মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

করোনা ভাইরাসজনিত (COVID-19) সংকটে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে ২৯৭ জন বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রস্তাব কারা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কক্সবাজার জেলা কারাগারের তত্বাবধায়ক মোহাম্মদ মোকাম্মেল হোসেন সিবিএন-কে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, কারামুক্তির জন্য প্রস্তাব পাঠানো বন্দীদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত লঘু অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হাজতি ২৩১ জন, ৬ মাসের কম সাজা হতে পারে এরকম আইনের ধারায় বন্দী আছে ৮০ জন এবং সাজা খেটে সাজার মেয়াদ একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে এরকম হাজতি আছে ১২ জন। এসব বন্দীদের আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মুক্তি দেওয়ার জন্য একটা পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কারা অধিদপ্তরে সপ্তাহ খানেক আগে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান, কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ মোকাম্মেল হোসেন।

অপর একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র সিবিএন-কে জানিয়েছে, সারা বাংলাদেশের কারাগার গুলো থেকে প্রেরিত প্রস্তাব সমুহের প্রায় ৩১০০ জন বন্দীর নাম যাচাই-বাছাই করে কারা অধিদপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। সেখানে প্রায় ৩১০০ জন বন্দীর মুক্তির প্রস্তাব রয়েছে। সুত্রমতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়য়ক মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল প্রেরণ করেছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত অনুযায়ী সরকারের নির্বাহী আদেশ অথবা আদালতের বিচারকের মাধ্যমে জামিন দিয়ে তাদের সাময়িক ভাবে কারামুক্ত করা হবে।

চলমান বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতির কারণে সারাদেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে এসব বন্দীকে ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ধারণ ক্ষমতার প্রায় ৮ গুন বন্দী নিয়ে কারাগারগুলোকে সরকার করোনা ভাইরাস সংকটে নিরাপদ মনে করছেনা। তাই করোনা ভাইরাস সংকটে কারাগারগুলোকে নিরাপদ রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট ফরিদুল আলম।

কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে প্রস্তাব যাওয়া ২৯৭ জন বন্দীকে আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মুক্তি দিলে কক্সবাজার জেলা কারাগার একটু করোনা ভাইরাস ঝুঁকিমুক্ত হবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জিয়া উদ্দিন আহমদ।

প্রায় আড়াইশো মহিলা বন্দী সহ প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বন্দী নিয়ে কক্সবাজার জেলা কারাগারে এক অসহনীয় অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানান, বেসরকারি কারা পরিদর্শক ও বিশিষ্ট নারীনেত্রী রেবেকা সুলতানা আইরিন। তিনি বলেন, জামিনযোগ্য ছোটখাটো অপরাধে যারা কক্সবাজার জেলা কারাগারে বন্দী আছেন, সেরকম ২৯৭ জনের মুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জেনেছি।
প্রেরিত বন্দীমুক্তির প্রস্তাব পাশ হলে কক্সবাজার জেলা কারাগারে করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন বেসরকারি কারা পরিদর্শক রেবেকা সুলতানা আইরিন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •