তানভিরুল মিরাজ রিপন

ধলঘাটা ইউনিয়ন নিয়ে হয়তো জানেন না অনেকে। জানেন যোগাযোগ ব্যবস্থা কতটা জঘন্য ছিল । ইলেক্ট্রিসিটি ছিল না ।কোমর পর্যন্ত পানিতে হেটে গিয়ে ওঠতে হতো নৌকায় পারাপারের জন্য । শিক্ষিত মানুষের হার ছিল না ।প্যারাবন কেঁটে মরুভূমি করে ফেলেছিলো । গাড়ি ঘোড়া চলতো না । এরকম একটি জনপদের ত্রাতা হয়ে মানুষের জন্য বর্তমান চেয়ারম্যান কামরুল হাসান। তবে তার আগে দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা যাক।

বাংলাদেশের সংকটাপন্ন সময়ে ব্যবসায়ীরা যেমন মানুষের বিপদকে ঘিরে অতি মুনাফা আদায় করেন। এখনের জনপ্রতিনিধিরাও তাই, ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি অথবা নিজেই ব্যবসায়ী হয়ে জনগনের দূঃখ দূর করার চেয়ে জনগনের বিপদকে মুনাফা পাওয়ার সব থেকে সুন্দর পথ বলে মনে করেন। তাই করোনা’র এই কঠিন সময়েও জনপ্রতিনিধিরা চাল,ডাল,আলু নিজের গুদামঘরে জমিয়ে রাখছেন; ত্রান না বিলিয়ে; ত্রান সঠিক সমেত সরবরাহ না করে রেখে দিচ্ছেন অহরহ। চাল চোর ধরা পড়েছে। মিডিয়া পাড়ায় খবর হয়েছে ২০০ জনেরও অধিক চাল চোর । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর’ই নেতৃত্বে সংগঠনের তরফ থেকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ‘এ সময়ে ত্রান নিয়ে নয়/ছয় ( দুর্নীতি ) করলে কঠোর শাস্তি পেতে হবে ‘। এ কঠিন সময়টিতে যেনো জনপ্রতিনিধিরা চাল জমিয়ে করোনা বিপর্যয় কাটিয়ে দিবেন। হাস্যকর বিষয়গুলো ঘটছে এ ঘোর বিপদের সময়।প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ‘ এপ্রিল মাসটা কঠিন সময় আমাদের জন্য ‘। জনগনের পাশে দাড়াতে হবে। দেশের নানান জন, নানান বিত্তবান, নানান সামাজিক সংগঠন, নানান কোম্পানি এগিয়ে আসছে এ ঘোর বিপদে দরিদ্র্য মানুষের পাশে দাড়াতে। দলমত নির্বিশেষে। ঘোর বিপদকে উৎসব হিসেবে নিয়ে লুট করার লোক যেমন দেখা দিয়েছে তেমনই জনগনের পাশে দিনকে দিন পাশে থাকার মানুষও আছে।

এখন ঘোর কঠিন সময়। পুরো বিশ্বব্যাপী করোনা-১৯ এর থাবা পড়েছে। দিন দিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সারি । রাজ রাজড়া, প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট, ধনী গরীব সবার’ই আতংক হয়ে দাড়িয়েছে ‘কভিড১৯ ‘ ভাইরাস। মহামারী থেকে বিশ্ব মহামারীতে রূপ নিয়েছে, আলোর গতির মতো বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। উন্নত দেশগুলো হিমশিম খাচ্ছে পরিস্থিতি সামাল দিতে । এ লেখাটি লেখার সময়ে সমস্ত দুনিয়াজুড়ে ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৪৩৩ জন করোনা রোগী। মারা গিয়েছে সমস্ত দুনিয়ায় ১ লাখ ৮ হাজার ৮৩৪ জন। বাংলাদেশে ১১/০৪/২০২০ইং’তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেব মতে গত ২৪ ঘন্টার রোগী সহ দেশে সর্বমোট করোনা রোগী ৪৮২ জন। মারা গিয়েছেন ৩০ জন। আরও ঘোর বিপদ আসন্ন। কবর দেওয়ার মানুষ খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নিজের আত্মীয় স্বজনই জানাজায়, ধর্মীয় শেষকৃত্যে থাকতে পারছে না। এটি খুবই দূঃখের।

কামরুল হাসান। মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান। পারিবারিক প্রেক্ষাপট থেকে’ই তাঁদের পরিবার জনপ্রতিনিধি হওয়ার একটা ঐতিহাসিক রেওয়াজ আছে, বলতে পারেন ইতিহাস। মানুষের কাছে প্রজন্মান্তরে সমানে জনপ্রিয়। একটি ঘূর্ণিঝড় প্রবণ এবং দুর্যোগপূর্ণ জনপদ ধলঘাটা। মানুষের এক সময়কার প্রধানতম পেশা সামুদ্রিক মৎস আহরণ; লবণ চাষ; চিংড়ী চাষ; শুঁটকী’ই হলো ৫৫১১ একরের এ ইউনিয়নের প্রধান পেশা। ইউনিয়নটিতে ১২ রকমের চিংড়ি উৎপাদন হয়। যা জাতীয় মৎস ভিত্তিক আয়য়ে অনেক বড় একটি ভূমিকা রাখে। এক সময় আয়তনে ও জনসংখ্যায় ধলঘাটার মানুষের সারি অনেক থাকলেও এখন ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বঙ্গোপসাগরের দখলে চলে গিয়েছে দুই তৃতীয়াংশ আর জনসংখ্যা দাড়িয়েছে ২০১১ এর শুমারির তথ্যমতে ২০,০০০ জন। এ কুড়ি হাজার জনের এখন এ সময়টির আস্থার একমাত্র মানুষ কামরুল হাসান।

তিনি ২০১৬ সালে নৌকা মার্কা প্রতীকে নির্বাচন করে জয়ী হলেন – তাঁর একটি সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য আমার যেতে হয়েছে ধলঘাটা। সকাল ৮.০০ টায় তার ফোনকলে আমি তাঁর বাড়িতে গিয়ে পৌছলাম। বাপ দাদার ভিটেমাটি বঙ্গোপসাগর গিলে ফেলেছে, যা আছে তা অল্প। জনগনের সুরক্ষার জন্য তারও কিছু অংশ ছেড়ে দিতে হয়েছে বেড়ীবাঁধের জন্য। ২০০৭ সিডরের তান্ডব, ভয়াবহ লীলার সারা বাংলাদেশের সকলের জানা। উপকূলের মানুষের সৌন্দর্য কেঁড়ে নিয়েছে এ সিড়র। তখন জল থৈ থৈ করছে চার পাশে। বেড়ীবাঁধ ভেংগে জোয়ারের পানিতে থলিয়ে যাচ্ছে একেরপর এক পাড়া,গ্রাম। শরই তলার মানুষগুলো উদ্ভাস্তু হলেন।চোখের সামনে শৈশবের বন্ধুদের কোথাও কোথাও চলে যেতে দেখছি। এ যেনো মায়া কেড়ে নিয়েছে নির্মমভাবে। তখনও দেশে জনপ্রতিনিধি ছিল তিনি জেলা শহরের বাড়িতে বসে থাকলেন।খবর নিলেন না। ঠিক ১৯৬০ এর মত পাকিস্তান সরকার যে কান্ডটি করলেন মকবুল চেয়ারম্যানও তাই করলেন। দূঃখ দূর্দশাতে যেনো এ দ্বীপটির মানুষ অভিভাবকহীন, সম্বল নেই,কাঁধে হাত দিয়ে পাশে দাড়ানোর মানুষ যোনো শূন্য। কেউ নেই। চোখের সামনে ডুবে গেলো ঘর,জায়নামাজ ভেসে গেলো, মসজিদ নাই হয়ে গেলো। না আর কেউ পাশে দাড়ালো না। বেড়ীবাঁধের টাকা কড়ি খেয়ে হামিদুর রহমান আজাদও গায়েব, মকবুল চেয়ারম্যানও তাই।তখন কামরুল হাসান তরুণ। ত্রাতা হয়ে দাড়ালেন। সাহস জুগিয়েছেন অভিরত। দ্বীপের মানুষগুলো ফিরে পেলো তাদের আস্থার মানুষ৷ হয়তো হুঁচট খেয়েছেন দু’বার। তৃতীয়বারে তিনি দাড়ালেন জনপ্রতিনিধি হয়ে। ফুলের মালা দিয়ে বরন করলেন অভিভাবকহীন মানুষগুলো। ক্রমান্বয়ে তিনি সবুজ ফিরে আনলেন। বাঁধ দিলেন জোয়ারের পানিতে ডুবছে না। রাস্তা ঘাট, নৌ পথ ঠিক করলেন। দীর্ঘজনম ইলেকট্রিসিটি না পাওয়া মানুষগুলোকে এনে দিলেন আলোর বাতি। ভূ-মি অধিগ্রহণের ন্যায্য দামটার জন্য লড়ে গিয়ে ফিরিয়ে আনলেন ন্যায্য মূল্য। দ্বীপটির দুর্নীতি বাজদের হিসেব দিতে গেলে অন্য আরেকটি লেখা অবতরণ করতে হবে। কক্সবাজার সাবেক জেলা প্রশাসক ও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আহসান উল্লাহ বাচ্চু ইউনিয়নটিকে বানিয়ে ছিলেন খুনের,ত্রাসের অভয়ারণ্য। দিনদুপুরে খুন, রাহাজানি, সাথে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে কোটি টাকার দুর্নীতি। মামলা হয়ে আসামীও হলেন, জেলও খাটলেন। সরকার সবসময়ই এ প্রান্তিক মানুষগুলোর পাশে দাড়িয়েছেন। দাঁড়িয়েছেন ঘোর বিপদে। বরাদ্দ করলেন বাজেটও। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজন, দালাল ঘরানার রাজনৈতিক নেতা সবাই মিলে ভাগ করে খেয়েছেন সরকারের বরাদ্দ। তা থেকে মুক্তি দিলেন কামরুল হাসান। কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের অর্ধেক ধলঘাটায় পড়ার পরেও সেটি থেকে ধলঘাটা নামটি বাদ যাবে কেনো? বন্দরের কাজ শুরু হবে বন্দরের নাম নিয়ে করলেন আন্দোলন । একজন সুশিক্ষিত জনপ্রতিনিধি এভাবে একটি দেশকে ভরে তুলেন সুন্দরে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে।

তানভিরুল মিরাজ রিপন

করোনায় প্রত্যেকদিন তিনি ত্রান দিচ্ছেন তার এলাকার মানুষদের।ঘরে ঘরে গিয়ে বোঝাচ্ছেন করোনার মহামারী নিয়ে। রাত দিন এক করে সার্বক্ষণিক মসজিদের ইমাম, জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এ বিপদের আগামবার্তা দিচ্ছেন। তারও সংসার, সন্তান স্ত্রী আছে। বছরে হয়তো অল্পটুকু সময় তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানকে দেন।সুশিক্ষিত জনপ্রতিনিধিদের পাশে আমাদের দাড়াতে হবে নিঃস্বার্থে। তিনি মাত্র চার বছরে একটি বিকলাঙ্গ জনপদকে শিক্ষার হার বাড়িয়ে ৩৫% করেছেন। শোক দিবস কি? পয়লা বৈশাখ কি? স্বল্প করে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। নিচ্ছেন বলেই দেশব্যাপী তাঁর খ্যাতি। তিনি পুরস্কৃত হয়েছে দু’বার। দেশের শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান (জনপ্রতিনিধি) হিসেবে। একটি জরাগ্রস্ত, হতাশাপ্রবন এলাকার মানএষগুলো জানতো না ইতিহাস কি, সংস্কার,কু সংস্কারের তফাৎ জানতো না। এখন স্কুলে যাওয়া বাচ্চাদের সংখ্যা বাড়ছে মানুষের অভাব কমেছে। মানুষ সমৃদ্ধি বেড়েছে।

লেখক: টকশো উপস্থাপক

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •