মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

ঢাকাস্থ উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটের কেবিনে চিকিৎসাধীন কক্সবাজারের একমাত্র করোনা ভাইরাস জীবাণু আক্রান্ত রোগীর শরীরে এখনো করোনা ভাইরাস জীবাণু আছে কিনা তা জানতে আবারো তার রক্ত ও শরীরের অন্যান্য স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে। ৩০ মার্চ সংগ্রহ করা স্যাম্পলের টেস্ট রিপোর্ট ৩১ মার্চ বেলা ১ টা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজারের খুটাখালীর দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা ৭৮ বছর বয়স্কা উক্ত করোনা রোগীর সাথে থাকা তাঁর কন্যা সাফিয়া বেগম সিবিএন-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন

তিনি বলেন, তার মায়ের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে।

তিনি আরো জানান, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটের ৬ নম্বর ব্লকের ৩০৭/৩০৬ নম্বর কেবিনে তার মায়ের সমন্বিত চিকিৎসা চলছে।
গত ৩ দিনের চিকিৎসায় তার মায়ের ডায়রিয়া, এজমা সহ অন্যান্য রোগের প্রভাব অনেক কমে এসেছে।

শনিবার ২৮ মার্চ সকালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কক্সবাজার সদর হাসপাতালে তার মায়ের স্বাস্থ্যের গুরতর অবনতি হলে তার মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাস্থ উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে রেফার করেন জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ঢাকায় সরকারিভাবে যে ১১ টি হাসপাতালকে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল করোনা চিকিৎসা সেবায় শীর্ষে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ ফেব্রুয়ারী সৌদী আরবে উমরাহ হজ্জ করতে যান উক্ত করোনা রোগী। গত ১৩ মার্চ মহিলাটি তার সন্তান ব্যাংকার হারুনর রশিদ সহ দেশে ফেরেন। পরে মহিলাটি গুরতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বিদেশ থেকে আসার বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রেখে তাকে ১৮ মার্চ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২২ মার্চ মহিলাটির চিকিৎসকেরা তার শরীরের স্যাম্পল সংগ্রহ করে টেস্টের জন্য ঢাকার আইইডিসিআর ল্যাবে পাঠিয়ে দেন। গত ২৪ মার্চ টেস্ট রিপোর্ট আসলে সেখানে তার শরীরে করোনা ভাইরাস জীবাণু ধরা পড়ে। পরে গত ৪ দিন যাবৎ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত মহিলাটিকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে রেখে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দিয়ে সুস্থ করতে না পেরে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ঢাকায় রেফার করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •