তানভীরুল মিরাজ রিপন

রাজনীতি আর স্বাস্থ্য একই বৃন্তে বাঁধা একটি বিষয়। পৃথিবীর সমস্ত কিছুই রাজনীতি নির্ভর, এমনকি চির সত্য মৃত্যুও রাজনীতি কেন্দ্রীক। এগুলো ভিন্ন ব্যাখ্যা আছে। রাজনীতি আর স্বাস্থ্য আলাদা না হলেও উপস্থাপন আলাদা। রাজনীতি কথা ও চাল চক্করের ওপর নির্ভর করে,স্বাস্থ্য প্রমাণও সম্পূর্ণ গবেষণার ওপর নির্ভর করে। অবশ্য রাজনীতিও কি গবেষণার বিষয় নয়? হ্যাঁ বিষয়। কিন্তু সেটা বাংলাদেশের জন্য নয়। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদগণ কোনো বাদ মতবাদ অনুসরণ করেন না;করেন জিন্দাবাদ আর মূর্দাবাদে। আলোচনাটি মোটেও ইংরাজী সাহিত্য বনাম এমবিবিএস পরিপন্থী সমালোচনা নয়। সমালোচনাটা এরই অন্তর্ভুক্ত। আমাদের বদলাতে হবে অনেক পদ ও পদবী। শিক্ষা নিতে হবে এ ক্রান্তি থেকে।

নেত্র নিউজকে দেশে ব্লক করেছে। নেত্র নিউজ প্রকাশ করেছিলো দেশে জাতিসংঘের গবেষণা এবং হিসাব মতে ২০ লাখ মানুষ মারা যাবে করোনা আক্রান্ত হয়ে (নেত্র নিউজ-২০২০)। এ খবরটি প্রকাশ করাতে নেত্র নিউজকে ব্লক করে দেওয়া হয় দেশে।যেহেতু নেত্র নিউজ লন্ডন ভিত্তিক একটি বাংলা নিউজ এজেন্সি সেহেতু প্রকাশ রুখতে পারেনি। কিছুদিন আগে ব্রডকাস্ট চ্যানেলগুলোর খবরে কোনো গুজব আছে কি না তা দেখবার জন্য ১৫ সদস্যের একটি টীম গঠন করেছিলো তথ্য মন্ত্রণালয়। তীব্র সমালোচনার মুখে টীমটির কার্যাবলী বাতিল করে দেওয়া হয়৷ সম্প্রতি পুলিশের প্রধান বলেন,করোনা নিয়ে গুজব ছড়ালে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। আইইডিসিআর গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে। মাঠে আছে নৌ-সেনা,পুলিশ,র্যাব,স্থানীয় প্রশাসনও আছে। আমার এ লেখাটিতে দৃষ্টিপাত করবো সামষ্টিক বিষয় নিয়, বলাবাহুল্য একটি রাষ্ট্রের প্রধান কাঠামো অর্থনীতি। যেহেতু সার দুনিয়া কভিড ১৯ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ও যুদ্ধ করেছে তারই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

আজ পর্যন্ত বিশ্বে করোনা আক্রান্ত রোগী ৬ লাখেরও বেশি। জন হপ কিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য দিচ্ছেন, সুস্থ হয়ে মাত্র ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪৫১ জন রোগী। বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৪৮ জন রোগী শনাক্ত করতে পেরেছে।এতে ১৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং ৫ জন মারা গিয়েছে। ফলাফল সর্বশেষ দাড়াচ্ছে ২৮ জন করোনা রোগী আছে এ দেশে। নিউইয়র্ক, ইটালি,স্পেন, ইরান,ব্রিটেন হিমশিম খাচ্ছে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ কম টেস্ট কম নমুনা সংগ্রহ করে করোনা আপাতদৃষ্টিতে নিয়ন্ত্রিত। এটি একটি সফলতা বলে বিবেচনা করা যেতে পারে। যেহেতু আমাদের স্বাস্ত্র মন্ত্রী একজন চৌকস ব্যক্তি ও রাজনীতিবিদ। তিনমাস আগে থেকে চার বেডের একটি করোনা ওয়ার্ড খোলার জন্য নির্দেশনা দিয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া সরকারের আর কোনো নির্দেশনা দেননি বলে জানান রুবীনা জানান। প্রথম আলোর একটি সম্পাদকীয় পড়ে জানতে পারলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা শিশির মোড়লকে জানান যে, রোগী শনাক্ত হবে জানতাম কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি শনাক্ত হবে আশা করিনি। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বরাবরই কড়া সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছে আমাদের দেশসহ করোনা ঝুঁকিতে থাকা প্রায় সকল দেশকে। টেস্ট,টেস্ট,টেস্ট এবং টেস্ট করে আলাদা করে ফেলতে হবে রোগীদের। জর্মন,আমেরিকা জোর চেষ্টা চালাচ্ছে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের। আমেরিকা থেকে একটি সুসংবাদ আসলো এক মহিলার শরীরে পুশ করা হয়েছে করোনা ভাইরাসের প্রথম ভ্যাকসিন। জর্মনও তৈরী করেছে প্রতিষেধক ভ্যাকসিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধানের দাবি, করোনা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ কোনো উপায় নেই। প্রায় ১২ থেকে ১৮ মাস লাগবে ভ্যাকসিন সহজলভ্য হতে।

এ কঠিন সময় পার করতে হবে আমাদের সকলকে, সব মানুষকে। ক্ষতিগ্রস্ত ধনী গরীব সকল রাষ্ট্রের হচ্ছে। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলো পারবে এ বিপর্যয় টেকাতে? বাড়বে তাদের ঋণের বোঝা।ধাক্কা সামলানোর কোনো পথও নেই। আইএমএফ প্রধান জর্জিয়েভা বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ৩০০ কোটি ডলারের পুঁজি কমে গেছে। ওইসব দেশের সরকার নিজেরা ঘাটতি পূরণ করতে পারবে না। এসব দেশের অনেকের ঘাড়েই আবার বড় ঋণের বোঝা রয়েছে। ৮০টি উন্নয়নশীল দেশ ইতোমধ্যে তাদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে আপৎকালীন তহবিল চেয়েছে। আড়াই ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে এ মন্দা কাটাতে হলে। যা কাটাতে সময় লাগবে ২০২১ সাল পর্যন্ত।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে এফডিআই নিয়ে ইউএনসিটিএডি(UNCTAD) বিশেষ প্রতিবেদনে চলতি বছর বিশ্বজুড়ে এফডিআই প্রবাহ ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ ধারা আগামী বছরেও অব্যাহত থাকবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলছে, মহামারি মাঝারি আকারের হলে বিশ্ব অর্থনীতির মোট ক্ষতি হবে ১৫৬ বিলিয়ন ডলার।

এ দিকে জিডিপির ১০ শতাংশ দিয়ে তহবিল গঠনের চায় টিআইবি। সে তহবিলের সুষমবণ্টন ও চান সাথে জবাবদিহিও। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন শুধু মাত্র গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা। বিজিএমইএ ধারনা মতে দেশে ৪১ লাখ শ্রমিক আছে দাবি করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে যদিও সরকারি মন্ত্রনালয়ের হিসাব সংখ্যাটা আরও কম। শ্রম মন্ত্রণালয়ের হিসাবে পোশাকশিল্পে ২১ লাখ ৩০ হাজার ১৫৪ শ্রমিক কাজ করেন। এর মধ্যে নারী ১২ লাখ ২০ হাজার ৪৭৯ এবং পুরুষ নয় লাখ ১৬ হাজার ১৮২ জন।
অবশ্য অধিদপ্তরের হিসাবের মধ্যে আনা হয়নি দেশের আটটি রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকায় (ইপিজেড) অবস্থিত পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের। ইপিজেডের ১৮১টি পোশাক কারখানায় কর্মরত আছেন দুই লাখ ৫৯ হাজার ৫৭১ জন শ্রমিক। এর সঙ্গে অধিদপ্তরের শ্রমিকদের যোগ করলে পোশাকশিল্পে কর্মরত মোট শ্রমিকের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩ লাখ ৮৯ হাজার ৭২৫। এটি বিজিএমইএর দাবি করা শ্রমিকের সংখ্যার চেয়ে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ লাখ কম।(শুভংকর কর্মকার/প্রথম আলো-১৪) তাহলে এখানে বিজিএমইএ কর্তা রেখে যে ৫০০০ কোটি টাকা বন্টন দেখানো হবে ৪১ লাখ মত শ্রমিককে বস্তুত শ্রমিক তো ২৩ লাখ। ২৮ লাখ শ্রমিকের নাম দেখিয়ে এ টাকা গায়েব হওয়ার শংকাকে উড়িয়ে দিচ্ছিও না। গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন নূন্যতম ৮ হাজার টাকা। যদিও এ নিয়ম বা স্কেল আদৌ মানে না কারখানা মালিকেরা। আটহাজার টাকার হিসেবে কত পার্সেন্টেজ ধরে এ প্রনোদনা শ্রমিক দের বন্টন করা হবে তারও একটি সুস্পষ্ট বন্টন নীতি সাথে স্পষ্টত হ্যান্ড টু কিম্বা লিখিত চেক আকারে দেওয়া আবশ্যক। বাংলাদেশে করোনার প্রভাবে ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের বানিজ্য উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। চামড়া এবং পোশাক খাত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দাবি সংস্থাটির।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩ হাজার ৪১৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এর জন্য কাঁচামাল আমদানি হয়েছে ১ হাজার ২১৭ কোটি ডলারের। ৮৫ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা আসে পোশাক খাত থেকে।সে থেকে আঁচ করা যায় দেশ ভয়ংকর বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। বিজিএমইএর হিসেব মতে করোনা পরিস্থিতি কারনে ২৩ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ১.৪৮ বিলিয়ন ডলারের অর্ডার কেনসেল করেছে বিভিন্ন ব্রান্ড ও বায়াররা। যদিও তিনি চেষ্টা করছেন, যেকোনোভাবে ধ্বস আটকানোর।

পোশাক খাতের পরিস্থিতি শোচনীয় অবস্থায় আছে। চামড়াখাত?আবাসন শ্রমিক খাত ? কৃষক?দিন মজুর? তাঁদের দারিদ্র্য বিমোচন লাগব করবে কে? সংবাদপত্রের পাতা আর টিভি খোললে দেখা যাবে, আমরা ঘরের বাইর না হলে আমাকে খাওয়াবে কে? সরকার ঘোষণা দিয়েছে ইতোমধ্যে তাদের ফ্রীতে খাওয়াবে আপৎকালীন সময়টিতে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও এগিয়ে আসছে, বিত্তবানেরা,প্রশাসকেরা তহবিল করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। এভাবে আমাদের আপাতত বাচাতে হবে আমাদের। আমরাই আমাদের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হবো।

গত ৪৮ ঘন্টায় কোনো রোগী পাওয়া যায়নি। এটি সুসংবাদ। আমাদের প্রত্যাশা এমনই হওয়া উচিত। তবে কর্মকান্ডের মাপঝোঁকে আমাদের শংকা কাটছেনা। দেশের করোনা দুর্যোগ কাটানোর জন্য একটি হাসপাতাল নির্মাণ চেষ্টা চলছে। যা সাতদিনের মধ্যে শেষ হবে। রোগী না থাকলে হাসপাতাল কেনো? দেশে ধ্বস নামছে, অর্থনীতির শোচনীয় বিপর্যয় ঘটছে। এরপরও হাসপাতাল কেনো? পর্যাপ্ত পরিমাণ কীট মজুদ রাখতে পারেনি। সারাদেশে মোট ২৯টি আইসিইউ। পর্যাপ্ত পিপিই নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলছেন, এখনও পিপিই পড়ার সময় আসেনি। চট্টগ্রাম প্রতিদিন গতকাল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, চট্টগ্রামের করোনা রোগীরা আইসিইউ সেবা পাবে না। সারাদেশে টেস্টের ব্যবস্থা না করে বিভাগীয় হাসপাতাল গুলোতে মাত্র হাতে গুনা কীট দিয়ে টেস্ট করানো শুরু করা হয়েছে। কোনো ভ্যান্টিলেটর নেই রোগীর জন্য। তাহলে এ দেশের এতো প্রবৃদ্ধি, একটা দেশী লেবুর পেছনে আমি প্রায় ১০ টাকা ভ্যাট কেনো দিচ্ছি? এ ভ্যাটের টাকায় স্প্যান ওঠে আমরা জানি,রিজার্ভও পদ্মাসেতুর স্প্যানে চলে যায়। তবে আগাগোড়া দেশটা যেনো ইংরেজী সাহিত্যের রোমিও জুলিয়েট, আখ্যান হলো মৃত্যু নিশ্চিত।বিভাগীয় প্রধান, মেডিসিন বিভাগ, মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রুবীনা ইয়াসমীন প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন দেশে যেখানে সাধারণ টেস্ট দুই বেলা করা যায় না, সেখানে বিএসএল-টুর চিন্তা করার প্রশ্নই ওঠে না। দু-তিন দিন ধরে টিভিতে শুনতে পাচ্ছি, সব বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টেস্ট করা হবে। সরকার যেকোনোভাবে হোক, এটা চালু করতে চাইছে। কিন্তু বিএসএল-টু চালু করতে হলে সময় লাগবে। ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন পর্যন্ত চালু করতে পারেনি।ইনফেকসাস ডিজিজ স্পেশালিস্ট মাত্র ৬ জন। তবে রুবীনা ইয়াসমীন সতর্কভাবে আশাবদী, একারণে যে দেশের বাইরে থেকে যারা এসেছেন তাদের আসার এখন ১৪ দিন পরিপূর্ণ হয়েছে।যদি সংক্রমণ হয়ে থাকতো তাহলে সেটা এতোদিন বোঝা যেতো।

কোনো কিছু পর্যাপ্ত নেই তার ওপর হাসপাতাল বানিয়ে কি জানান দিতে চায় সরকার এটি বোধগম্য নয়। করোনাভাইরাসের লক্ষণ-উপসর্গ আছে, সারাদেশ থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় এমন ৭৩ হাজার ১৩৪ জন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইনে ফোন করেছেন। তাদের মধ্যে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) মাত্র ৪৭ জনের করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা করেছে। অর্থাৎ, করোনার লক্ষণ-উপসর্গ থাকাদের মধ্যে মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ ব্যক্তিকে পরীক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় কেবল এই আইইডিসিআর হটলাইনে ফোনকল এসেছে তিন হাজার ৪০৫টি। তাদের মধ্যে পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে ৪৭ জনকে। এ হিসাবে ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ সন্দেহভাজন ব্যক্তি পরীক্ষার আওতায় এসেছে। গত ২১ জানুয়ারি থেকে হিসাব করলে গতকাল শনিবার পর্যন্ত হটলাইনে ফোনকলের সংখ্যা আট লাখ দুই হাজার ৫৮০টি। তার মধ্যে মাত্র এক হাজার ৭৬ জনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। এ হিসাবে আইইডিসিআর মাত্র শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ মানুষকে পরীক্ষার আওতায় আনতে পেরেছে।

করোনা ভাইরাসের কারনে যুক্তরাষ্ট্রের যে নাগরিকেরা বাংলাদেশে অবস্থান করছে তাদের ফিরিয়ে নিতে ভাড়া করা উড়োজাহাজে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকাস্থ দূতাবাস। আসছে ৩০ মার্চ ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার তার বার্তায় বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯ এর সংক্রমণের কারনে আমরা সবাই অপ্রত্যাশিত সংকটের মুখোমুখি। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ মার্চ যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বের সকল দেশে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের অতি প্রয়োজন ছাড়া আর্ন্তজাতিক ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। এর পর থেকে ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাই কমিশনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব সচল বাণিজ্যিক ফ্লাইটের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে ফেরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষের হাত ধোয়ার অভ্যাস আছে বিবিএস পরিচালকের দাবি। এটি একটি গবেষণার তথ্যও। ২৫ শতাংশ মানুষের হাত ধোয়ার অভ্যাস নেই।

এ দেশের মেইনস্ট্রিম মিডিয়াও মাঝে মাঝে গুজবাবদ্ধ। বাংলাদেশের চিত্রনায়ক কাজী মারুফ এবং তার স্ত্রী দুজনই করোমা আক্রান্তা বলে প্রচার করা হয়। জাতীয় গণমাধ্যম গুলো একবারও প্রয়োজন মনে করেনি তার সাথে যোগাযোগ করাটা উচিত। কাজী মারুফ বিবৃতি দেন, তিনি করোনা রোগে আক্রান্ত নয় এবং তার স্ত্রীও নয়। কিন্তু দেশের এ ক্রান্তি কালে কিছু সংবাদ শিরোনাম জনমানসে সন্দেহ সৃষ্টি করতেই পারে,

বরিশালে সাড়ে ৭ ঘণ্টার ব্যবধানে করোনা ইউনিটে ২ জনের মৃত্যু!
– প্রথম আলো
করোনা সন্দেহে চিকিৎসা দেয়নি ৫ হাসপাতাল, ধুঁকে ধুঁকে যুবকের মৃত্যু!
– যুগান্তর
করোনা ইউনিটে ভর্তির পরপরই নারীর মৃত্যু!
– কালের কন্ঠ
বগুড়ার শিবগঞ্জ: রাতভর আকুতি, করোনা আতঙ্ক, অবশেষে মৃত্যু!
– কালের কন্ঠ
শ্বাসকষ্ট সহ করোনা সন্দেহে একই পরিবারের ৫ জন রংপুর মেডিকেলে ভর্তি!
– ডেইলি স্টার (বাংলা)
২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি: আইইডিসিআর!
– প্রথম আলো

সচেতন থাকুন; দিনমজুরের পাশে থাকুন; আমরা কাটিয়ে তুলবো এ সংকট ;আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •