শাহেদ মিজান, সিবিএন:

পুরো বিশ্বকে কাবু করে দিয়েছে করোনা ভাইরাস। এর প্রভাবে লকডাউন হয়ে আছে বাংলাদেশও। বাংলাদেশে প্রায় ছয় কোটি শ্রমজীবি ও নিম্ন আয়ের মানুষ রয়েছে। কক্সবাজারেও সমানুপাতিক হারে এই সংখ্যা রয়েছে। করোনায় লকডাউনের কারণে কাজ-কর্ম বন্ধ করে বাড়ি বন্দি রয়েছে এসব মানুষ। কয়েকদিন ধরে আয় বন্ধ থাকায় ইতোমধ্যে তাদের ঘরে অভাব হানা দিয়েছে! ফুরিয়ে গেছে চাল-ডালসহ নিত্যপণ্য। হাতে নেই টাকাও। এতে অভাবের এক মানবেতর দিন শুরু হয়ে এসব অসহায় মানুষগুলোর।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়ে তা দিয়ে এসব মানুষের প্রয়োজন মেটানো যাবে না। তাই কক্সবাজারের করোনায় আর্থিকভাবে ‘আক্রান্ত’ গরীব-অসহায় মানুষের সহায়তায় এক মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন কিছু মানবিক মানুষ। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইকবাল হোসাইনের নেতৃত্বে সিনিয়র সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ, সাংবাদিক জাহেদ সরওয়ার সোহেল, জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহামদ বাহাদুর, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক সোহেল,

সাংবাদিক ইমরুল কায়েস, সাংবাদিক সরওয়ার আজম মানিক, জেলা যুবলীগ নেতা কুতুব উদ্দীন ও এইএম নজরুল ইসলামসহ আরো কিছু মানুষ তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা গত এক সপ্তাহ ধরে নানাভাবে তহবিলে অর্থ সংগ্রহ করছেন। তহবিলে সহায়তা দিতে বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিনিয়ত প্রচার চালানো হচ্ছে। সুখবর হলো, এই আহ্বানে ব্যাপকভাবে সাড়া দিচ্ছে ‘মানবিক বিত্তবানরা’। প্রতিদিন বিভিন্ন স্তরের বিত্তবান মানুষ ‘করোনা সহায়তা তহবিল’ এ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।

‘করোনা সহায়তা তহবিল- কক্সবাজার’ এর অন্যতম সমন্বয়ক সাংবাদিক ইমরুল কায়েস জানান, তহবিল সংগ্রহের জন্য ফেসবুকে আহ্বান জানানো হলে অনেক বিত্তবান সাড়া দেয়। প্রথম দিন থেকে প্রতিদিন বিভিন্নজন বিভিন্ন অংকের অর্থ সহায়তা পাঠাচ্ছেন। ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানিকভাবে এসব সহায়তা দিচ্ছে। আজ সোমবার (২৯ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত আট লাখ টাকা তহবিলের জমা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইকবাল হোসাইন বলেন, ইতোমধ্যে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকার অসহায় মানুষদের তথ্য সংগ্রহ করে একটা তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আরো তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সে আলোকে অনেক পণ্যদ্রব্য ক্রয় করা হয়েছে এবং তা প্যাকেটজাত করা হয়েছে। আজ বিকালে কক্সবাজার শহরের ১নং ওয়ার্ডে বিতরণের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে তালিকা করা সবার ঘরে ঘরে সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •