নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া
চকরিয়ায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা সড়কের পাশে খাদে উল্টে গিয়ে মিজান বাদশা (৩৫) নামে এক চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় তার বাম পায়ের একটি ভেঙ্গে যায়। ঘটনার পরপরই আহত সিএনজি চালক মিজানকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তার অবস্থার আরো অবনতি হওয়ায় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সিএনজি চালক মিজানকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন। সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে হারবাং ইউনিয়নের নাথ পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সিএনজি চালক মিজান উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের উত্তর হারবাং গয়ালমারা চম্পাতলি এলাকার আবদুল করিমের ছেলে।

পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পা ভেঙ্গে যাওয়া আহত মিজান বাদশা বলেন, সোমবার সকাল ৯টার দিকে হারবাং ইউনিয়নের গয়ালমারা এলাকা থেকে একজন রোগী নিয়ে মহাসড়ক দিয়ে বরইতলী নতুন রাস্তার মাথা এলাকায় এসে নামিয়ে দিই। পরে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে খালি গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে হারবাং স্টেশন এলাকায় ব্যারিকেট দেন হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) পারসিত চাকমা। এ সময় গাড়ি জব্দ করে আমার কাছ থেকে টাকা দাবী করলে আমি তাকে রোগী নিয়ে আসার বিষয়টি অবহিত করা চেষ্ঠা করি। পরে আমি চলে যেতে চাইলে এসআই পারসিত চাকমা মোটর সাইকেল নিয়ে আমাকে ধাওয়া করেন। এ সময় পুলিশের ভয়ে আমি সিএনজি গাড়ি নিয়ে অভ্যন্তরীণ সড়কে ঢুকে পড়লে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হই। আহত মিজান বাদশা আরো বলেন, দূর্ঘটনার পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আমাকে মারধর করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। দূর্ঘটনায় তার বাম পায়ের হাড় ভেঙ্গে যায় বলেও জানান আহত সিএনজি চালক মিজান বাদশা।

স্থানীয় লোকজন বলেন, এসআই পারসিত চাকমা হারবাং পুলিশ ফাঁড়িতে যোগদানের পর থেকেই অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অভ্যস্তরীণ সড়কে চলাচলকারী টমটম, ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও সিএনজি অটোরিক্সা আটক করে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া তার নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়।

তবে অভিযুক্ত এসআই পারসিত চাকমা বলেন, সিএনজি চালিত অটোরিক্সাটিকে সিগন্যাল দিলে গাড়িটির চালক চালক পালিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ খাদে পড়ে গিয়ে আহত হয়। মারধরের বিষয়টি সঠিক নয় বলেও দাবী করেন তিনি।

এ ব্যাপারে হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) পারসিত চাকমা ডিউটি কালীন সময়ে যদি কোন ধরণের অপরাধ করে থাকেন তাহলে বিষয়টি তদন্তে প্রমান হলে তার বিরোদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •