মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

৩৫ কোটি ব্যয়ে কক্সবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ১০ বেডের পরিপূর্ণ অত্যাধুনিক আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট-Intencive care unit) এবং ১০ বেডের এইসডিইউ (হাই ডিপেডন্সি ইউনিট-High dependency unit) নির্মাণ করা হচ্ছে। উভয় বেডে রোগীদের জন্য মেডিকেল ভেন্টিলেটর সুবিধা থাকবে। জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাই কমিশন (ইউএনএইচসিআর)-এর ৩৫ কোটি টাকার অধিক ব্যয়ে অত্যাধুনিক সুবিধা সম্বলিত এই ২০ বেডের আইসিইউ এবং এইসডিও নির্মাণ করছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মোঃ মহিউদ্দিন সিবিএন-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২০ বেডের আইসিইউ এবং এইসডিও নির্মাণের বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাঃ শাজাহান আলি জানান, কক্সবাজারের স্থানীয় জনসাধারণের অত্যাধুনিক চিকিৎসা সুবিধা চিন্তা করে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের ঐকান্তিক আগ্রহ ও প্রচেষ্টায় ইউএনএইচসিআর কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আইসিইউ এবং এইসডিও নির্মাণে সম্মত হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আইসিইউ এবং এইসডিও নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন নিজেই উদ্যোগী হয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমতি এনে দিয়েছেন এবং ইউএনএইচসিআর-এর সাথে চুক্তি সম্পাদনে সহযোগিতা করেছেন। এডিএম মোহাঃ শাজাহান আলি আরো বলেন, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আইসিইউ এবং এইসডিও নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের জোরালো ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সদর হাসপাতালে নির্মাণাধীন অত্যাধুনিক আইসিইউ এবং এইসডিও ভবিষ্যতে কক্সবাজারবাসীর জন্য একটা বিশাল সম্পদ হবে বলে মন্তব্য করেন এডিএম মোহাঃ শাজাহান আলি।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মোঃ মহিউদ্দিন জানান, গত ৭ এপ্রিল থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আইসিইউ এবং এইসডিও এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ১৬/১৭ দিনের মধ্যে নির্মাণ কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হতে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আগে কোন আইসিইউ ছিলোনা। শুধুমাত্র ২ বেডের অসম্পূর্ণ এইসডিইউ ছিলো। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আগে থেকেই সেন্ট্রাল অক্সিজেন সুবিধা থাকায় আইসিইউ এবং এইসডিইউ এর নির্মাণ কাজ আরো গতিশীল হবে।

বিশ্বস্ত সুত্র মতে, নির্মাণাধীন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসিইউ এবং এইসডিইউ এর চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মী সহ মাসিক ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। প্রতিমাসের এই ব্যয়ও নিয়মিত ইউএনএইচসিআর কর্তৃপক্ষ বহন করবে। সুত্রমতে, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসিইউ এবং এইসডিইউ এর জন্য
বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ও আপডেট প্রযুক্তি সমৃদ্ধ যন্ত্রপাতি আমদানী করা হচ্ছে। আগামী ২২/২৩ এপ্রিলের মধ্যে আমদানীকৃত যন্ত্রপাতি কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পৌঁছে যাবে বলে সুত্রটি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। জাতিসংঘ সামগ্রী ও করোনা ভাইরাস রিলেটেড অগ্রাধিকার দিয়ে জরুরি কার্গোবিমানে যন্ত্রপাতি আমদানি করা হচ্ছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মহিউদ্দিন জানান, সদর হাসপাতালের ৫ম তলায় আইসিইউ এবং এইসডিইউ নির্মাণ করা হচ্ছে। এরআগে কক্সবাজারের কোথাও পরিপূর্ণ আইসিইউ ছিলোনা।

প্রসঙ্গত, ভেন্টিলেটর হচ্ছে, যে রোগী নিজে নিজে অক্সিজেন নিতে অক্ষম, সে রোগীকে যে যন্ত্রের মাধ্যমে ফুসফুসে কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন পৌছানো হয়, সে ব্যবস্থা বা যন্ত্রের নামই মেডিকেল ভেন্টিলেটর।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •