রফিক মাহমুদ, উখিয়া:
উখিয়া ও টেকনাফের কয়েকটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে দেড় শতাধিক অসুস্থ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় অবস্থান করছে মর্মে সংবাদ প্রকাশের পর সতর্ক অবস্থায় রয়েছে সীমান্তে নিয়োজিত বিজিবিসহ আইনশৃঙ্কা বাহিনীর সদস্যরা। উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তের শূন্যরেখায় সতর্ক অবস্থা জারি করা হয়েছে বলে বিজিবি সূত্র জানিয়েছেন।

গত ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) রাতে অসুস্থ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে, এমন খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাত ৯টার দিকে পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া, নলবনিয়া, রহমতের বিল, বালুখালী ও হোয়াইক্যং উলবনিয়া ও হ্নীলা উনচিপ্রাং সীমান্ত এলাকার মসজিদে মসজিদে জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৯ ওয়ার্ড়ের ইউপি সদস্য সুলতান আহমদের কাছে সীমান্তের সর্বশেষ কি অবস্থা জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে জানান, বতর্মানে সীমান্তের অবস্থা সাভাবিক রয়েছে। বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। তাছাড়া স্থানীয়রাও সতর্ক রয়েছে। যেন নতুন করে কোন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনপ্রবেশ করতে না পারে। কারন করোনাভাইরাসের এই মহামারি অবস্থা চালকালীন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটলে দেশে করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। গতরাতে খবর পাওয়ার পর থেকে বিজিবি পাশা-পাশী স্থানীয়রাও পাহারা দিচ্ছে সীমান্তে। গতরাতে মাইকিং করা হয়েছে। একয়ভাবে পালংখালী খালের মুখের ওপারে টেকনাফের উলবনিয়া এলাকার মসজিদেও মাইকিং করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত (বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে) সীমান্তের পাইশাখালী নামক চিংড়ি ঘের এলাকায় মিয়ানামার অংশের জিরো পয়েন্ট থেকে আনুমানিক ২০/৩০ কিলোমিটার দূরে রোহিঙ্গারা অবস্থান করছিল। রাতের অবস্থান থেকে তারা এখন সরে গেছে। কিছুটা নিশ্চত হওয়া গেছে নবী হোসেন নামক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীর একটি গ্রুপ এসব রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে নিয়ে আসার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি দাবি করছেন। এই করোনাভাইরাস সংকটময় মুহুর্তে নতুন করে কোনো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। এমনও শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে অনেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীও রয়েছেন।

পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, গতরাতে আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তের জিরোপয়েন্টের কয়েকটি এলাকায় শতাধিক অসুস্থ রোহিঙ্গা পরিবার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে সীমান্তের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তারা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তৎপর রয়েছে। তবে অনুপ্রবেকারীদের মধ্যে অনেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে জানতে পেরেছি। চিকিৎসার জন্য তারা বাংলাদেশে ঢুকার চেষ্টা চালাচ্ছে।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, টেকনাফ উপেজলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলামকে বিষয়টি জানিয়েছি। আমরা নিজেরাও সতর্ক রয়েছি।

টেকনাফ উপজেলা নিবার্হী অফিসার সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে সর্তক আছেন বলে জানিয়েছেন।

কক্সবাজার বিজিবি ৩৪ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ জানান, উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গাদের একটি দল বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছে তা আমরা সীমান্তের বাসিন্দাদের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে পেরেছি। তাই সীমান্তের শুন্যরেখায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। যেন কোন ধরনের অনুপ্রবেশ না ঘটে।

উল্লেখ্য, গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বানের স্রোতের মত ১১লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছিল। তারা এখন উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •