ধর্ম ডেস্ক:
মহামারি করোনায় আক্রান্ত পুরো বিশ্ব। মুমিন মুসলমানের জন্য সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর আস্থা এবং বিশ্বাসের পাশাপাশি তারই শুকরিয়া আদায় করা একান্ত আবশ্যক। কারণ মহান আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের বহু নেয়ামত দিয়ে ঢেকে রেখেছেন। সারা পৃথিবীতে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য অসংখ্য নেয়ামত ছড়িয়ে দিয়েছেন তাদের কল্যাণে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন-
أَلَمْ تَرَوْا أَنَّ اللَّهَ سَخَّرَ لَكُم مَّا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَأَسْبَغَ عَلَيْكُمْ نِعَمَهُ ظَاهِرَةً وَبَاطِنَةً وَمِنَ النَّاسِ مَن يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَلَا هُدًى وَلَا كِتَابٍ مُّنِيرٍ
তোমরা কি দেখ না? আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে যা কিছু আছে, সবই তোমাদের কাজে নিয়োজিত করে দিয়েছেন এবং তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন? এমন লোক ও আছে; যারা জ্ঞান, পথনির্দেশ ও উজ্জল কিতাব ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বাকবিতন্ডা করে। (সুরা লোকমান : আয়াত ২০)

যুগে যুগে নানা ঘাত-প্রতিঘাত, মহামারি ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মাঝেও মহান আল্লাহ তাআলা তার বান্দার উপর সবচেয়ে বড় যে নেয়ামত দান করেছেন তাহলো যুগে যুগে মানুষের হেদায়েত ও সঠিক দেখানোর লক্ষ্যে নবি রাসুল প্রেরণ করা। গাইড হিসেবে কিতাব অবতীর্ণ করা ও ইসলামের হেদায়েত দান করা।

এ নেয়ামতের দাবি হলো-
মহান আল্লাহ তাআলার প্রাপ্য হক বা অধিকার বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে তা যথাযথভাবে প্রয়োগের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া। আর আল্লাহ তাআলার গুরুত্বপূর্ণ হকসমূহের মধ্যে প্রথমটি হলো- তার প্রতি ঈমান আনা বা বিশ্বাস স্থাপন করা।
যা গ্রথিত হবে বা জন্ম নেবে বান্দার হৃদয়ের গভীরে এবং যার অভিব্যক্তি খুঁজে পাবে বা প্রকাশ পাবে বাহ্যিক আচার-আচরণে। বান্দার জন্য মহান আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন ৪টি বিষয়কে অন্তর্ভূক্ত করে। আর তাহলো-

– প্রথমত : আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বের উপর ঈমান
আল্লাহ ছিলেন, আছেন, থাকবেন। হৃদয়ের গভীরে কঠিনভাবে এ বিশ্বাস পোষণ করার নামই হলো আল্লাহর অসিতত্বের প্রতি বিশ্বাস। মহান বিশ্বের সৃষ্টি ও পরিচালনার পেছনে একজন সৃষ্টিকর্তা ও প্রতিপালক রয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কার।

– দ্বিতীয়ত : আল্লাহর রুবুবিয়্যতের উপর ঈমান
সৃষ্টির মালিকানা একমাত্র আল্লাহ তাআলার। তিনিই পরিচালক, প্রতিপালক। তিনি একাই আদেশ-নির্দেশের অধিপতি। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন-
إِنَّ رَبَّكُمُ اللّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ تَبَارَكَ اللّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ
‘নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ৫৪)

– তৃতীয়ত : আল্লাহর উলুহিয়াতের উপর ঈমান
শুধু আল্লাহ তাআলাই সত্যিকারার্থে রব বা প্রতিপালক। বিনয় ও মহব্বত সমন্বিত ইবাদতের উপযুক্ত একমাত্র তিনি। তিনি ছাড়া অন্য কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নয়। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
وَإِلَـهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لاَّ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ
‘আর তামাদের ইলাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। তিনি করুণাময় ও দয়ালু।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৬৩)
প্রভুত্ব একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য। ইবাদত পাওয়ার অধিকারী একমাত্র তিনিই। যারা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে অংশীদার হিসেবে সাব্যস্ত করে তাদের ধারণা ভুল ও অবাস্তব।

– চতুর্থত : আল্লাহ তাআলার নাম ও সিফাতের ওপর ঈমান
আল-কুরআন ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশুদ্ধ সুন্নাহর আলোকে আল্লাহ তাআলার যেসব নাম ও সিফাতের কথা এসেছে সে সবের প্রতি বিশ্বাস করা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ মর্মে নিজেদের পক্ষ থেক কোনো অপব্যাখ্যা নিষ্ক্রিয়করণ আকৃতি ও উপমা প্রদান করা থেকে বিরত থাকতে হবে কঠিনভাবে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন-
وَلِلّهِ الأَسْمَاء الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُواْ الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَآئِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُواْ يَعْمَلُونَ
‘আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম। কাজেই সে নাম ধরেই তাঁকে ডাক। আর তাদেরকে বর্জন কর, যারা তাঁর নামের ব্যাপারে বাঁকা পথে চলে। তারা নিজেদের কৃতকর্মের ফল শীঘ্রই পাবে ‘ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮০)

অন্যত্র এসেছে-
فَاطِرُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ جَعَلَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَمِنَ الْأَنْعَامِ أَزْوَاجًا يَذْرَؤُكُمْ فِيهِ لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ
‘তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের স্রষ্টা। তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্যে যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং চতুস্পদ জন্তুদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন। এভাবে তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার করেন। কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়। তিনি সব শুনেন, সব দেখেন।’ (সুরা আশ-শুরা : আয়াত ১১)

প্রত্যেক মানুষের উচিত উল্লেখিত বিষয়াবলীতে মহান প্রভুকে বিশ্বাস করা। তার দেখানো পথে ও মতের ওপর জীবন পরিচালিত করা। তবে মহান আল্লাহ মানুষকে দেখাবেন সঠিক পথ। হেফাজত করবেন যাবতীয় বিপদ-আপদ, মহামারি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে।

আমরা যেন মহান প্রভুর নির্দশনাবলী দেখে দেখে বিশ্বনবির দেখানো মত ও পথে চলতে পারি। আর মহান আল্লাহ তাআলার উপর পরিপূর্ণ আস্থা এবং বিশ্বাস স্থাপন করে কবরে যেতে পারি। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ বিশ্বাসের উপর দৃঢ় থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •