ইমাম খাইর, সিবিএনঃ
কক্সবাজার জেলা লকডাউন ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনের অবগতির বাইরে পাড়া-মহল্লা, সড়কে উপসড়কে ব্যাপক ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়েছে।
এসব জঞ্জালের কারণে জরুরি মুহূর্তে কোন যানবাহন যাতায়াত করতে পারছে না। হাসপাতালে নেয়া যাচ্ছেনা রোগীদের।
বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এ্যাম্বুলেন্স, জরুরি ওষুধ ও মেডিকেল পণ্য আনা নেওয়া।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অবগতির বাইরে বাঁশ, কাঠ দিয়ে যত্রতত্র ব্যারিকেড কতটুকু আইনসিদ্ধ ও যৌক্তিক প্রশ্ন রাখে।
অথচ, জরুরি প্রয়োজনে চলাচল বিঘ্নিত করে নিজ উদ্যোগে অভ্যন্তরীণ সড়কে ব্যারিকেড না দেয়ার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন।
ডিসির নির্দেশ সত্ত্বেও কক্সবাজার শহরের মূল সড়ক বাদে প্রায় সব উপসড়কে প্রচুর পরিমাণ ব্যারিকেড লক্ষ করা গেছে।
অনেকটা জিম্মি করে রাখা হয়েছে পাড়া-মহল্লা গুলোকে।
এসব এলাকায় জরুরি গ্যাস, পানীয় জল, নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার, বাজার নিয়ে গাড়ি ঢুকতে পারছে না।
লকডাউন এরপর থেকে শহরের চেয়ে গ্রামের চিত্র আরো কঠিন হয়ে গেছে। যে কারণে অভিভাবকহীন গৃহকর্ত্রীরা চরম বেকায়দায় রয়েছে।
কক্সবাজারের সামাজিক আন্দোলনের সংগঠক এইচএম নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, লকডাউনের নামে রাস্তা বন্ধ করে ভেতরে অপরাধীরা অপরাধ কর্ম সারছে। বাঁশ-গাছ দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে মূলতঃ অপরাধীরাই নিজেদের নিরাপদ রাখছে।
তিনি জানান, ব্যারিকেডের আড়ালে চায়ের দোকানে আড্ডা, অপরাধীদের অবাধ বিচরণ, মাদক বেচাকেনাসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড চলছে।
বিশেষ করে মাদক কারবারীরাই তাদের মাদক ব্যবসা নিরাপদ করতে কৌশলে ব্যারিকেড দিয়েছে।
সম্প্রতি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শবে বরাতের রাতে গরু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও রাস্তার উভয়পাশে ব্যারিকেড দিয়ে শহরে পাড়ায় পাড়ায় অন্তত দুই শতাধিক গরু জবাই হয়েছে। মানুষ নিরাপদ থাকার জন্য যে যার মত বাসায় অবস্থান করবেন। ব্যারিকেড দিয়ে জরুরি প্রয়োজনে চলাফেরায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কোন যৌক্তিকতা নেই।
শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকা থেকে কায়েদে আযম জানিয়েছেন, তার এলাকায় ২০ টির বেশী ব্যারিকেড হবে। স্বেচ্ছাশ্রমে লকডাউন করেছে স্থানীয়রা।
তিনি জানান, লকডাউনকৃত এ সব এলাকার সড়কগুলো বাঁশ ও গাছ দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়েছে।
তবে এই লকডাউন নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করছে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এভাবে লকডাউন ঠিক আছে।
অনেকে আবার বলছে, এভাবে রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করলে জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থার গাড়িগুলো চলাচলে বাঁধার সৃষ্টি হবে।
কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও থেকে আলমগীর জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা উচিত। কিন্তু যারা বিভিন্ন এলাকায় এভাবে স্বেচ্ছাশ্রমে লকডাউন করেছেন তারা অনেক ক্ষেত্রে ঠিক করে নি। যেভাবে সড়কগুলোতে বাঁশ ও গাছ দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়েছে তাতে জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর যানবাহন চলাচলে বাঁধার সৃষ্টি হতে পারে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, হঠাৎ আপনার এলাকায় আগুন লাগলো, ফায়ার সার্ভিস আসতে পারবে?
গভীর রাতে একজন রোগীকে গাড়িতে করে হাসপাতালে নিতে হবে, পারবে তো?এলাকায় চুরি ডাকাতি, মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে সময়মত পুলিশের গাড়ি ঢুকতে পারবে তো?
রাস্তা বন্ধ করে গ্রামে আড্ডা দিবেন, সেনা বাহিনী, পুলিশ যেতে পারবে তো?
লকডাউন মানে রাস্তাঘাট বন্ধ করা নয়।
ঘরের দরজা বন্ধ করে সময় কাটানো, নিজে নিরাপদ থাকার নাম লকডাউন।
কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর নতুন অফিসের বাসিন্দা এসকে জাকের জানিয়েছে, রেরলাইনের রাস্তা সবখানে খুঁড়ে দিয়েছে। গাছ-বাঁশ দিয়ে প্রতিটা রাস্তা ব্লক করা হয়েছে। জরুরী প্রয়োজনেও চলাচল বন্ধ।
তার মতে, করোনার চাইতেও এলাকার রাস্তা সমূহের করুন অবস্থা।
আরিফ আহমেদ আরিফ জানান, লকডাউনের নামে রাস্তা বন্ধ করে দেয়া অতিউৎসাহী কিছু পোলাপাইনদের ফাইজলামি ছাড়া কিছুই না। তাতে জনভোগান্তি বাড়ছে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার চেয়ারম্যান বা জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ জরুরী মনে করেন তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •