মোহাম্মদ ম্যাক্স

আমরা জানিনা তুমি কখন এসেছ, আর তুমি অদৃশ্য হয়ে যাও নি।

তুমি নয় যে অগ্নিশিখা যা পানি দিয়ে নেভানো যায়, নয় তুমি বরফের আস্তর যে উদ্ধারকর্মীরা বাঁচাবে।তাহলে তুমি কে? তুমি ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর খুনি । তুমি একজন অদৃশ্য খুনি, তুমি নীরব ঘাতক ।

আমার কখনো তুমি কে, তোমার প্রকৃতি, আকৃতি জানতে পারিনি, তোমার কোন বর্ননা নেই , আর আমরা দেরিতে হলে ও বুঝতে পেরেছি শত্রু আমাদের ঘরে।

আমরা তোমাকে আমন্ত্রণ করিনি, আমরা তোমাকে চাই না, কারন তুমি সবাইকে হত্যা কর, শিশু, পৌঢ়, বৃদ্ধ, নারী, পুরুষ আর প্রানী, কাউকেই তুমি ছাড় না।

কোন বোমা তোমাকে মারতে পারেনা, কোন মিসাইল তোমাকে ধরতে পারেনা, কোন অস্ত্র দিয়ে তুমি ধংস হও না, তুমি অদৃশ্য, তুমি রহস্যময়, তুমি ধরাছোঁয়ার বাইরে।

তুমি নির্মান শিল্পের অসাধারণ স্থাপত্য ধংস করনা বটে কিন্তু তার ভেতরে থাকা মানুষকে হত্যা কর, তুমি ব্রীজ, রাস্তাঘাট , শহর, নগর উপরে ফেল না কিন্তু তোমার শক্তি এটিকে খালি করে ফেলে ।

তুমি এতই যে মারাত্মক খুনি, পুরু পৃথিবী তোমার অস্তিত্ব খুজে পাচ্ছেনা, তোমাকে সঠিকভাবে পরিচয় করাতে পারছে না।

তুমি দুনিয়ার সবচেয়ে বড় জেলখানা তৈরি করেছ যেখানে সবাই নিজ বাসায় সাজা ভোগ করছে।

তোমাকে কি কখনো ক্ষমা করা হবে? অবশ্যই না, তুমি একজন ভয়ংকর খুনি, নবজাতক থেকে শুরু করে অনেক রাষ্ট্র প্রধান ও তোমার শিকারে পরিণত।

তুমি কি খোদা প্রদত্ত, জানিনা, তুমি প্রকৃতি প্রেমি, সন্দেহ আছে, তুমি কি দূত তা ও মানি না, তাহলে তুমি কে? কেউ জানেনা ।

তুমি তোমার জন্মস্থানে পরে থাকনি কেন? সারা পৃথিবী চষে বেড়িয়েছ কেন? কেন থামছনা, কতদিন থাকবে? কত জীবন কেড়ে নিবে? তুমি কি চাও? কি বার্তা আমাদের দিতে চাও?

কোন প্রযুক্তি তোমার সাথে পারছেনা, কোন এন্টিবডি তোমাকে সরাতে পারছেনা, কোন আবিষ্কার তোমাকে থামাতে পারছেনা, তুমি এগিয়ে যাচ্ছ আলোকবর্ষের গতিতে , বয়ে আনছ অকালমৃত্যু আর আকস্মিক মৃত্যু।

তোমার কোন দয়া নেই, নেই কোন মায়া, কোন অনুভূতি নেই, কোন হৃদয় নেই, কোন প্রতিকার ও নেই।

কোন প্রতিদন্ধী নেই, তোমার শুধু শত্রু আছে, তোমার খারাপ মন আছে, তোমার খুনের নেশা আছে, তোমার নিষ্টুরতা আর অসহিষ্ণুতা আছে।

তুমি একজন দানব, তুমি একজন বায়বীয় শয়তান, তুমি একজন হৃদয়হীন শাসক আর স্বৈরশাসক।

শস্য তোমার কারনে জন্মাতে পারছেনা, তেল রপ্তানি বন্ধ, তোমার লোভনীয় হুমকিতে মন্দা যাচ্ছে ব্যাবসা বানিজ্যের।

অর্থনৈতিক মন্দা, সাম্রাজ্যের ঝটকা, আর তোমার অমানবিক নির্যাতনে আজ মানুষের জীবন বিপন্ন।

আজ আমরা প্রিয়জনকে কবরাস্ত করতে পারছিনা , তুমি এসে পর বলে, দেখা করতে পারছিনা মনের মানুষের, তুমি সহজেই আমাদের শিরায় ঢুকে যাও আর তোমার নিষ্টুর খেলা শুরু কর।

তুমি আমাদের ঘরে বসে থাকতে বাধ্য করেছ, শিক্ষা, ব্যাবসা বন্ধ করিয়েছ, তোমাকে ভয় পাইয়েছ, যা আমরা আমাদের জীবদ্দশায় করিনি।

আমরা এটিও জানি যে তুমি আমাদের সাথে অভিমান করেছ, কারন আমরা আমাদের এই সুন্দর বসুন্ধরা ধংস করেছি, আমরা যুদ্ধে লিপ্ত হয়, আমরা মানুষকে শরনার্থী বানাই, আমরা অস্ত্রের মহড়া চালাই, আমরা মানুষ, প্রানী হত্যা করি, আমরা অসহায়দের বেঁধে রাখি, মানুষকে ফাঁসিতে ঝুলাই, আমরা বর্ণবিদ্বেষী, শ্রেনীভেদ করি, আর ধর্ম অসহিষ্ণু, আমরা আমাদের স্বার্থটাই দেখি।

তাহলে কি তুমি এভাবেই প্রতিশোধ নাও?

অবশেষে আমরা জানতে পেরেছি তুমি কে জনাব করোনা!

তুমি মানুষের মগজ ধোলাই কর, তুমি অক্সিজেন কেড়ে নাও, তুমি ধর্মত্যাগী, তুমি অতিকায়, তুমি সবাইকে নীচে আছড়িয়ে ফেল, তুমি একজন অভিযাত্রী যে সারা দুনিয়া ঘুরে বেড়ায়, তুমি একজন দানব।

কিন্তু ভুলে যেওনা রক্তাক্ত কভিড ১৯, তোমার আগেও আমরা অনেক মহামারী সামাল দিয়েছি, অনেক দুর্যোগ মোকাবেলা করেছি, তোমার জ্ঞাত ভাই যারা বিভিন্ন সময়ে রোগ আর টনের্ডোর বেশে এসেছিল তাদের পরাজিত করেছি।

আমরা অনেক যুদ্ধ, খরা, মন্দা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখামুখি হয়েছি, কিন্তু আমরা বেঁচে গিয়েছি।

অনেক সমস্যা আর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি কিন্তু আমরা বেঁচে গিয়েছি।

মৃত্যু উপত্যকা, অগ্নিপথ, বজ্রপাত, অপরাধের সড়কে আর অন্ধকারাচ্ছন্ন পথে হেটেছি কিন্তু আমরা বেঁচে গিয়েছি।

কেয়ামত আমাদের সামনে এসেছে, মৃত্যু দানব এসেছে, আমাদের জীবনের শেষ দিনের হুমকি পেয়েছি, কিন্তু আমরা বেঁচে গিয়েছি।

নিষ্টুরতা, কঠিন সাম্রাজ্য , ভয়ংকর আইন, এমনকি মানুষের তৈরি অপশাসন আমাদের আঁকড়িয়ে ছিল কিন্তু মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমরা বেঁচে গিয়েছি।

তোমাকে পাল্টা আক্রমণ করার কিছু সময় দাও আমাদের, আমাদের মধুর প্রতিশোধের অপেক্ষায় থাক, আমাদের লুকায়িত সৈনিকরা তোমাকে টুকরো করতে আর কেটে ফেলতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কারন তোমারও দুর্বলতা আছে, কিছু সাবানের ফেনা, কাপড় দিয়ে মুখমণ্ডল ঢেকে দেওয়া, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা আর ঘরে বসে থাকলেই তুমি পালিয়ে যাও।

আমরা তোমার দয়া চাই না, চাই না তোমার করুণা, তোমার সাহায্যের ও দরকার নেই। তোমাকে শিক্ষা দিতে আমাদের সময় দাও।

চমৎকার পরিকল্পনা প্রস্তুত আছে।

একদিন তুমি অদৃশ্য হয়ে যাবে, আর কখনো ফিরে আসবে না, কিন্তু যে অপূরনীয় ক্ষতি তুমি আমাদের করে গেছ ইতিহাস আর আমরা তোমায় কখনো ক্ষমা করবনা ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •