আমাদের সময় : নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) ড. বেনজীর আহমেদ। বর্তমান আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি। ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার হিসেবে পরিচিত একটি মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার নতুন নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। শেষ সময়ে বড় কোনো পরিবর্তন না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক নিয়োগ পাবেন এই দুই কর্মকর্তা।

২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন জাবেদ পাটোয়ারী। আগে থেকেই সৎ, মেধাবী ও পেশাদার কর্মকর্তারা হিসেবে পরিচিতি ছিল তার। তিনি আইজিপি হওয়ার পর থেকে পুলিশের দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেন। তার সাহসী নেতৃত্বে পুলিশের দুর্নীতি অনেকটাই কমে এসেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া পুলিশের বদলি-নিয়োগসহ নানা ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন তিনি। বিশেষ করে ঘুষ ছাড়া পুলিশের কনস্টেবল

নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাক লাগিয়ে দেন, যেটি সব মহলে ব্যাপকভাবে প্রসংশিত। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আইজিপিকে চিঠি দিয়ে ধন্যবাদ দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃপক্ষ। বদলির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার চেয়ে পেশাগত দক্ষতা, মেধার গুরুত্ব দেন জাবেদ পাটোয়ারী। এ ছাড়া অপরাধ করলে যথাযথ শাস্তির মাধ্যমে পুলিশের শৃঙ্খলা নিশ্চিতে কাজ করেছেন তিনি।

আইজিপি হওয়ার আগে জাবেদ পাটোয়ারী পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান ছিলেন। এ ছাড়া পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ১৯৮৬ সালে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান আইজিপির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৩ এপ্রিল। তার আগেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। এখন পর্যন্ত বেনজীর আহমেদের আইজিপি হওয়া চূড়ান্ত। আর জাবেদ পাটোয়ারীকে তার ভালো কাজের উপহার হিসেবে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। যে দেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, ওই দেশের বর্তমান রাষ্ট্রদূত রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন।

অপরদিকে মেধাবী, সৎ ও চৌকোস পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে বেনজীর আহমেদের পরিচিতি রয়েছে। সপ্তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা বেনজীর আহমেদ ১৯৮৮ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। বেনজীর আহমেদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে। র‌্যাবের ডিজির দায়িত্ব পালনের আগে প্রায় সাড়ে চার বছর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বিভাগে চিফ অব মিশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট সার্ভিসেস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। কর্মদক্ষতায় তিনবার জাতিসংঘ শান্তি পদক অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি পুলিশের পেশাগত সর্বোচ্চ পদক বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) অর্জন করেন। বেনজীর আহমেদের মতো পেশাদার ও মেধাবী কর্মকর্তা আইজিপি হলে পুলিশে ভিন্নমাত্রা যুক্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •