বার্তা পরিবেশক :

কক্সবাজার সদর উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের আজিজুল হক রুবেল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার জন্মদাতা বাবা
নুরুল ইসলাম (৭০)। ১০ এপ্রিল ৩ টার দিকে
একটি সংগঠনের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে মা,বোন, ভাই উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বৃদ্ধ নুরুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আজিজুল হক রুবেল আমার মেজ ছেলে। তাকে সহ নয়জন ছেলে মেয়েকে বহু কষ্ঠে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি। টাকা, পয়সা, ধন সম্পত্তি কিছুই দেখিনি তাদের জন্য। অথচ কিছু জায়গা-জমি তাকে একা ভোগ করতে নিষেধ করায় এবং তার বেপরোয়া চলাফেরায় বাধা দেওয়ায় আমাকে গালি-গালাজ করে লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে এবং আছাড় দিয়ে কোমরে জখম করেছে। আমি চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুবই কষ্টে দিন যাপন করছি। আমার ছেলের হাতে লাঞ্চিত হওয়ার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো। তাকে জন্মদিয়ে আমি পাপ করেছি। এ অবাধ্য ছেলের বিচার আমি স্বয়ং আল্লাহর কাছে দিলাম।

তিনি লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, আমার বড় ছেলে বিদেশ থাকা অবস্থায় পরিবারের সব দায়-দায়িত্ব রুবেলের উপর অর্পন করি। বিদেশ থেকে পাঠানো সব টাকা-পয়সা তার হাতে থাকে। তার নিজের ইচ্ছেমতো খরচ করে আসছে। কয়েক বছর আগে জামানত মূলে আমার চাষাবাদীয় জমি ক্রয় করার জন্য রুবেলের মাধ্যমে বড় ছেলের পাঠানো টাকা ও আমার কাছ থেকে কিছু টাকা দিয়ে জমির মালিককে বায়নানামা করি। যে জমি আমার নামে রেজিস্ট্রি হওয়ার কথা ছিলো, কিন্তু সে জমি তার একার বলে দাবী করায় আমার অন্যন্যা সন্তানেরা প্রতিবাদ করলে আমাকেসহ তার উপযুক্ত ছোট বোনের গায়ে হাত তুলে।

এর আগেও এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের উপস্থিতে শালিশী বৈঠকে সবার সামনে আমাকে মারার জন্য তেড়ে আসে। যা আমি বাদী হয়ে তৎকালীন ইউএনও এ এইচ এম মাহফুজুর রহমান বরাবর অভিযোগ দায়ের করি। বিষয়টি ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রে তদন্তাধীন ছিল। তাছাড়াও সে বাবার গায়ে হাত তুলার ঘটনাটি আড়াল করতে আপন ছোট বোনের বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আপত্তিকর অভিযোগ এনে প্রচার করে মানহানি করে যাচ্ছে। ফলে আপন বোনের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিয়েছে রামু মন্দির পুড়া মামলাসহ বহু মামলার আসামী রুবেল। মারধরের ঘটনাটি ভিন্নখাতে চালিয়ে দিতেই তার এই অপচেষ্টা। যাকে আমার সন্তান পরিচয় দিতে কষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করছি। আমার মেয়েও অন্যন্যাদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে আমি থানা কিংবা আদালতের শরনাপন্ন হবো। এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

বাবা নুরুল ইসলাম আরো দাবী করেন ছেলে আজিজুল হক রুবেল সৌদি আরব সহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অর্থায়নে
বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বানানোর নামেও প্রতারণা করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে৷ যেটা সরকারি অনুমোদন বিহীন সংস্থার কাছ থেকে অনুদান নিয়ে এসব কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মসজিদ, মাদরাসা বানানোর কথা বলে আত্মসাৎ করে রাতারাতি বনে গেছে অনেক টাকার মালিক। যেটা তদন্ত করলে সব বেরিয়ে আসবে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ শুনতে শুনতে আমি ক্লান্ত। অন্য দিকে বাঁধা দেওয়ায় আমার উপর চালাচ্ছে অমানবিক নির্যাতন।

তিনি আরো বলেন আজিজুল হক রুবেল আমার সন্তান হলেও সে আমার অবাধ্য অনেকদিন আগে থেকেই। তাকে উচ্ছৃঙ্খল চলাচলসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিষেধ করার পরেও থামাতে পারিনি। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে দেড় ডজন মামলা রয়েছে আদালতে। যেখানে রামু মন্দির পুড়ার মতো জগন্য ঘটনায় অভিযুক্ত আজিজুল হক রুবেল। পোকখালী ইলিয়াস নামের এক ব্যক্তির মটর সাইকেল পুড়ানোর অভিযোগে মামলাটি এখন ওয়ারেন্ট। যার নং জিআর ১০৭৫/১৮ দ্রুত বিচার নং ২৩। তার নির্যাতনে অতিষ্ট আমি এবং আমার পরিবার। পাশাপাশি স্থানীয় অনেক লোকজনও। যার বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন সরকার বিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগ। ফলে আমরাও শান্তিতে থাকতে পারছি না এলাকায়। আমার ছেলে হলেও আমার পরিবার ও এলাকার শান্তি রক্ষার স্বার্থে বহু মামলার ওয়ারেন্ট ও জেল ফেরত আসামী রুবেলকে দ্রুত গ্রেফতার পূর্বক শাস্তি দাবী করছি। এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •