এম.এ আজিজ রাসেল

করোনা ভাইরাসে বিশ্ব আজ মহাসংকটে। প্রায় ২০০টি দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। যার কারণে দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে হতাহতের মিছিল। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার সরকারি-বেসরকারিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ১০দিন ছুটির ঘোষণা করা হয়েছে। এতে থেকে গেছে সড়কের চিরচেনা চেহারা। মানুষ এখন ঘরবন্দি। সর্বত্র বিরাজ করছে সুনসান নিরবতা। এতে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। জেলায় বিভিন্ন শ্রেণীর দিনমজুর কর্মহীন হয়ে দিনাতিপাত করছে। কর্মহীন হয়ে ২/৩ দিন আরামে কাটলেও বর্তমানে অনিশ্চিয়তা ভর করেছে তাদের। চোখেমুখে এখন শুধু অন্ধকার। কিভাবে পাড়ি দিবে সামনের দিনগুলো এমনই চিন্তায় ডুবে রয়েছে হতদরিদ্র এসব মানুষ।

জেলায় এখনও পর্যন্ত নিম্ন আয়ের মানুষগুলো সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। ব্যক্তি বা সংগঠনের উদ্যোগে কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষদের খাদ্যসামগ্রী দেয়া হলেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল। অধিকাংশ মানুষ ওই সহায়তা পাচ্ছে না। গত রবিবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসন হতদরিদ্র মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। উপজেলা-ইউনিয়ন ভিত্তিক দরিদ্র মানুষের তালিকা করা হচ্ছে। সেই তালিকা তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে কাউন্সিলর ও মেম্বাররা। অভিযোগ রয়েছে কিছু জনপ্রতিনিধি তালিকা তৈরিতেও নানা অনিয়ম করছে। তারা ওই তালিকায় শুধু তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করছে। তবে এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাস সংকটে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের জন্য ৩০০ টন চাল ও ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে। ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলবে। যতোদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শহরের রিকসা চালক মোহাম্মদ হাশেম বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। দিনভর ঘুরেও টাকা রোজগার হচ্ছে না।

একইভাবে সুর তুললেন টমটম চালক জালাল। সে জানায়, রাস্তায় বের হলে পুলিশী বাধায় পড়তে হয়। এমনিতে রাস্তায় মানুষ নেই। তার মধ্যে চলাচলে রয়েছে বাধ্যবাধকতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মজীবী বলেন, অফিস বন্ধ। ছোট চাকরি করে টাকাও তেমন জমাতে পারেননি। কর্মহীনে দুঃখের কথা লজ্জায় কাউকে প্রকাশ করতে পারছেন না তিনি। তাই পরিবার পরিজন নিয়ে নিভৃতে কষ্টে দিন যাপন করছেন।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, জনসচেতনতায় শহরে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, প্রচার অভিযানসহ নানা কার্যক্রম করছে কক্সবাজার পৌরসভা। শীঘ্রই অসহায় মানুষদের সহায়তা দেয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন আরও বলেন, ভয় ও আতংকের কোন কারণ নেই। কোন হতদরিদ্র মানুষ সহায়তা থেকে বাদ যাবে না। সবাইকে সহায়তা দেয়া হবে। কেউ বাদ গেলে তিনি কাউন্সিলর, ইউএনও বা সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য আহবান জানান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •