মাহবুবা সুলতানা শিউলি:
ঈদের ছুটি শেষে থুক্কু করোনা’র ছুটি শেষে গার্মেন্টস শ্রমিকসহ নানা পেশার মানুষের কর্মস্থলে যোগদানের জন্য কত কষ্টকর ছুটাছুটি। আমরা কতিপয় ঘরে বসে বসে হোম কোয়ারেন্টাইন পালন করে কি হবে ! আমার বিশ্বাস ছিল এ জাতি করোনার সাথেও যুদ্ধ করে পেরে উঠবে। কারণ এ জাতি অনেক ধৈর্যশীল কিন্তু আজ যা দেখলাম তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। স্বাগতম গার্মেন্টস মালিকদের। আপনাদের আহবানে এই কর্মীরা করোনার ভয়কে পা মাড়িয়ে, ঘরে মা,বাবা, বউ-বাচ্চার শত বাঁধাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে সাড়া দিয়েছেন! এখন তাদের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে করমর্দন করার জন্য আপনারা প্রস্তুত আছেন তো! শহর থেকে গ্রামে, গ্রাম থেকে শহরে করোনা ভাইরাস এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট করার কৌশলের জনক হিসেবে গিনেজ বুকে আপনাদের স্থান হোক।

আরেকটু তামাশা যোগ করি। মধ্যরাতে ‘বিজিএমইএ’ ও ‘বিকেএমইএ’ সকল গার্মেন্টস ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেছে। একদিন আগেই এই সিদ্ধান্ত নিলে গরীব শ্রমজীবী মানুষগুলো জীবনের রিস্ক নিয়ে লকডাউন ভেঙে ঘর থেকে বের হতে বাধ্য হতো না। হায়রে তামাশা!!! মানুষে মানুষে এত বিভেদ!! কিন্তু কেন???

বিজিএমইএ গতকাল যেটি করেছে, এটি ভয়ানক এবং আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত ছিল। মানুষকে হাতজোড় করে, বুঝিয়ে, পিটিয়ে গত ২ সপ্তাহ ধরে যতটুকু ঘরে আটকে রাখা হয়েছে, তার কিছুটা নির্যাস সাফল্য দেশবাসী পেতে যাচ্ছিল। গার্মেন্টস মালিকদের হঠকারিতায় আজ সেটি ধ্বংশ হয়ে গেলো।

পোষাক শিল্পের রপ্তানির গুরুত্ব আমাদের কাছে ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ আমি, আমরা তথা এদেশের মানুষ বেঁচে থাকবে। লাখ লাখ মানুষকে গ্রামে পাঠিয়ে আবার তাদেরকে রীতিমতো জুলুস সহকারে রাজধানীতে আসতে বাধ্য করে, আবার সেই মানুষকে গ্রামমুখী করার এমন বেখেয়ালি অপকর্ম বিজিএমইএ কেন করলো? দেশের মানুষকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলে দেশে লাশের স্তুপ বানানোটাই কি তাদের উদ্দেশ্য ? তাদেরকে জবাবদিহি করা উচিত।

শ্রমিকরা কি মানুষ নয়!!! তাদের কেন বাধ্য করা হয়েছিল!!? চাকরি বাঁচাতে তারা কেন জীবনের মায়া ত্যাগ করে পায়ে হেঁটে, অসংখ্য দূর্ভোগ পার করে, চারগুণ ভাড়া পরিশোধ করে কেউ গাড়িতে, কেউ লন্চে , কেউ ট্রাকে চড়ে মালের মত গাদাগাদি অবস্থায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানায় এসে পৌঁছার পর এ ঘোষণা দিয়ে কি প্রমাণ করতে চাচ্ছেন??? আমাদের পুলিশ বাহিনী, আর্মিদের এভাবে জাতির কাছে ভিলেন বানিয়ে সবাইকে লকডাউনে বাধ্য করানো হচ্ছে সবারই মঙ্গল কামনায় তবে আমাদের এই শ্রেণীর মানুষগুলোকে চাকরী হারানোর ভয় দেখিয়ে কেন তাদের জীবন বিপন্ন করা হলো???? এই দীর্ঘ গন্তব্যে পৌঁছাতে গিয়ে তাদের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে কি হয়নি, তার কোন গ্যারান্টি কেউ কি দিতে পারবেন???

সত্যিই আমরা বড় অভাগা জাতি। লিখার ভাষাটুকু যেন হারিয়ে ফেলছি। বোবার শত্রু নেই। চলেন সবাই বোবা হয়ে মরে যাই। বলার কিছুই নেই। যা হবার তা তো হয়েই গেছে। তবে বাংলাদেশকে আর ঠেকানো গেল না, সেইটা মনে রাখেন সবাই। এখন সবাই প্রস্তুত থাকি করোনা ভাইরাসের সাথে মোকাবেলার জন্য। এই ঘনবসতিপূর্ণ রাষ্ট্রে এক থেকে ১০০ ছড়াতে মুহূর্তের বিষয়।
হায়রে বাংলাদেশ!!!

আর দুইটা সপ্তাহ কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যদি আমরা হোম কোয়ারেন্টাইনে শামিল হতে পারতাম…!!!!
আমরা এতই অভাগা..!!!

বলতে বাধ্য হচ্ছি,
সবাই মিলে গণ আত্যহত্যায় শামিল হচ্ছি আমরা সবাই। আজ গার্মেন্টস্ খুলেছে কাল স্কুল-কলেজ সহ সব কিছু খুলে দেয়া হোক। সবাই মিলে দলে দলে মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিই।

বি:দ্র: অত্যন্ত দু:খভারাক্রান্ত হয়ে লিখতে হলো।

 

মাহবুবা সুলতানা শিউলি
সদস্য, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ
কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
ইমেইল: [email protected]

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •