করোনা ভাইরাসসহ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ আতংক সীমান্ত জনপদে

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল, ২০২০ ০৪:২০ , আপডেট: ১০ এপ্রিল, ২০২০ ০৪:২২

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


হোয়াইক্যং ১ নং ওয়ার্ডের কাটাখালী গ্রামের মেইনরোড থেকে ছবিটি আজ বেলা দেড়টার দিকে ধারণকৃত। তারা কারা, কেন জড়ো হয়েছে অনিশ্চিত। অনেকে বলছে, এরা রোহিঙ্গা। ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। পরে ‘রোহিঙ্গা পরিচয়পত্র’ দেখিয়ে ক্যাম্পে ফিরে যায়।

ইমাম খাইর, সিবিএন:
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত পথ হয়ে করোনা ভাইরাস নিয়ে একদল রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের খবরে স্থানীয় বাসিন্দারা আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এ খবরকে অনেকে ‘গুজব’ বলে মন্তব্য করেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত প্রায় সাড়ে ৮ টা থেকে সীমান্তবর্তী এলাকাসমূহে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর স্থানীয় জনগণ নতুন করে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সময় পার করছে। কঠোর অবস্থান নিয়েছে সীমান্ত প্রহরী বাহিনী বিজিবি।
পাশাপাশি পাড়ায় মহল্লায় মাইকিং করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
টেকনাফের সংবাদকর্মী জাকারিয়া আলফাজ বলেন, ‘শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত দিয়ে সম্ভবত শুক্রবার ভোররাতে রোহিঙ্গাদের একটা দল ঢুকেছে, জানিনা করোনা আক্রান্ত দলটা কিনা? তথ্য অনুসন্ধান চলছে।’
এদিকে, উখিয়া সীমান্তে দেড় শতাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে খবরে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া এলাকায় মাইকিং করে স্থানীয়দের সর্তক থাকতে বলা হয়েছে।
ইউপি সদস্য সুলতান আহমদ বলেন, ‘রাতে সীমান্তে দায়িত্বে থাকা একটি সরকারি সংস্থার পক্ষে আমাদের অবহিত করে, বেশ কিছু রোহিঙ্গা সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ চেষ্টা চালাতে পারে। এমন খবরে আমার এলাকায় বেশ কয়েকটি মসজিদের মাইকিং করে এই বিষয়ে সর্তক করা হয়েছে।’
জানতে চাইলে পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আঞ্জুমানপাড়ার মেদির খাল সীমান্তে দেড় শতাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ বিষয়টি নিয়ে সীমান্তের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে বিজিবির সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা সর্তক অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তৎপর রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘অনুপ্রবেশের চেষ্টাকারীদের মধ্যে অনেকে করোনা আক্রান্ত। ফলে চিকিৎসার জন্য এপারে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছ।’
তবে, এ খবরকে একটি নিছক ‘গুজব’ মন্তব্য করেছেন স্থানীয় অনেক বাসিন্দা।
পালংখালীর বাসিন্দা এডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল মন্নান বলেন, ‘করোনা আতংকের এই সময়ে এ সমস্ত অনির্ভরযোগ্য কথাবার্তা প্রচারের দ্বারা সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত ও আতংকিত। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বিবৃতিতে যেখানে মিয়ানমারে মাত্র ২ জন করোনা আক্রান্ত পেয়েছে বলা হয়েছে, সেখানে ১৫০ রোহিঙ্গা করোনা আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে ঢুকার কথা অবিশ্বাসযোগ্য। এমন কথা কতটুকু সত্য প্রচারের আগে তা যাচাই করা দরকার।’
যারা করোনা ভাইরাস নিয়ে আতংক ও গুজব ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া দরকার বলে জানান এডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল মন্নান।
গত ২৪ মার্চ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী মিয়ানমারে প্রথম দুজনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুত্রে আলজাজিরা জানায়, আক্রান্ত দুই নাগরিকের একজন যুক্তরাষ্ট্র এবং অপরজন যুক্তরাজ্য ফেরত। যাদের বয়স যথাক্রমে ৩৬ বছর এবং ২৬ বছর।
আক্রান্ত দুই ব্যক্তির সঙ্গে কারা কারা সংস্পর্শে এসেছেন তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, ডিসেম্বরের শেষে চীন থেকে কভিড-১৯ এর উৎপত্তি। দেশটির সঙ্গে মিয়ানমারের বিশাল সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে ১৬০টিরও বেশি দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে গেলেও সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমার কোনো ধরনের আক্রান্তের খবর জানাচ্ছিল না।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •