কামাল হোসেন, রামু (কক্সবাজার) :
রামুতে করোনা মোকাবিলায় জনসমাগম রোধে আনসার,কমিউনিটি ও গ্রাম পুলিশকে কাজে লাগানোর প্রস্তাব করেছেন রামুর সচেতন মহল। করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই রামু উপজেলা প্রশাসন,পুলিশ,সেনাবাহিনী,বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ঘরে ঘরে খাদ্য পৌঁছে দেয়া সহ তাদের নানামুখি আন্তরিক কর্ম তৎপরতাতেও বন্ধ হয়নি জনসমাগম। সব কিছু চলছে স্বাভাবিক নিয়মে। মানুষ এখনো বুঝতেছেনা করোনা ভাইরাস কি। এই অবস্থায় চলমান দয়িত্বরতদের পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নের আনসার ও গ্রাম পুলিশের সংঘবদ্ধ তৎপরতা এলাকায় জনসমাগম, আড্ডা, অযথা ঘুরাফিরা রোধ করা অনেকটা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা। হাইস্কুল শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মনে করেন, শুধু তাই নয় এই বাহিনীর সদস্যরা প্রসাশনের ইনপর্মার হিসাবেও কাজ করতে পারেন।

স্কুল শিক্ষক তাজ উদ্দিন মনে করেন, শুধু আনসার ও গ্রাম পুলিশ কেন! প্রসাশন চাইলে কমিউনিটি পুলিশকেও এই কাজে সম্পৃক্ত করতে পারেন। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমিউনিটি পুলিশের কমিটি রয়েছে। এই কমিটিতে সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সচেতন লোকজন রয়েছে। এলাকার মানুষ তাদের কথা শুনবে।

দেখা যাচ্ছে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি আতংকে পরিনত হওয়ার সাথে সাথে প্রসাশনে অব্যহত নানামুখী উদ্দ্যোগেও মানুষকে ঘরে আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছেনা। করোনা সতর্কতা উপেক্ষা করে স্বাভাবিক নিয়মে লোকজন ঘুরাঘুরি করছে, সমাগত হয়ে করছেন আড্ডাও। এদিকে করোনা রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। পরিস্থিতি পযার্য়ক্রমে ভয়াবহ রুপ নিচ্ছে। শুরু হয়েছে মৃত্যুর মিছিল।
দেশের এমনি ক্রান্তিকালে প্রসাশনকে আরো কঠোর হওয়ার আহবান জানান রামুর সচেতন মহল। প্রয়োজনে জনগণকে আইন মানতে বাধ্য করারও অনুরুধ জানান। জনসমাগম রোধে রামুতে প্রতিটি ইউনিয়নের আনসার ও গ্রাম পুলিশকে কাজে লাগানোর প্রস্তাবও করেন তারা।

রামুর সচেতন মহল মনে করছেন, যেখানে লোক সমাগম হবে,আড্ডা হবে, অযথা ঘুরাঘুরি করবে তাদেরকে প্রসাশনের নির্দেশনায় আনসার ও গ্রাম পুলিশগন বাধা প্রদান করবেন। তাদের বাধা না মানলে তারা প্রসাশনের সহায়তা নিতে পারেন। প্রতিটি ইউনিয়নে ৯ জন গ্রাম পুলিশ ও একাধিক আনসার রয়েছে। তারা কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে কাজ করলে জনসমাগম রোধ করতে সহায়ক ভুমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন তারা।

রামু উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্ত জুয়েল ভূইয়া বলেন,এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকরী প্রস্তাব। আমি উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাবো। ওনারা সিদ্ধান্ত নিলে রামু উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয় সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, ধারনাটি চমৎকার, ভেবে দেখা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা বলেন,সুশীল সমাজের প্রস্তাবটি অত্যন্ত সুন্দর বিবেচনা করার মতো। তবে পরিস্থিতি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে। আপনারা হয়তো দেখতে পাচ্ছেন এলাকার চেয়ারম্যানরাও এখন মাঠে নেমেছে। বর্তমানে আমরা সবাইকে সাথে নিয়ে একযোগে কাজ করছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে আমরা অবশ্যই প্রস্তাবটি গুরুত্ব সহকারে আমলে নেবো।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •