালু। উত্তোলিত বালু পাহারা বসিয়ে ভোর সকালে ট্রাক, ডাম্পারে করে নিয়ে যাওয়া হয় নির্দিষ্ট গন্তব্যে। প্রতিদিন সকাল ৯ টা নাগাদ দুই পয়েন্টে বালু উত্তোলন চলে।
পয়েন্ট দু’টির একটি হলো- কাকারা বটতলী থেকে সোজা দক্ষিণ। আরেক পয়েন্ট- দরগাহ রাস্তার মাথা থেকে দক্ষিণে সোজা রোডের শেষ সীমানায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফরিদুল আলম ও ড্রাইভার আবদুল মান্নান নামের দুই ব্যক্তি বালু উত্তোলনে সরাসরি জড়িত। তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে শ্রমিক, ট্রাক, ডাম্পার, ড্রেজারি মেশিন। যোগাযোগ রক্ষ করে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে। প্রশাসন বা ‘উপরিওয়ালার চাপ’ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান শওকত উসমানের। তাই প্রাকৃতিক পরিবেশ ও গ্রামীণ জনপদ হুমকিতে পড়লেও নিরাপদে চলছে বালু উত্তোলনের কাজ।
স্থানীয়দের ভাষ্য হলো -মাতামুহুরী কিনারা থেকে বালু উত্তোলনের কারণে সৃষ্ট গর্তে ডুবে গত ৭ এপ্রিল ইসমা জন্নাত (১৩) আসমাউল হুসনা (১০) দুই ছাত্রী মারা যায়। এর আগেও অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বালুখেকোদের কারণে বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও রহস্যজনক কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বালু সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী সদস্যরা।
অথচ, অভিযুক্ত ফরিদুল আলম নিজেই স্বীকার করেছেন, দিনে ৫০ ট্রাক মতো বালু উত্তোলন করা হয়। চেয়ারম্যান শওকত উসমান ও তার এক ভাগ্নে সবকিছু দেখভাল করেন।
স্থানীয়দের দাবী, তাদের জীবন জীবিকার নিরাপত্তার স্বার্থে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হোক। না হলে বিস্তীর্ণ জনপদ নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। হারিয়ে ফেলবে নদীর তীরের খেতখামার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •