মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে করোনা আইসোলেশন ইউনিট থেকে রেফার করা ৭৬ বছর বয়স্কা কক্সবাজারের প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগীকে এ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শনিবার ২৮ মার্চ বিকেল প্রায় সাড়ে ৫ টার দিকে উক্ত করোনা রোগীকে বহনকারী এ্যাম্বুলেন্সটি কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া কলেজ এরিয়া পার করেছেন বলে এ্যামবুলেন্সে থাকা রোগীর কন্যা সাফিয়া বেগম সিবিএন-কে জানিয়েছেন।

তিনি জানান, এর আগে
তার মায়ের স্বাস্থ্যের গুরতর অবনতি হওয়ায় তার মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাস্থ উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে রেফার করেন জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ ফেব্রুয়ারী সৌদী আরবে উমরাহ হজ্জ করতে যান উক্ত করোনা রোগী। গত ১৩ মার্চ মহিলাটি তার সন্তান সহ দেশে ফেরেন। পরে মহিলাটি গুরতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বিদেশ থেকে আসার বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রেখে তাকে ১৮ মার্চ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২২ মার্চ মহিলাটির চিকিৎসকেরা তার শরীরের স্যাম্পল সংগ্রহ করে টেস্টের জন্য ঢাকার আইইডিসিআর ল্যাবে পাঠিয়ে দেন। গত ২৪ মার্চ টেস্ট রিপোর্ট আসলে সেখানে তার শরীরে করোনা ভাইরাস জীবাণু ধরা পড়ে। পরে গত ৪ দিন যাবৎ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত মহিলাটিকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছিল। শনিবার সকালে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন।

এদিকে, করোনা আক্রান্ত উক্ত মহিলা রোগীর সন্তান এডভোকেট হেফাজতুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী নার্গিস জান্নাত এর শরীরের রক্ত সহ অন্যান্য স্যাম্পল টেস্ট করার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে। শনিবার ২৮ মার্চ দুপুরে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ২ জন অভিজ্ঞ ল্যাব টেকনিশিয়ান চকরিয়ার খুটাখালীতে গিয়ে তাঁরা ২ জনের স্যাম্পল সংগ্রহ করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সংগৃহীত স্যাম্পলে করোনা ভাইরাস জীবাণু আছে কিনা, তা পরীক্ষার জন্য ঢাকাস্থ আইইডিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

চকরিয়ার খুটাখালী নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারান্টাইনে থাকা সিনিয়র আইনজীবী ও করোনা রোগী মহিলার সন্তান এডভোকেট হেফাজতুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী নার্গিস জান্নাতের সর্দি, কাশি, জ্বর সহ করোনা ভাইরাসের বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়। এজন্য তাদের শরীরের স্যাম্পল কালেকশন করে টেস্টের জন্য শনিবার ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানান, কক্সবাজার স্বাস্থ্য বিভাগের একজন দায়িত্বশীল চিকিৎসক।

এদিকে, হোম কোয়ারান্টাইনে থাকা সিনিয়র আইনজীবী ও করোনা রোগী মহিলার সন্তান এডভোকেট হেফাজতুর রহমান তার মায়ের সুস্থতার জন্য মহান আল্লাহতায়লার অসীম রহমত ও সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •