এক.

সামাজিক দূরত্বঃ

সামাজিক দূরত্ব স্থাপন বা শারীরিক দূরত্ব স্থাপন সংক্রামক রোগ বিস্তার প্রতিরোধের জন্য সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের একগুচ্ছ ঔষধবিহীন পদক্ষেপ। সামাজিক দূরত্ব স্থাপনের উদ্দেশ্য হল সংক্রামক রোগ বহনকারী ব্যক্তির মাধ্যমে সংস্পর্শ এড়ানোর সম্ভাবনা কমানো। একইসাথে আক্রান্ত ব্যক্তি যেন অপরের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে না পারে তথা রোগ সংবহন কমানো এবং সর্বোপরি মৃত্যুহার কমানো।

সামাজিক দূরত্ব স্থাপন সবচেয়ে কার্যকর তখন হয়, যখন সংক্রমণ ছড়ায়। অতিক্ষুদ্র ফোঁটা (হাঁচি-কাশির), যৌন সংস্পর্শসহ প্রত্যক্ষ দৈহিক সংস্পর্শ, পরোক্ষ দৈহিক সংস্পর্শ (সংক্রমণী বস্তু রয়েছে এমনরূপে দূষিত স্থান স্পর্শ) এবং বায়ুবাহিত সংবহনের মাধ্যমে (যদি জীবাণু বায়ুতে দীর্ঘসময় ধরে বেঁচে থাকতে পারে)।

সামাজিক দূরত্ব স্থাপন সেই সকল ক্ষেত্রে খুব একটা কাজ করেনা যখন সংক্রমণ ছড়ায় দূষিত পানি বা খাদ্যের মাধ্যমে কিংবা বাহক যেমন মশা বা অন্য কীটের মাধ্যমে এবং কদাচিৎ মানুষ থেকে মানুষের মাধ্যমে।

দুই.

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কেন জরুরি?

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা খুবই জরুরি, কারণ আক্রান্ত কেউ হাঁচি কাশি দিলে তার সূক্ষ্ম থুতুকণা যাকে ইংরেজিতে ‘ড্রপলেট’ বলা হয় তা বাইরে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এই ড্রপলেটের মধ্যে ঠাসা থাকে ভাইরাস।

যেসব জায়গায় এই কণাগুলো পড়ছে সেসব জায়গা যদি আপনি হাত দিয়ে স্পর্শ করেন, এবং তারপর আপনার সেই অপরিষ্কার হাত আপনি মুখে দেন অথবা খুব কাছ থেকে সেই কণাগুলো নি:শ্বাসের মধ্যে দিয়ে আপনার শরীরে ঢোকে, আপনি সংক্রমিত হবেন।

আপনি যদি অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বেশি সময় না কাটান, অন্যদের খুব কাছে না যান, আপনার সংক্রমিত হবার সম্ভাবনাও কমবে।

তিন.

জাতীয় ঐক্য ও দায়িত্বশীল আচরণঃ

তবে বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিতে বলব, করোনাযুদ্ধে জয়ী হওয়ার সূত্র আমাদের হাতেই রয়েছে। এখন প্রয়োজন যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করা। রাজনৈতিক ঝগড়া ভুলে পারস্পরিক দোষ না খুঁজে আত্মপ্রচারে মগ্ন না থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে নির্ধারিত দায়িত্ব যদি পালন করতে পারি তাহলে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যাবে। একইসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের বিধানমতো যদি সতর্কতার সঙ্গে আমরা চলতে পারি, তবে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারব ভাইরাসের আক্রমণ। হাজার বছর ধরে লড়াই করে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে বাঙালি। লড়াই করেছে স্বাধীন ভূখণ্ডের জন্য। লড়াই করেছে দুর্ভিক্ষের বিরুদ্ধে। লড়াই করেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে। এবারও লড়াই করছে লড়াকু বাঙালি। নিশ্চয়ই এ সাময়িক অন্ধকার কেটে যাবে। আলো অপেক্ষা করছে ওপারে।

চার.

দায়িত্বশীল আচরণ করি, অন্যথায় শাস্তিঃ

ইসলামী দর্শনে বলে স্রষ্টার মনে প্রেম জন্মেছিল মাটির পুতুল তৈরি করার জন্য। তাই তিনি মানবজাতির সৃষ্টি করেছেন। স্রষ্টার প্রেমে মানবজাতির সৃষ্টি সুতরাং এখন যা হচ্ছে তা হলো প্রেমিকের সঙ্গে প্রেমাস্পদের লীলা। আল্লাহ চাহে তো অচিরেই প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়ে যাবে। আপনার লক্ষ্য করে দেখবেন কুকুরও জলাশয়ে নেমে পা ধুয়ে আসে। আর পাঁচটি কুকুর যদি এক জায়গায় ঘুমায় তারা একে অপরের থেকে চার-পাঁচ ফুট ব্যবধানে ঘুমায়। নির্বাক কুকুর যদি তার সৃষ্টির হুকুম মানে তবে সর্বোত্তম জ্ঞানী প্রজাতি মানুষ কেন মানবে না! না মানা তো তোয়াক্কা না করার স্বভাব। তোয়াক্কা না করলেই তো শাস্তি।

পাঁচ.

চলো সভ্যতার পরিবর্তন করিঃ

পৃথিবীব্যাপী চলছে শাটডাউন, লকডাউন, জনতার কারফিউ- এই মুহূর্তে ঘরে অবস্থান করা একটা বড় কর্তব্য। বড় কাজ। ‘শারীরিক’ দূরত্ব বজায় রেখে সামাজিক, রাষ্ট্রিক এবং বৈশ্বিক দায়িত্ব পালনের ঐতিহাসিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে পৃথিবী নামের এই গ্রহবাসীর। আমরাও তার বাইরে নই।

এই মুহূর্তে সবাই ঘরে অবস্থান করে শুধু নিজেকে, নিজের স্বজনদেরই আমরা রক্ষা করব না, আমরা রক্ষা করব গোটা পৃথিবীকে। মানুষকে বাঁচাতে, মানবসভ্যতাকে বাঁচাতে এই মুহূর্তে ঘরে থাকাটাই একটা যুদ্ধ। এই নতুন মাত্রার যুদ্ধে আমরা হেরে যাব যদি ঘরে না থাকি। যদি না স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। এই মুহূর্তে এটাই সবচেয়ে বড় ধর্ম- আমি যেন আরেকজনকে আক্রান্ত করে মৃত্যুবীজ ছড়িয়ে না দিই!

আপনারা ঘরে থাকুন, আমরা বাইরে আছি আপনাদের জন্য। ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, জনসেবার জন্য প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী- আমরা আপনাদের প্রয়োজন পূরণেই বাইরে আছি। আমাদের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করুন।

আশা করি, এই দুর্যোগ অতিক্রান্ত করতে পারব আমরা। মৃত্যুর পৃথিবী নয়, জীবনের পৃথিবী নির্মাণ করা সম্ভব সবার সম্মিলিত সহযোগিতায়।

অযথা রাস্তাঘাটে সর্বসাধারণের চলাচলের পথে বাঁশ বা অন্য কিছু দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়ার কোন মানেই হয় না। তাতে জরুরী প্রয়োজনে আপনারও বিপদ হতে পারে। সুতরাং ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তায় না থেকে, ব্যারিকেড ছাড়াই ঘরে থাকুন।

ছয়.

পোশাক কারখানা ও সিদ্ধান্তহীনতায়ঃ

এখনো বন্ধ হয়নি অনেক পোশাক কারখানা, বাড়ছে করোনা ঝুঁকি। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সবাই যখন বাসায় অবস্থান করছে, তখন একপ্রকার জিম্মি করেই শ্রমিকদের কারখানায় আনা হচ্ছে। এতে একদিকে তার সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, ঝুঁকিতে পড়ছে তাদের পরিবারও। পোশাক মালিকদের ক্ষুদ্র সার্থকে বড় করে দেখে আজকে সারা দেশে তার চরম মূল্য দিতে হচ্ছে জাতিকে। কি এমন “পিপিই” তৈরি করছিলেন পোশাক শ্রমিকরা। আজকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্রগ্রামসহ সারা দেশের মানুষ মুত্যুর পথের সাথী হতে হচ্ছে। দিন দিন আক্রান্তের মিছিল বড় হতেই চলেছে। সিদ্ধান্তহীনতার কারণে আজ জাতির সামনে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই নেই। আজকে সেই পোশাক শ্রমিকের লাশ নৌকার মাঝে পড়ে আছে নদীতে, সৎকার করার কেউ নেই। নরসিংদীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক নারী গার্মেন্টস কর্মী (৩৫) মারা গেছেন। করোনা উপসর্গ থাকায় গ্রামের লোকজন তাকে এলাকায় দাফন করতে দেয়নি। পরে লাশ নিয়ে পুনরায় বাবার বাড়ি আলোকবালীর উদ্দেশে রওনা দেয়। সব শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লাশ (নরসিংদীতে) নদীর ঘাটে নৌকায় পড়ে আছে। আর কত শ্রমিকের রক্তের বিনিময়ে পোশাক কারখানার (বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ), মালিকদের স্নপ্ন বাস্তবায়ন হবে? ঢাকাসহ সারা দেশের তৈরী পোশাক কারখানাগুলো খোলা রাখার কারনে পরিস্থিতি আজকে…….।

সাত.

ছাড় নয়, কঠোর হতে হবেঃ

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ একটু একটু করে বাড়ছে। আইইডিসিআর এর তথ্য মতে, দেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন একটু একটু করে হচ্ছে। এই দুর্যোগ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার গত ২৬ মার্চ থেকেই দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। ছুটি ঘোষণার পর থেকে সারাদেশে অঘোষিত লকডাউন চলছে। সরকারের এই ছুটি দেয়ার মূল উদ্দশ্য হচ্ছে মানুষকে ঘর বন্দী করে রাখা। অর্থাৎ কেউ ঘরের ভেতর থেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হবেন না।

এ লক্ষ্যে সরকার পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সারাদেশে দুর্যোগের বন্ধু সেনাবাহিনীকে মাঠে নামিয়েছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কাজে। যাতে ঘর থেকে কেউ বের না হন। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারের নেয়া এই পদক্ষেপ কেন জানি দেশের কিছু মানুষের পছন্দ হচ্ছে না। তারা ঘরে বসে থাকতে পারছেন না। বাইরে বের হচ্ছেন হরদম। মানুষের এই বাহির প্রেম যে কোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে। এ জন্য যতোটা কঠোর হওয়া দরকার ততোটাই কঠোর হতে হবে। কোনো ছাড় নয়। তা না হলে সামান্য ভুলের জন্য বা হেয়ালিপনার জন্য চরম মূল্য দিতে হবে আমাদের এই ঘনবসিতপূর্ণ দেশ আর দেশের মানুষকে।

আট.

আমরা কেন পারবো না?

আমাদের দেশের মানুষের একটা বিরাট অংশ আছে যারা দিন আনে দিন খায়। খেটে খাওয়া দিনমজুর, শ্রমিক, রিকশা, ভ্যান চালক, সিএনজি অটোরিকশা চালক, পরিবহন শ্রমিক, হোটেল রেস্তোরাঁর শ্রমিকসহ এরকম আরও বেশ কিছু শ্রেণির মানুষ। এ দুর্যোগের সময় কর্মহীন হয়ে পড়া এই মানুষগুলো যেন অভুক্ত না থাকে সে জন্য সরকার তাদের জন্য খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করেছে। দেশে এখন খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। এক-দুই মাস সরকার এই শ্রেনীর মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিতে পারবে। তাহলে কেন রাস্তায় ছোট ছোট যানবাহন চলবে? যাত্রী পরিবহন করবে?

আমাদের উপর যে মহাদুর্যোগ ঘুরপাক খাচ্ছে সেটিকে দমন করতে কয়েকটা দিন আমরা কেন জরুরি সেবা বাদে অন্য সব কিছু বন্ধ রাখতে পারছি না।

এটা যে করেই হোক করতে হবে। নতুবা চরম মূল্য গুনতে হবে। আমি বিশ্বাস করি এখনও সময় আছে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার। শুধু দরকার কঠোর হওয়ার। বিশ্বের অনেক দেশেই কঠোরভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া সরকার তো জানিয়ে দিয়েছে যারা আইন মানবে না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর বিদেশীদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে।

ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য সব দেশেই কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করে মানুষকে ঘরে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। তাহলে আমরা কেন পারবো না?

নয়.

ত্রাণ বিতরণে সমন্বয়ঃ

দুর্যোগের সময় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ বা সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতার বিষয়টা আমরা ভীষণভাবে দেখতে পাই। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন জায়গায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে, সরকারি, বেসরকারি, এনজিও, রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং ব্যক্তি উদ্যোগে। এসব খাদ্য সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমন্বয় দেখা যাচ্ছে না। ফলে একই ব্যক্তি বা পরিবার কিংবা একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি ‌প্রত্যেকের কাছ থেকে খাদ্য সহায়তা বা ত্রাণ সামগ্রী পাচ্ছেন। শুধু সমন্বয়হীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে এমন হচ্ছে। এখানেও সরকারকে কঠোর হতে হবে। তাহলে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের ক্ষেত্রে ওভারলেপিং, অনিয়ম দূর সম্ভব হবে। আমরা ভিক্ষুক নয়, আমরা পরিস্থিতির স্বীকার। আমাদের কে নিয়ে এক শ্রেণীর মানুষ বিভিন্নভাবে ফটো সেশন করে সমাজে ছোট করা হচ্ছে। এসব কর্মকান্ড থেকে সমাজ কে রক্ষা করার জন্য প্রশাসনকে আরও তৎপর হতে হবে। সাহায্য-সহযোগিতার খবর যেন পার্শ্বের জন জানতে না পারে। অন্যথায় এক শ্রেণীর মানুষ সমাজে না খেয়ে, অর্ধহারে থেকে যাবে।

দশ.

ধর্মীয় মূল্যবোধঃ

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা ও মূল্যবোধ জাগ্রত করে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য দেশের প্রত্যেকটি মসজিদে জুমার দিনে করোনাসহ সব বিপদ থেকে মুক্তির জন্য খতীব/ইমামদেরকে দুআ ও ইসলামী ন্যায়-নীতি সর্ম্পকে বুঝাতে হবে। আমাদের দেশের ৯০শতাংশ মানুষ মুসলিম। আমাদের দেশের গ্রামে-গঞ্চের মানুষরা এখনও অনেক বেশি ধর্ম পরায়ন। দেশের মহাপ্রলয়ে জাতির স্বার্থে খতীব/ইমাম ও ধর্মীয় প্রতিষ্টানের দায়িত্বশীলদের এগিয়ে আসতে হবে।

মসজিদ, মাদ্রাসা, বিভিন্ন মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ দেশের প্রতিটি গ্রামে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ও দেশবাসীকে করোনা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।

সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন,পরিবারের সাথে থাকুন, রাষ্ট্রের নিয়ম-কানুন, জরুরী ঘোষণা মেনে চলুন। যার যার অবস্থান থেকে করোনা মোকাবেলায় জাতিকে সহায়তা করুন।

মুহাম্মদ ছলিম উল্লাহ সুজন

সম্পাদক ও সিইও

“ওয়ান নিউজ” ডট কম ডট বিডি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •