প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে সারাবিশ্বের মানুষ। দেশ কি বিদেশ সর্বত্রই দিন দিন বেড়েই চলছে এর প্রকোপ। রাজধানী ঢাকাসহ পুরো দেশেই চলছে অঘোষিত লকডাউন। ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাও প্রায় বিচ্ছিন্ন। মসজিদগুলোতে জামাতে না গিয়ে ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশনা জারি করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। আলেম-ওলামারাও দিয়ে যাচ্ছেন যথাযথ ইসলামের দিকনির্দেশনা।

ইসলাম এমন এক পরিচ্ছন্ন জীবন ব্যবস্থা, যার প্রতিটি নিয়মনীতি মেনে চললে যে কোনো দুর্যোগ কিংবা মহামারিতে নিরাপদ থাকা সহজ। এ নিরাপত্তা লাভে ইসলামের দিকনির্দেশনাগুলো সতর্কতার সঙ্গে মেনে চলা জরুরি।

বর্তমান করোনার প্রকোপে বিশ্বব্যাপী এক আওয়াজ, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কিংবা যে কোনোভাবে জীবাণুমুক্ত থাকা। ইসলামের অনুশাসনেই রয়েছে সর্বোচ্চ জীবাণুমুক্ত থাকার প্রশিক্ষণ। এ প্রশিক্ষণের একটি হচ্ছে সার্বক্ষণিক পবিত্র অবস্থায় থাকা। অর্থাৎ ওজু অবস্থায় থাকা। যখনই কোনো মানুষের ওজু ছুটে যাবে সে ওজু করে নেবে। ওজু করতে হলেই প্রয়োজন বিশুদ্ধ পানি দ্বারা হাত, মুখ, মাথা ও পা ধোয়ার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা।

তাছাড়া প্রত্যেক মুমিন মুসলমানকে শুধু নামাজের জন্য প্রতিদিন পাঁচবার ওজু করতে হয়। এ ওজু করার ফলে কাউকে যদি জীবাণু আক্রমণ করতে না পারে তবে কীভাবে সে ব্যক্তি সংক্রমণ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

দেড় হাজার বছর আগের রেখে যাওয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের নির্দেশনাগুলো মহামারি করোনার এ প্রাদুর্ভাবের সময় মানুষ আজ মানতে বাধ্য হচ্ছে। ঘন ঘন সাবান ও বিশুদ্ধ পানি দিয়ে হাত ধোয়ার মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত থাকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যে কোনো কাজের আগে কিংবা পরে জীবাণুমুক্ত করতে উভয় হাত ধুয়ে নিচ্ছে। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-

নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তাওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদের ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২২২)

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে থাকাকে পরিপূর্ণ সমর্থন করে ইসলাম। ইসলামের নির্দেশনাও এমন। দেশ-বিদেশের সাধারণ জনগণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যেসব স্বাস্থ্যবিধি ঘোষণা করছে তার মধ্যে অন্যতম প্রধান তিনটি পদ্ধতিই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশিত পদ্ধতি। আর তাহলো-
– পরিচ্ছন্নতা
– কোয়ারেন্টাইন
– আইসোলেশন

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার অনুসারীদের নির্দেশ করেছেন- তোমরা মহামারি অবস্থায় স্থান ত্যাগ করবে না। হাদিসে এসেছে-
‘তোমরা যখন কোনো এলাকায় মহামারি প্লেগের বিস্তারের কথা শুনো, তখন সেখানে প্রবেশ করো না। আর যদি কোনো এলাকায় এর প্রাদুর্ভাব নেমে আসে, আর তোমরা সেখানে থাক, তাহলে সেখান থেকে বেরিয়েও যেও না।’ (বুখারি)

যারা এ হাদিসের ওপর আমল করে কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে অবস্থান করবে তাদের জন্য বিশ্বনবি পুরস্কারও ঘোষণা করেছেন। অন্য হাদিসে এসেছে-

‘কোনো বান্দা যদি মহামারি আক্রান্ত এলাকায় অবস্থান করে। আর নিজ বাড়িতে ধৈর্য সহকারে সাওয়াবের নিয়তে এ বিশ্বাস নিয়ে (ঘরে) অবস্থান করে যে, আল্লাহ তাআলা তাকদিরে যা চূড়ান্ত করে রেখেছেন, তার বাইরে কোনো কিছু তাকে আক্রান্ত করবে না, তাহলে তার জন্য রয়েছে একজন শহীদের সমান সাওয়াব।’ (মুসনাদে আহমদ)

করোনাভাইরাসের প্রকোপ বিশ্বের সব দেশে ব্যাপক হারে বেড়ে চলছে। বাংলাদেশেও থেমে নেই এ প্রাদুর্ভাব। শ্বাসকষ্টের সংক্রমণের মাধ্যমে এ ভাইরাসের আক্রমণ জোরালো হচ্ছে। তা থেকে বেঁচে থাকতে সবার জন্য রয়েছে বেশকিছু সতর্কতা। সতর্কতার সঙ্গে এ ধাপগুলো অতিবাহিত করা জরুরি।

করোনাসহ সংক্রামক ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকতে এ আমলগুলো নিয়মিত করা-
হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যদি তোমরা মহামারির (নতুন নতুন রোগ-ব্যাধির) কোনো সংবাদ শোন, তো সেখানে (আক্রান্ত অঞ্চলে) তোমরা প্রবেশ থেকে বিরত থাক। যদি কোনো শহরে বা নগরে কেউ সে মহামারিতে আক্রান্ত হয়, তো সেখান থেকে তোমরা বের হয়ে (অন্য কোনো অঞ্চলে) যেয়ো না।’ (বুখারি)

>> গোনাহ থেকে ফিরে আসতে বেশি বেশি তাওবাহ করা এবং ইসতেগফার পড়া-
اَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِى لَا اِلَهَ اِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْم
উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম।

>> মহামারি থেকে বাঁচতে বেশি বেশি বিশ্বনবির এ দোয়া পড়া-
اَللَّهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَ الْجُنُوْنِ وَ الْجُذَامِ وَمِنْ سَىِّءِ الْاَسْقَامِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাচি ওয়াল জুনুনি ওয়াল ঝুজামি ওয়া মিন সায়্যিয়িল আসক্বাম।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনার কাছে আমি শ্বেত রোগ থেকে আশ্রয় চাই। মাতাল হয়ে যাওয়া থেকে আশ্রয় চাই। কুষ্ঠু রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে আশ্রয় চাই। আর দুরারোগ্য ব্যাধি (যেগুলোর নাম জানিনা) থেকে আপনার আশ্রয় চাই।

>> ছোট-বড় সব বিপদ ও মুসিবতে এ দোয়া পড়া
اِنَّالِلَّهِ وَ اِنَّا اِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ – اَللّهُمَّ اَجِرْنِىْ فِىْ مُصِيْبَتِىْ وَاخْلُفْ لِىْ خَيْرًا مِّنْهَا
উচ্চারণ : ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন; আল্লাহুম্মা আযিরনি ফি মুসিবাতি ওয়াখলুফলি খাইরাম মিনহা। (মুসলিম)

>> বিপদ থেকে বাঁচতে হজরত ইউনুস আলাইহিস সালামের এ দোয়াটি পড়া-
لَااِلَهَ اِلَّا اَنْتَ سُبْحَانَكَ اِنِّيْ كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِيْن
উচ্চারণ : ‘লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জ্বালিমিন।’

>> প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি সহ এ সুরাগুলো পড়া-
– সুরা ইখলাস।
– সুরা ফালাক ও
– সুরা নাস পড়া।

>> বিশ্বনবির বিশেষ আমল
হজরত উসমান ইবনে আফ্‌ফান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রতিদিন ভোরে ও প্রতি রাতের সন্ধ্যায় যে কোনো বান্দা এ দোয়াটি ৩ বার পাঠ করবে, কোনো কিছুই তার অনিষ্ট/ক্ষতি করতে পারবে না-

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ : বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইয়্যুন ফিল আরদ্বি ওয়ালা ফিস্সামায়ি ওয়া হুয়াস্‌সামিউল আলিম।’ (তিরমিজি)
অর্থ : ‘ওই আল্লাহ তাআলার নামে, যাঁর নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই কোনো অনিষ্ট করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।’

>> নতুন সৃষ্ট সংক্রামক ব্যাধি ও অশ্লীলতা থেকে মুক্তি লাভে এ দোয়া পড়া-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ وَ الْاَدْوَاءِ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আ’মালি ওয়াল আহওয়ায়ি, ওয়াল আদওয়ায়ি।’
অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে খারাপ (নষ্ট-বাজে) চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা এবং বাজে অসুস্থতা ও নতুন সৃষ্ট রোগ বালাই থেকে আশ্রয় চাই।’ (তিরমিজি)

>> সকাল-সন্ধ্যা ৩ বার এ দোয়া পড়া-
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণ : আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন সার্রি মা খালাকা।

আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ এ দোয়া বেশি বেশি পড়া-

رَبِّ أَوْزِعْنِىٓ أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِىٓ أَنْعَمْتَ عَلَىَّ وَعَلٰى وٰلِدَىَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صٰلِحًا تَرْضٰىهُ وَأَدْخِلْنِى بِرَحْمَتِكَ فِى عِبَادِكَ الصّٰلِحِينَ
উচ্চারণ : রাব্বি আওঝি’নি আন আশকুরা নি’মাতাকাল্লাতি আনআমতা আলাইয়্যা ওয়া আলা ওয়ালিদাইয়্যা ওয়া আন আ’মালা সালেহাং তারদাহু ওয়া আদখিলনি বিরাহমাতিকা ফি ইবাদিকাস সালিহিন।’ (সুরা নামল : আয়াত ১৯)

অর্থ : হে আমার প্রভু! আপনি আমার প্রতি ও আমার বাবা-মার প্রতি যে (রহমত) অনুগ্রহ দান করেছেন তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশে আমাকে শক্তি দান করুন আর যেন এমন (নেক আমল) সৎকাজ করতে পারি যাতে আপনি সন্তুষ্ট হন আর আপনি দয়া করে আমাকে আপনার সৎকর্মশীল (নেক) বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে দিন।’

স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ থাকার উপায়
বৈশ্বিক প্রাণঘাতী মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মানুষের নিরাপত্তায় এখনো কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। এ সংকমণের আক্রমণ কমিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে উপায়গুলো অবলম্বন করা যেতে পারে। তাহলো-

>> জনসমাগম এড়িয়ে চলা চেষ্টা অব্যাহত রাখা। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়াই ভালো। যতটা সম্ভব ঘরেই থাকার চেষ্টা করা।
>> একান্ত প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক সঙ্গে নেয়া।
>> গণপরিবহন তথা বাস-ট্রেন-লঞ্চের যাতায়াত এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা।
>> ঘরে ফেরার পর হ্যান্ডওয়াশ বা তরল সাবান কিংবা জীবাণুনাশক দিয়ে ভালোভাবে ন্যূনতম ২০ সেকেন্ড হাত ধুয়ে নেয়া।
>> বাইরে যাওয়ার আগে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে যাওয়া।
>> সকাল সকাল পর্যাপ্ত আলো ও বাতাসের জন্য ঘরের দরজা-জানালা কিছু সময় খুলে রাখা।
>> রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং সুস্থ ও শক্তিশালী থাকতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। ফলমূল ও পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি গ্রহণ করা। রান্না বা প্রক্রিয়ার আগে তা ভালোভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নেয়া কিংবা ধুয়ে নেয়া।
>> আমিষজাতীয় খাবার- ডিম, গোশত কিংবা মাছ রান্নার সময় তা ভালোভাবে সিদ্ধ করে নেয়া।

>> করোনা বা করোনাজাতীয় সংক্রামক রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হলে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করা এবং অন্যদের সংক্রামক ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা।

>> সংক্রমণরোধে সাবান-পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ড উভয়হাত ধোয়া।
>> অপরিচ্ছন্ন হাতে নিজেদের চোখ, নাক, মুখ স্পর্শ না করা।
>> মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ট যোগাযোগ বন্ধ রাখা। বিশেষ করে যারা ঝুঁকিপূর্ণ তাদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা।

অন্যান্যদের প্রতিরোধের উপায়
যদি কারো মধ্যে ঠাণ্ডা কিংবা সর্দি-কাশি জ্বর বা করোনাভাইরাসের অন্যান্য লক্ষণ দেখা দেয় তবে তাদের জন্য যে প্রতিরোধমূলক নিরাপত্তা গ্রহণ করা জরুরি। তাহলো-
>> অসুস্থ অবস্থায় তাদেকে ঘরের মধ্যে অবস্থানের ব্যবস্থা করা।
>> তাদের সঙ্গে অন্যদর ঘনিষ্ট যোগাযোগ বন্ধ রেখে যথাযথ ব্যবস্থায় দূরত্ব বজায় রাখা।
>> তাদের হাঁচি-কাঁশির সময় নাক-মুখ টিসু্য দিয়ে আবৃত রাখা। সেই টিসু্য আবৃত ঝুড়িতে ফেলা এবং সঙ্গে সঙ্গে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া।া
>> পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে পরিবেশ জীবাণুমুক্তকরণ করা।

চিকিৎসা
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হওয়া মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। অধিকাংশ মানুষই নিজেদের বিশেষ সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে মাধ্যমেই এ সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠেছেস। সুতরাং যে কেউ সংক্রমণ হলে এ চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে। আর তাহলো-
>> জ্বর কিংবা ব্যাথানাশক ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ব্যাথানাশক (অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ) তা ব্যবহার করা যাবে না।
>> আক্রান্ত ব্যক্তি যে ঘরে অবস্থান করবে, সে ঘরে রুম গরম রাখার জন্য রুম হিটার কিংবা গোসলের সময় গরম পানি ব্যবহার করা।
>> শ্বাসনালী কিংবা শ্লেষ্মাজনিত কাশির জন্য গরম পানির ভাপ নেয়া যেতে পারে।

আর যদি কেউ মধ্যম ধরনের অসুস্থ হয়ে যায়, তার জন্য-
>> প্রচুর পরিমাণ তরল পাণীয় গ্রহণ করা।
>> বাড়িতে অবস্থানের পাশাপাশি পূর্ণ বিশ্রাম গ্রহণ করা যেতে পারে।

প্রাথমিকভাবে শ্বাসকষ্ট ও ঠাণ্ডা-কাশি-জ্বরে সংক্রমিত হলে সতর্কতার সঙ্গে অন্যদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা গ্রহণ করার পাশাপাশি হাদিসের হাদিসের নির্দেশনাগুলো যথাযথ মেনে চলা জরুরি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •