অধ্যাপক আকতার চৌধুরী

৩য় পর্ব

আমাদের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। বিশেষ করে চাঁদ দেখা কমিটি নিয়ে । কোন এক বছর সন্ধ্যা ৭টার খবরে বলা হল ,দেশের কোথাও চাঁদ দেখা যায় নাই । মানুষ জন তারাবির নামাজ আদায় করলেন। ঘরমুখো মানুষগুলো আরো একটা দিন বাড়তি পাবার আশায় পসরা সাজিয়ে বসে পড়লেন। সেহরী খাবার তাগিদ নিয়ে শুয়ে পড়লেন অনেকে।এমনই অবস্থায় মাইকের আওয়াজে মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল মানুষের। “ঈদ মোবারক ,ঈদ মোবারক“ । পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এমন খুশির সংবাদে পড়ি কি মরি মানুষ মাঝরাতেই ঘুম ভেঙ্গে কেনাকাটা , গাড়ি নিয়ে ছুটাছুটি। ফলে ঈদের খুশিটাই মাটি।

বাংলাদেশ যেন করোনামুক্ত এমন একটা ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। খুব শীঘ্রই করোনামুক্ত দেশ ঘোষণা করা হবে  এমন একটা বক্তব্য মাননীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ২ দিন আগেও  রেখেছেন।  জেলায় স্বল্প পরিসরে হোটেল রেস্টুরেন্ট ও খোলার অনুমতি দেয়া হয়েছে। রাস্তাঘাটে মানুষের খোলামেলা চলাফেরাও বেড়ে গেছে। বিশেষ ব্যবস্থায় গণপরিবহন বিশেষ করে ট্রেন চালুরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।  এগুলো সবই দরকারী। হয়তো লক ডাউনকে হাফ ডাউনও করা হতে পারে।   খুশী খুশী ভাব , বৈশ্বিক ভাইরাস করোনা আমাদেরকে তেমন একটা ছুঁতে পারে নাই। তার মানে আমরা ঝুকি মুক্ত নই। হোম কোয়ারেন্টাইন কঠোরভাবে পালন করা জরুরী । আর এটা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে   স্বল্প আয়ের কর্মজীবি , দিনমজুর ,শ্রমিক ও ভিক্ষুকদের ৩ বেলা খাদ্য নিরাপত্তা প্রদান করাও জরুরী।

বিশ্বকে দেখলে ভয়ে আতকে উঠার মত। বিশ্বে চীনকে পেছনে ফেলে মৃত্যুর হারে ইতালী , স্পেন , ইরান , ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র এক অপরের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। পার্শ্ববর্তী ২ দেশ ভারত ও মিয়ানমারে করোনা প্রকোপ বেড়েছে। আগামী ১ সপ্তাহ করোনা ছড়িয়ে পড়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলাও হচ্ছে । আবার ঢিমাতালে হরতালের মত হোম কোয়ারেন্টাইনও করা হচ্ছে। একবার সবাই বের হয়ে পড়লে আর ঘরে ঢুকানো মুসকিল হবে কিনা ভাবা দরকার। আজ (৩১ মার্চ’২০২০) ভারতের গুজরাটে হাজার হাজার মানুষ হোম কোয়ারেন্টাইন ভেঙ্গে রাজপথে বের হয়ে পড়েছে। সেটা ঠেকাতে পুলিশকে গুলি চালাতে হয়েছে। এটা একটা উদাহারণ। এটাও খাদ্য নিরাপত্তার অভাবের কারণে হোম কোয়ারেন্টাইন মাঠে মারা গেছে। তাই বলছিলাম , তখন মাঝরাতে ঈদ মোবারকের মত হবে। মহামারী ঠেকানো মুসকিল হয়ে যাবে।

দেশে হোম কোয়ারেন্টাইন বলতে শ্রমজীবি, দিনমজুরদের ঘরে একেবারেই উঠে গেছে। কিছু মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তরা হোম কোয়ারেন্টাইন পালন করছে। প্রশাসন শুধূ দখলে রাখতে পেরেছে রাজপথ । অলিগলি মেঠোপথ তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সামাজিক দুরত্ব আর গেদারিং বা জনসমাবেশ কি রকম পালন করা হচ্ছে তা উখিয়ার ক্রিকেট খেলায় মারামারির কথা শুনলে কারো বোধগম্য না হওয়ার কথা নয় ।
তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে একটা সুসংবাদ কক্সবাজারবাসীকে আনন্দিত ও আশাবাদী করেছে। কক্সবাজারের প্রথম করোনা রোগী ঢাকাস্থ বাংলাদেশ- কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে করোনা টেষ্ট পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ রেজাল্ট এসেছে। এটা অত্যন্ত শুভ দিক। ডাক্তারী মতে চিকিৎসায় পজেটিভ রোগী নেগেটিভ হওয়াও সম্ভব । অনেকে সুস্থ হয়ে ইতিমধ্যে ঘরেও ফিরে যাচ্ছেন।

অনেকে এটা নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে প্রশ্ন করছেন – আসলেই তিনি করোনা রোগী ছিলেন কিনা? হয়ে থাকলে ওনার সাথে ঘনিষ্ট মেলামেশাকারী কারো করোনা টেষ্ট পজেটিভ আসলনা কেন? যারা ওনার করোনা টেষ্ট পজেটিভ পেয়েছিল সে পরীক্ষাও কতটুকু সঠিক ছিল? মাঝখানে ভুল টেষ্টের খেসারত একটি পরিবারকে যে পরিমাণ হেরাসমেন্টের শিকার হতে হয়েছে তার দায় দায়িত্ব কে নেবে? এটা করোনার করুণ রঙ্গ নয়তো!

♦» করোনা ডায়েরী-১ম পর্ব : ঘাতক করোনার অভদ্র শিষ্টাচার!

 

♦» করোনা ডায়েরী- ২য় পর্ব: এক করোনা রোগীতে কক্সবাজারের করুণ অবস্থা

 

♦» করোনা ডায়েরী- ৩য় পর্ব : এ কেমন করোনার করুণ রঙ্গ !

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •