সেলিম উদ্দীন, ঈদগাঁহ
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে দেশব্যাপী সরকারের দেয়া নির্দেশনা মানছেন না চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীর জনসাধারণ।

করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ গণজমায়েত বন্ধ ঘোষণা করা হলেও করোনা আতঙ্ক নেই ইউনিয়নের একমাত্র বাজার ও মহাসড়কের পাশের দোকানপাট গুলোতে।

এসব এলাকায় ক্রমেই বাড়ছে লোকসমাগম আর হোম কোয়ারেন্টিন না মানা মানুষের জটলা। মানা হচ্ছে না সরকারি নির্দেশনা।

ছুটিতে বাড়ি ফিরে গ্রামে অবস্থানরতদের প্রতিনিয়ত চলছে জমায়েত, খোশগল্প ও আড্ডা।
অপরদিকে দিনভর ছোট গাড়িতে যানজট হচ্ছে সড়কগুলো।

সরজমিনে রবিবার বিকেলে উপজেলার খুটাখালী বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মার্কেট, হাফেজখানা রোড়, পুর্বপাড়া সড়ক, কাঁচাবাজার, লামার বাজারসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ও দোকান পাটে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

সম্প্রতি সময়ে অতিরিক্ত লোকসমাগম ও মানুষের জটলা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সকাল, দুপুরে একটু মানুষের উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও বিকাল হতে না হতে এসব এলাকায় মানুষের ভীড় বেড়ে যায় বেশি।

ছোট ছোট চা- দোকান গুলোতে জমে আড্ডা। সিএনজি, অটো রিক্সা ও টমটমসহ ছোট খাট গাড়িতে এসব এলাকায় যানজট তৈরী হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এদিকে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ, সাংবাদিক ও এনজিও সহ সেবা মুলক নানা প্রতিস্টান বিভিন্ন ধরনের সচেতনতা কার্যক্রম চালালেও সাধারণ মানুষ তা তোয়াক্কাই করছে না।

করোনাভাইরাসের মহামারির কথা চিন্তা করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাতে ও মানুষদের ঘরে ফিরাতে সেনা বাহিনীর চৌকস টিম, উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ প্রতিনিয়ত মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার থেকে সেনা ও পুলিশ তাদের কার্যক্রম আরো জোরদার করেছে।
তারা গত শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ মানুষকে ঘর মুখো করতে জরিমানার পাশাপাশি অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু এর পর ও কাজ হচ্ছেনা। সেনা বাহিনী যেতে না যেতেই আবারো মানুষের জটলা।

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, জনসচেতনতায় প্রতিনিয়তই থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করাসহ বিভিন্ন স্থানে জীবাণুমুক্ত করতে জীবণুনাশক ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।
এর পরও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে মানুষ তেমনটা সচেতন হচ্ছে না।
প্রশাসনের চাপের মুখে মানুষ কিছুটা ঘরমুখী হয়, একদিন পার না হতেই আবারও সেই একই অবস্থা। তারপরও পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, জনসচেতনতায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাশাপপাশি স্বাস্থ্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তি, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নুরুদ্দিন মো. শিবলী নোমান বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক লিফলেট, জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটানো এবং হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের কঠোর পর্যবেক্ষণে রাখতে নিয়মিত প্রচার চালানো হচ্ছে।
হাট-বাজারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে, কিন্তু মানুষকে কন্ট্রোল করা যাচ্ছে না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •